১৫ জুলাই, ২০২৪ ০৩:৪০ পিএম

তামাকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সাড়ে ৭ কোটির বেশি মানুষ

তামাকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সাড়ে ৭ কোটির বেশি মানুষ
‘২০৪০ সালে তামাকমুক্ত বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সভা। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে সাড়ে সাত কোটির বেশি মানুষ তামাকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পঙ্গুত্ব বরণ করছে তিন লাখ ৮২ হাজার মানুষ। আজ সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডরপ) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

‘২০৪০ সালে তামাকমুক্ত বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ধূমপানের নির্ধারিত স্থান বিলুপ্তি ও তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন বন্ধসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমএর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তামাক ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ নানাবিধ রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিদিন প্রায় ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে। আর এই অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার। তামাকের ভয়াবহতা থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষা করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ‘তামাকের পক্ষে কোন যুক্তি নেই। জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি এর ক্ষতির ভয়াবহতা বহুমূখী। তামাক থেকে যে ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকার রাজস্ব আসে তার থেকে তামাকজনিত রোগের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এখানেও ক্ষতির পরিমানই বেশি। এইসকল দিকগুলোকে নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের সামনে বেশি বেশি তুলে ধরতে হবে।’

এ সময় পরিষেবাতে বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারণ চুক্তি গ্যাটসের ২০১৭ সালের তথ্য তুলে ধরে আলোচকরা বলেন, দেশে ধূমপানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তামাকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাত কোটি ৬২ লাখ মানুষ। এর মাঝে প্রত্যক্ষ তামাক ব্যবহার করে দেশের ৩৫ দশমিক তিন শতাংশ বা তিন কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। আর পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় তিন কোটি ৮৪ লাখ মানুষ। তামাকের ব্যবহারে পঙ্গুত্ববরণ করে তিন লাখ ৮২ হাজার মানুষ।

সভায় বলা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান আটটি কারণের ছয়টির সাথেই তামাক জড়িত। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারকারীদের তামাকজনিত রোগ যেমন ফুসফুসে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ৫৭ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া তামাকজনিত অন্যান্য ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ১০৯ শতাংশের বেশি।

টোব্যাকো অ্যাটলাসের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর এক লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। অর্থাৎ প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৮ সালের তথ্য মতে, বছরে মোট মৃত্যুর ১৯ শতাংশ তামাকের কারণে হয়ে থাকে।

এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ব্যয়ের পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, অথচ একই সময়ে তামাকখাত থেকে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাবদ অর্জিত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ মাত্র ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ নীট ব্যয় প্রায় আট হাজার কোটি টাকা।

এ সময় তামাকের গ্রাস থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে আয়োজকরা ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন।

সেগুলো হলো—ধূমপানের নির্ধারিত এলাকা বিলুপ্ত করা, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন বন্ধ করা, তামাক কোম্পানির সিএসআর বন্ধ করা, খুচরা শলাকা ও তামাকদ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারট বা এইচটিপি নিষিদ্ধ করা এবং প্যাকেটে বা কৌটায় সচিত্র সতর্কবার্তার আকার ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডরপের উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সভাপতি ও সাবেক সচিব ড. মো. ইব্রাহীম হোসেন খান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) লীড পলিসি অ্যাডভাইজার ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিটিএফকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া প্রমুখ।

এনএআর/এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক