২৫ জানুয়ারী, ২০২৪ ০১:০০ পিএম

কুমিল্লা নার্সিং কলেজে হিজাব কাণ্ড: অনুতপ্ত শিক্ষিকা মিরন নাহার

কুমিল্লা নার্সিং কলেজে হিজাব কাণ্ড: অনুতপ্ত শিক্ষিকা মিরন নাহার
গত ২১ জানুয়ারি কুমিল্লা নার্সিং কলেজের ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর হিজাব কেটে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস  রিপোর্ট: কুমিল্লার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীর হিজাব কেটে দেয়ার ঘটনায় অনুতপ্ত কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মিরন নাহার। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে এজন্য গভীর অনুশোচনা করেছেন। একই সঙ্গে অনাকাঙিক্ষত এ ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ যারা কষ্ট পেয়েছেন, সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে মেডিভয়েসকে মুঠোফোনে এসব কথা বলেন তিনি। 

মিরন নাহার বলেন, ‘একজন মুসলিম হিসেবে অবশ্যই আমার এটি করা ঠিক হয়নি। আমি অনুতপ্ত। শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মের মধ্যে আনতে আমি এটি করেছিলাম। তবে হিজাব কেটে দেওয়া উচিত হয়নি। আমি আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চাই।’

এই আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘যা হয়েছে ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এমন হবে না। সন্তান ভুল করলে বাবা-মা যেমন তাদের ক্ষমা করে দেন, বাবা-মা ভুল করলেও সন্তানরা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে নেয়। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ যারা কষ্ট পেয়েছেন, একজন শিক্ষক হিসেবে বলবো, আমার ভুলটি যেন তারা মনে না রাখেন, যেন হৃদয় থেকে মুছে দেন।’

এ ঘটনায় কিছুটা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মিরন নাহার বলেন, ‘আগে থেকেই আমার হার্টের সমস্যা আছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সামনে অনুশোচনার এই কথাগুলো বলে সৃষ্ট মানসিক অস্থিরতা থেকে হালকা হতে চাই।’

মিরন নাহার বলেন, ‘মায়েরও ভুল হয়, বাবারও ভুল হয়। আমি শিক্ষক, তাদের বাবা-মায়ের জায়গায় আমার অবস্থান।’

গত ২১ জানুয়ারি কুমিল্লা নার্সিং কলেজের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীর হিজাব কেটে দেন শিক্ষিকা মিরন নাহার। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে হিজাব ছোট করে পড়ার কথা বললে দ্বিমত পোষণ করেন তারা। তাদের অভিযোগ, কোনো কথার তোয়াক্কা না করে ওই শিক্ষিকা বারবার হিজাব কাটার কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন হুমকি দেন।

এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, ‘এভাবে যদি আমাদের হিজাব কেটে পড়তে বলা হয়, বা কেটে ফেলা হয় তাহলে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? ক্যাম্পাসে আমাদের শালীনতা কীভাবে আমরা বজায় রাখবো?’

আরেক শিক্ষার্থী মৌরী রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ এবং তৃতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদেরকে বেল্ট দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। তাই আমরা মেয়েরা যারা হিজাব বড় করে পড়ি তাদের বেল্ট দেখা যায় না। তাই আমাদের হিজাব কেটে দেয়া হয়েছে। আমি বলব বেল্ট দ্বারাই কেন চিহ্নিত করতে হবে, অন্য কোন উপায়েও তো এটা করা যায়। আমি আমাদের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা চাই। মেয়েরা যাতে শালীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এটা চাই।’

এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। দিনভর তাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে কলেজ ক্যাম্পাস।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন নার্সিং সংগঠন। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা স্টুডেন্ট নার্সেস ঘঠনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়।

সংগঠনের সভাপতি এ বি শক্তি  ও মহাসচিব  কুদরত-ই-খুদা আসিফ স্বাক্ষতির ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, কুমিল্লা নার্সিং কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর জনাব, মিরন নাহার গত ২১ জানুয়ারী ২০২৪ ইং উক্ত কলেজের ২য় বর্ষের ২ (দুই) জন শিক্ষার্থীর হিজাব কেটে দেয়, এবং গত ২২ জানুয়ারী ২০২৪ ইং আবারো ১ম বর্ষের ১ (এক) জন শিক্ষার্থীর হিজাব কেটে দেয়, যা বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থি এবং ইসলামে ধর্মের ধর্মীয় বিধান পরিপন্থি। উক্ত ঘঠনার পর সকল নার্সিং শিক্ষার্থী এবং অবিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। হিজাব তথা পোশাক একজন নারির সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার এবং হিজাব ইসলামে নারির জন্য একটি ফরজ বিধান। মাহমান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান কোন নারিকে হিজাব পরিধানে বাধা প্রদান করতে পারে না। তাই একটি ধর্মীয় ফরজ পালনে বাধা, সাংবিধানিক অধিকার পরিপন্থি এবং মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের হিজাব কেটে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ডিপ্লোমা স্টুডেন্ট নার্সেস' ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ এর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি অভিযুক্ত নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর জনাব, মিরন নাহার কর্তৃক সংগঠিত নেক্কারজনক ঘঠনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।’

এ ঘটনায় পদক্ষেপ জানতে চাইলে কুমিল্লা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ আকবরী খানম আজ দুপুরে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘কাজটি যে ভুল হয়েছে তা শিক্ষক মিরন নাহার উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এই কথাগুলো তিনি শিক্ষার্থীদের সামনেও বলেছেন। এ বিষয়ে আমরা আমাদের অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তার অপেক্ষায় আছি।’

এএনএম/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত