১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১১:৫৩ এএম
এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ

উত্তরপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ শিক্ষার্থীর, তদন্তে কমিটি

উত্তরপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ শিক্ষার্থীর, তদন্তে কমিটি
ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার সময় রাজধানীর একটি কেন্দ্রে এক পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে নিজের উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন এক নারী শিক্ষার্থী। হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া নামের ওই শিক্ষার্থী রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের শেখ কামাল ভবনের ৮তলায় পরীক্ষা দেন। তার অভিযোগ, পাশের শিক্ষার্থীর অসদুপায় অবলম্বনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকার পরও তার উত্তরপত্র ছিড়ে ফেলা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

হুমাইরা ইসলাম ছোঁয়া অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিট পর তার পাশের একজন হিজাব পরা শিক্ষার্থী থেকে হলের দায়িত্বরত নারী পর্যবেক্ষক কানে থাকা ডিভাইস উদ্ধার করেন। এ সময় কানে ডিভাইস রাখা মেয়ের সঙ্গে পাশের দুই শিক্ষার্থী হুমাইরা ইসলাম ও আরেকজনের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেন। এ সময় তিনি তাদের সবার উত্তরপত্র ছিঁড়ে ফেলেন।

কিন্তু ডিভাইস উদ্ধার করা শিক্ষার্থীর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত অন্য দুইজনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় পরীক্ষা শেষ হবার ৫ মিনিট আগে হুমাইরা ও তার পাশের আরেকজন মেয়েকে নতুন প্রশ্ন ও ওএমআর শিট প্রদান করেন ওই পর্যবেক্ষক।

দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসা হুমাইরা ইসলামের দাবি, ৪০ মিনিটে তিনি ৭৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলেছিলেন, যার মধ্যে ৭০টি উত্তর নিশ্চিত সঠিক ছিল।

বিনা দোষে তার উত্তরপত্র ছিড়ে ফেলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে অবৈধ ডিভাইস পাওয়া গেলেও তার উত্তরপত্রের ছিঁড়তে পারেন পর্যবেক্ষক?

সুষ্ঠু তদন্তে পর্যবেক্ষকের বিচার দাবি

আশৈশব ডাক্তার হবার স্বপ্নের বিভোর হুমাইরা ইসলামের প্রশ্ন, যার কাছে ডিভাইস পাওয়া গেল, হল সুপারকে জানিয়ে সেই মেয়েকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হলো না কেন? কেন তার স্বপ্ন ছিনতাই করা হলো, তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তায় ঠেলে দেওয়া হলো?

হুমাইরা বলেন, একজনের অপরাধে অন্য দুইজনের উত্তরপত্র ফরম ছিঁড়ে ফেলা নিরাপরাধকে শাস্তি দেওয়ার শামিল। সেই হলে যারা পরীক্ষা দিয়েছে, নিশ্চয়ই ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া যাবে। সিসিটিভি সেই হলে থাকলে সেখানেও প্রমাণ পাওয়া যাবে।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সেই হলের দায়িত্বরত পর্যবেক্ষককে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।

ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি

এদিকে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় নিরাপরাধ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) ছেঁড়ার অভিযোগ তদন্তে কমিটি করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে চার সদস্যের ওই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর মেডিভয়েসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভর্তি কমিটির নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ চলমান আছেন। উত্তরপত্র ছেঁড়ার ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষককে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখছেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে ওই নারী শিক্ষার্থীকে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনের আগে কিছুই বলা যাবে না। সবই নির্ভর করছে রিপোর্টের ওপর।’

তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে রোববার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক কাজী আফজালুর রহমানকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এর সদস্যসচিব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আলম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামাল হোসেন।

এর আগে রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে চলে যাওয়ার সময় একজন পরীক্ষার্থী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পথ আগলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, ৯ ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার সময় ওই পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন পরীক্ষা কেন্দ্রের একজন পর্যবেক্ষক।

ওই সময় অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর আত্মীয়-স্বজনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞার কাছে একটি অভিযোগপত্র দিয়ে দেন ওই শিক্ষার্থী।

এতে বলা হয়, রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে (শেখ কামাল ভবন, অষ্টম তলা) যথাসময়ের পরীক্ষায় অংশ নেন হুমাইরা ইসলাম। পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বনের সন্দেহে একজন পর্যবেক্ষক ওই শিক্ষার্থীসহ তিনজনের ওএমআর শিট ছিঁড়ে ফেলেন। পরে পর্যবেক্ষক তাঁর ভুল বুঝতে পারেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে নতুন ওএমআর শিট দেন। তবে তখন পরীক্ষা শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি ছিল। বারবার অনুরোধ করার পরও পরীক্ষা পর্যবেক্ষক তাঁদের জন্য পরীক্ষার সময় বাড়াননি।

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত