প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের পারিতোষিক নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ
সাখাওয়াত হোসাইন: এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের পারিতোষিকের অর্থ আত্মসাৎ ও গড়মিল করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এফসিপিএস পার্ট-১ অধ্যয়নরত আছেন প্রায় দুই হাজার ৩০০ চিকিৎসক। এর মধ্যে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেক চিকিৎসককে মাসিক পারিতোষিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা করে ছয় মাসে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রাপ্য ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৫০০ চিকিৎসককে ছয় মাসে মাসিক পারিতোষিক ভাতা এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি চিকিৎসকদের দেওয়া হয়েছে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তবে তাদের কাছ থেকেও এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকার শিটে স্বাক্ষর স্বাক্ষর করানো হয়। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এসব চিকিৎসক পারিতোষিকের বাকি ৩০ হাজার টাকা পাননি।
আরও জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বাজেট পাঠায় বিসিপিএসের অর্থ বিভাগে। তবুও তাঁদের টাকা দেয়নি বিসিপিএস।
প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের অভিযোগ, জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে পারিতোষিকের পুরোপুরি শোধ করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাদেরকে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে পারিতোষিক দেওয়া হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে। কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও পারিতোষিকের বাকি ৩০ হাজার টাকা এখনও পায়নি চিকিৎসকরা।
তাঁদের আরও অভিযোগ, ৩০ হাজার টাকা বঞ্চিত চিকিৎসকরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিলে তাঁদেরকে দেওয়া হয় হুমকি ও নানা ভয়। এর মাধ্যমে বিসিপিএস কর্মকর্তারা হিসাবে গড়মিল ও তাদের পারিতোষিকের টাকা আত্মসাতের নানা কৌশল অবলম্বন করেন। সেইসঙ্গে নানা সংকট ও কষ্ট নিয়ে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের পারিতোষিক আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছেন কর্মকর্তারা।
প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা বলছেন, বিসিপিএসের অর্থ বিভাগ ও কর্মকর্তারা এই টাকা নয়-ছয় করে আত্মসাৎ করেছে। কেননা, এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া চিকিৎসকদেরকেও এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ভাতার শিটে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের জন্য পারিতোষিক হিসেবে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে বিসিপিএসকে দিয়েছে।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশিক্ষণার্থী এক চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি এখনও ট্রেইনিংয়ে আছি নানা রকম অর্থ সংকট নিয়ে। ২০২৩ সালের জুলাইতে ট্রেইনিংয়ে প্রবেশ করানো হয়েছে মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু দিয়েছে মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছে। ২০ হাজার করে দিবে জানলে কোর্সে প্রবেশ করতাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমিই একমাত্র পরিবারের আর্থিক সোর্স। বউ নিয়ে নিজেই ভালোভাবে চলতে পারছি না। সেই সঙ্গে বাবা-মাকেও কোনো আর্থিক সহযোগিতা করতে পারি না। খুবই সংকটের মধ্যে আছি।’
আরেক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে এসেছে, কিন্তু বিসিপিএস দিয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর বাকি টাকা বিসিপিএসের কর্মকর্তারা পরস্পরের যোগসাজশে আত্মসাৎ করেছে। আমাদেরকে ঠিকই এক লক্ষ ৫০ হাজার পারিতোষিকের শিটে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। বাকি ৩০ হাজার টাকা গেল কোথায়? আমরা কি সংকটের মধ্যে সময় পার করছি, ভাষায় বলে বোঝানো যাবে না। অবিলম্বে আমরা এই টাকা চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেইনিং চিকিৎসকরা ঠিক মতো সেবা প্রদান না করলে স্বাস্থ্যখাত ভেঙে পড়বে। যাদের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে স্বাস্থ্য সেবাখাত, তাঁদেরকে ঠিক মতো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।’
যা বলছে বিসিপিএস
জানতে চাইলে বিসিপিএস সচিব অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল মেডিভয়েসকে বলেন, ‘টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। গত কিছুদিন যাবৎ ইন্টারনেট সমস্যা ছিল। তাদের টাকা দিয়ে দেওয়া হবে, সবাই পেয়ে যাবে চিন্তা করার কিছু নেই।’
অর্থ আত্মসাৎ ও গড়মিল বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শিগরিরই সমাধান করা হচ্ছে। যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা তথ্যভিত্তিক হতে হবে। আত্মসাৎ করলে কেউ টাকা উঠিয়ে নিয়ে ভাগবে। এখানে আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই, আইবাস থেকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে। ইন্টারনেট না থাকার কারণে টাকা যায়নি।’
এসএইচ/এমইউ
-
০৭ জুন, ২০২৬
-
০৪ জুন, ২০২৬
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’