সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে প্রথমবারের মতো চোয়াল প্রতিস্থাপন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোয়াল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক কিশোরের পায়ের হাড় দিয়ে পুরো চোয়ালের প্রতিস্থাপন করা হয়। ওই কিশোরের নাম মো. হারুন। তিনি এখন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জানা গেছে, জন্মের তিন মাসের মধ্যে ধরা পড়ে হারুন আর দশটা শিশুর মতো স্বাভাবিক নয়। সেই থেকে যুদ্ধটা শুরু পরিবারের। কয়েক বছর পর লড়াইটা আরও কঠিন করে তোলে হারুনের মুখের টিউমার। হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি হারুনের অস্ত্রোপচারের অনুমতি। অটিস্টিক বলে ছুরি-কাঁচির নিচে নিতে সাহস করেননি অনেক চিকিৎসক।
এদিকে, দিনে দিনে টিউমার ছড়িয়ে পড়ে তার মুখের নিচের চোয়ালের পুরোটা জুড়ে। চার দফা অপারেশনের তারিখ পেয়েও তা ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) গড়ায়নি। তাই যে কোনো শর্তেই অপারেশনে রাজি ছিল হারুনের পরিবার।
চিকিৎসকদের অনেক আকুতি-মিনতি করেন হারুনের বাবা। চিকিৎসকদের রাজি করাতে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অটিজমের কারণে ডাক্তাররা অপারেশন করাতে সাহস করছিলেন না। তখন আমি বলেছি অপারেশন করেন। ছেলে যদি বেঁচে থাকে আলহামদুলিল্লাহ, মরে গেলেও আলহামদুলিল্লাহ। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। পরে অপারেশনের প্রস্তুতি শুরু হয়।’
অপারেশনে নেতৃত্ব দেওয়া সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. নিতীশ কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘অটিস্টিক পেশেন্টের এমন অপারেশন খুবই জটিল। আর যদি তা হয় চোয়ালের অপারেশন তাহলে জটিলতা আরও বাড়ে। চোয়ালে লাগানোর জন্য হারুনের যে পায়ের হাড়টা নেওয়া হয়, সেই পায়ের রক্তনালিটাও নিই। পরে তা পেশেন্টের চোয়ালে শেপে আনতে টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর রক্তনালির জোড়া দিয়েছি। জটিল এ অপারেশনটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে তা শেষ হওয়ায় ভালো লাগছে। পেশেন্টকে এখন নরম খাবার খেতে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হলে তার মাড়িতে কৃত্রিম দাঁত সংযোজন কররা হবে।’
জানা গেছে, ২০১২ সালে দেশে প্রথমবারের মতো চোয়াল প্রতিস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক দল। পরে ২০১৩ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে চোয়াল প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর এই চিকিৎসা পদ্ধতির ছোঁয়া পায় বিভাগীয় শহরও। ২০১৬ সাল থেকে রংপুরে নিয়মিত চোয়াল প্রতিস্থাপন হচ্ছে।