দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর ৪০ শতাংশই বায়ু দূষণে: ইউনিসেফ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মানবস্বাস্থ্যে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণে পাঁচ বছরের কম বয়সী যত শিশুর মৃত্যু হয়, তার ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী বায়ু দূষণ।
শুধু ২০২১ সালেই বাংলাদেশে ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে বায়ু দূষণে। এর মধ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি রয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
দ্য স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের (এসওজিএ) প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুঝুঁকির দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বায়ু দূষণ। যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
গত বুধবার (১৯ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, বায়ু দূষণের কারণে ২০২১ সালে বিশ্ব্যব্যাপী ৮.১ মিলিয়ন (৮১ লক্ষ) মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগে ভুগছেন, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং সমাজের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।
এতে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম শিশুরা বায়ুদূষণজনিত নানা রোগে বেশি শিকার হয়ে থাকে। এর প্রভাবে অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ, অ্যাজমা এবং ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়। ২০২১ সালে বায়ু দূষণ সম্পর্কিত কারণে বিশ্বব্যাপী পাঁচ বছরের কম বয়সী সাত লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। সারা বিশ্বে এই বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ‘অপুষ্টির’ পরই ‘বায়ু দূষণ’ দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মারা যাওয়া এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়েছে আফ্রিকা ও এশিয়ায় বিভিন্ন দেশে; দূষিত জ্বালানি ব্যবহার করে ঘরের ভেতরে রান্না করাই ছিল এই বায়ুদূষণের কারণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ওজোন গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে, যা বায়ু দূষণজনিত রোগের অন্যতম কারণ। ২০২১ সালে, বিশ্বব্যাপী ওজোন-সম্পর্কিত ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিসঅর্ডার (সিওপিডি) জনিত মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক (৫০ শতাংশ) ঘটেছে, ভারতে (২ লাখ ৩৭ হাজার মৃত্যু), চীনে (১ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ মৃত্যু) এবং বাংলাদেশে (১৫ হাজার মৃত্যু)।
শিশুর স্বাস্থ্যের উপর বায়ুদূষণের ভয়াবহ প্রভাব বেশ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। বায়ুদূষণের ফলে শিশুদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হতে দেখা যায়; বায়ু দূষণের ক্ষতিকর এই প্রভাব, শিশু মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই শুরু হয়ে সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুরা তাদের শরীরের ওজনের অনুপাতে বেশি বাতাস শ্বাস নেবার সময় গ্রহণ করে; দূষিত বায়ুর সাথে তারা দূষিত সব উপাদানও গ্রহণ করে থাকে; যার মারাত্মক প্রভাব পরে তাদের বিকাশমান ফুসফুস, শরীর ও মস্তিষ্কের উপর।
বায়ুদূষণজনিত এই রোগগুলোর প্রভাব ও প্রাদুর্ভাব কিন্তু বিশ্বব্যাপী সমান নয়। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বজুড়ে মানুষের ইসকেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে বায়ুদূষণের অবদান গড়ে ২৮ শতাংশ হলেও ফিনল্যান্ড, নরেওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এর হার ১০ শতাংশের; অন্যদিকে পূর্ব, পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর হার (যেমন নাইজেরিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা ও বাংলাদেশ) ৪০ শতাংশের বেশি।
এসওজিএ প্রতিবেদনটিতে, বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং এই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে দেশগুলো যখন জনস্বাস্থ্য বিষয়ক নীতিমালাকে আরও উন্নত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ তার জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বায়ুদূষণ মোকাবিলায় একটি বড় চ্যালেঞ্জের সামনে রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের রিপ্রেজেনটেটিভ শেলডন ইয়েট বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিম্ন মানের বাতাসের ক্ষতিকর প্রভাব শিশুদের ওপরই বেশি দেখা যায়।’
তিনি বলেন, ‘এর প্রভাবে তারা (শিশুরা) হাঁপানি ও নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হয়। শুধু আজকে আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বাতাসের গুণগত মান উন্নত করতে টেকসই সমাধান বাস্তবায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।’
এনএআর/
-
২৩ মে, ২০২৬
শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ
অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে: ইউনিসেফ
-
১১ মে, ২০২৬
-
০৯ মার্চ, ২০২৬
-
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
০২ জুলাই, ২০২৫
আইসিডিডিআর,বির গবেষণা
শিশুদের অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় আলো দেখাচ্ছে পেডিয়াট্রিক এনসিডি মডেল