মেডিকেলে ভর্তি: মুক্তিযোদ্ধা কোটা মানার নির্দেশ হাইকোর্টের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫% মুক্তিযোদ্ধা কোটা কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সাথে একটি রুলও জারি করেন উচ্চআদালত।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসীর উদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আযাদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আনিচ উল মাওয়া আরজু।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রিটের আগে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছে মেডিকেল শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া না দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন অহিদুল ইসলাম। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত আজ এ আদেশ দেন।
গত ২৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোটা বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হলে, সেসব আসনে সাধারণ শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে অধ্যয়নরত যেসব শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে, তাদের ১০ নম্বর কেটে নেওয়া হবে।
পর দিন ২৫ ডিসেম্বর সকালে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল মেডিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘গতকাল ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত সভায় অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে জেলা কোটা বাতিল করা হয়েছে। গতবছর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বেশ কিছু আসন ফাঁকা থেকে গেছে। এবার আমরা সেসব আসন কীভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করেছি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও পরামর্শ করেছি। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নির্ধারিত সময়ে আসন পূরণ করা না গেলে, সেসব আসনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।’
দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মেডিকেলে ভর্তি থেকেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়। পরবর্তীতে ভালো কোথাও ভর্তির সুযোগ পেলে তাঁর পূর্বের আসনটি নষ্ট হয়ে যায়। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হয়। আমরা এবার এ বিষয়ে কঠোরতার জন্য সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি থাকা দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের ১৫ নম্বর কাটার পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে সবার পরার্শক্রমে ১০ নম্বর কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় নিরুৎসাহিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি নেই, এমন শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে পূর্বের মতো ৫ নম্বর কাটা যাবে বলেও জানান অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল।
জানা গেছে, মেডিকেলের মোট আসনের ২০ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকে জেলা কোটায় আবেদন করা শিক্ষার্থীদের জন্য। এই কোটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জেলা কোটায় প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। গড়ে প্রতিটি জেলা থেকে প্রায় ১২ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এই সুযোগ পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।
গত ২৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত এক সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে, যেটা আগেও ছিল। তবে এবারে মাইগ্রেশনের সুযোগ তিনবার রাখা হয়েছে। সব কলেজে একবারে চয়েস দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে।’
এএনএম/
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৬ জুন, ২০২৫
-
১৭ মে, ২০২৫
-
২৪ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
জাতীয় মেধায় দ্বিতীয়
ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু ও মায়ের ইচ্ছাতে মেডিকেলে সানজিদ সিরাজ
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
কাগজপত্র যাচাই ২৯ জানুয়ারি
কোটায় সুযোগ পাওয়া ১৯৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়