০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ০৯:৪৩ এএম

চিকিৎসক হওয়ার মেধাযুদ্ধে ১০৪৩৭৪ শিক্ষার্থী

চিকিৎসক হওয়ার মেধাযুদ্ধে ১০৪৩৭৪ শিক্ষার্থী
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাহেদুজ্জামান সাকিব

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। স্বাস্থ্য সেবায় যুক্ত হওয়ার তীব্র বাসনা থেকে এবারের মেধাযুদ্ধে বসেছেন এক লাখ চার হাজার ৩৭৪ শিক্ষার্থী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতবারের চেয়ে এবার সরকারি মেডিকেল কলেজে এক হাজার ৩০টি আসন বাড়ানো হলেও আবেদন কিছু কম পড়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ২০২৩-২৪ সেশনে মোট আসন রয়েছে পাঁচ হাজার ৩৮০টি। সে হিসাবে আসনপ্রতি লড়বে প্রায় ১৯ জন পরীক্ষার্থী। আর বেসরকারি মেডিকেলে আসন রয়েছে ছয় হাজার ১৬৮টি। সব মিলিয়ে ১১ হাজার ৫৪৮টি আসনের জন্য ভর্তিযুদ্ধে লিপ্ত হবে শিক্ষার্থীরা। সেক্ষেত্রে আসনপ্রতি পরীক্ষায় বসেন প্রায় নয়জন।

প্রশ্ন ফাঁস রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে এক মাস আগে থেকে অনলাইন ও অফলাইনের সকল কোচিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শতভাগ প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত নিশ্চিত করার জন্য প্রশ্ন বহনকারী বক্সে থাকবে ডিভাইস, যা নিদিষ্ট সময়ে আগে খোলা যাবে না। এ ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পরীক্ষা নিয়ে গুজব ছড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পরীক্ষার দিনে শিক্ষার্থীদের করণীয়

► ৯ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার কেন্দ্র/ভেন্যুর গেট খোলা হবে সকাল আটটায়। পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৯টার পর কোনো পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না।

► পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট কপি নিয়ে আসতে হবে।

► কেন্দ্র/ভেন্যুতে পরীক্ষার্থীদের (ছেলে ও মেয়ে) পৃথক পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র ও বলপয়েন্ট কলম ব্যতীত অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাতে প্রবেশ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি আর্চওয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের বিষয়টি তদারক করা হবে।

► ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র/ভেন্যুতে সকাল আটটা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে ইনভিজিলেটর (কক্ষ পরিদর্শক) সকাল আটটা থেকে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষে অবস্থান করে প্রবেশপত্রে পরীক্ষার্থীর ছবির জলছাপ ও রঙিন ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা মিলিয়ে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

► পরীক্ষার্থী, ইনভিজিলেটর, ভেন্যুর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কোনোভাবেই মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্লুটুথ, এয়ারফোন ইত্যাদি বহন করবেন না।

► ভর্তি পরীক্ষার হলে ভর্তি পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত কেউ মুঠোফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

► ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র/ভেন্যুতে ভর্তি পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না।

► গত ১০ জানুয়ারি থেকে মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধের নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অফলাইন কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন কোচিং বন্ধ ও সাইবার অপরাধ রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। 

► পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর আশপাশের ফটোকপির মেশিন বন্ধ থাকবে। পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো প্রকার অসদাচরণ/প্রতারণা/গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করা গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে মেডিকেল কলেজগুলোয় এ বছর এমবিবিএসে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ ছিল ২৩ জানুয়ারি। ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে ২৪ জানুয়ারি রাত ১২ পর্যন্ত।

ভর্তি পরীক্ষা যত নম্বরের

লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় ১০০টি প্রশ্নের প্রতিটি ১ নম্বর করে মোট (এইচএসসি বা সমমান সিলেবাস অনুযায়ী) ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়ভিত্তিক বিভাজন পদার্থবিদ্যা ২০, রসায়নবিদ্যা ২৫, জীববিজ্ঞান ৩০, ইংরেজি ১৫ ও সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ) ১০ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী ৪০ নম্বরের কম পেলে অকৃতকার্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, তিনি ভর্তির জন্য অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবেন।

ভর্তিপ্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন

ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জানাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমবিবিএস ভর্তিপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভর্তিপ্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজে বিগত কয়েক বছর অনলাইনে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছে এবং একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি মেডিকেল কলেজের ধারাবাহিকতায় ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তিপ্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিপ্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অনলাইন প্রক্রিয়ায় শুরু হওয়ায় প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হয়রানি, অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পথ বন্ধ হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

মেডিকেল কলেজ পরিচালনায় কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব মেডিকেল কলেজে শিক্ষক নেই, সেখানকার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আমরা কোয়ালিটি ডাক্তার তৈরি করবো। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আইন পাস হয়েছে। অতীতে আইনের ব্যত্যয় ঘটতে পারে। তবে নতুন মন্ত্রীর আওতায় আমরা কঠোরভাবে অনিয়মগুলো দেখবো।’

ভর্তির অনুপযোগী মেডিকেলসমূহ

ছয়টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজগুলো হলো—উত্তরা আইচি মেডিকেল কলেজ, নর্দান মেডিকেল (ঢাকা), নর্দান মেডিকেল (রাজশাহী), শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজ (ঢাকা), কেয়ার মেডিকেল কলেজ এবং সাভার ও নাইটেঙ্গেল মেডিকেল কলেজ। এগুলোর মধ্যে কেয়ার মেডিকেল কলেজ এবং সাভার ও নাইটেঙ্গেল মেডিকেল কলেজের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করার জন্য উপযুক্ত না বলে সাফ জানিয়ে দেন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জানুয়ারি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার অনলাইন আবেদন শুরু হয়, যা গত ২৩ জানুয়ারি শেষ হয়। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৪ জানুয়ারি রাত ১২ পর্যন্ত।

প্রবেশপত্র ডাউনলোড কার্যক্রম চলে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আজ সকাল ১০টায় ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে, শেষ হবে বেলা ১১টায়। লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম পেলে অকৃতকার্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম পেলে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

গত বছর এক লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ জন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছিল। সরকারি মেডিকেলের প্রতি আসনের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিল ৩২ জন, আর সরকারি-বেসরকারি মিলে প্রতি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ১৬ জন।

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা
বিএমইউতে এনডিএফের ‘সীরাহ কনফারেন্স’

চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে রাসূলের জীবনাদর্শ ধারণের আহ্বান

বিএমইউতে এনডিএফের ‘সীরাহ কনফারেন্স’

চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে রাসূলের জীবনাদর্শ ধারণের আহ্বান

মেডিভয়েস নিউজ রুম অনুষ্ঠানে পেশাজীবী নেতাদের মত

চিকিৎসকের নিরাপত্তায় নিহিত কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক