ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


২১ জানুয়ারী, ২০২৪ ০৯:৫৯ এএম

এবসেন্স সিজার রহস্যময় মস্তিষ্কের রোগ

এবসেন্স সিজার রহস্যময় মস্তিষ্কের রোগ
প্রতীকী ছবি

ময়নাকে (ছদ্মনাম) নিয়ে সাইকিয়াট্রিস্টের চেম্বারে এসেছেন আম্মু। ময়না হঠাৎ হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে যায়। চোখগুলো কেমন স্থীর স্থীর লাগে। মনে হয় সে কিছু বুঝতে পারছে না বা দেখতে পারছে না। কোথায় কোন অচীন জগতে সে হারিয়ে যায়। আবার দ্রুত ঠিক ফিরে আসে। 

ময়নার স্কুলের মিসরাও বলছেন, সে ক্লাসে শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে যায়। কোথায় যেন হারিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে। এ সময় ময়না কিছুই হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না। পুরো ব্যাপারটা ঘটে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের। ময়না ইদানীং স্কুলে খুব খারাপ করছে।

ময়নার আম্মু ময়নাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত। ময়নার কি হয়েছে?

ময়না এবসেন্স সিজারে (Absence Seizures) আক্রান্ত। এটি বেশ রহস্যময়। না দেখলে এটি যে মস্তিষ্কের একটি রোগ তা কেউ বুঝবে না। এ ধরনের রোগীদের অনেকে তাবীজ, ঝাড়ফুঁক করেন।

এবসেন্স সিজার কি?

এবসেন্স সিজার (Absence Seizures) এক ধরনের মৃগী রোগ। 

সাধারণত মৃগী রোগ বা এপিলেপ্সিতে (Epilepsy) রোগীর হাত, পা, শরীর হঠাৎ কাঁপতে শুরু করে। রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়, জিহ্বায় কামড় পড়ে, হয়তো প্রস্রাব বের হয়ে আসে৷ এরপর রোগী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। পুরো ব্যাপারটা মাত্র কয়েজ মিনিটের জন্যে হয়ে থাকে।

কিন্তু এবসেন্স সিজার এ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ রোগে শিশুটি খুব অল্প সময়ের জন্যে এবসেন্স বা অন্য মনষ্ক হয়ে যায়। ৩/৪ সেকেন্ডের জন্যে। তার চোখটা কেমন যেন মনে হয় একটু অসাড়। মনে হয় ক্ষণিকের তরে তার চোখটা হারিয়ে যায় অচেনা কোনো ভাবনার জগতে।

দিনের মধ্যে অনবরত, কয়েকবার থেমে থেমে এবসেন্স সিজার হতে পারে। এবসেন্স সিজার হলে শিশু বুঝতে পারে না তাকে কি বলা হচ্ছিল, তার সাথে কি আলাপ হচ্ছিল বা তাকে কি ইন্সট্রাকশন দেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ সে বলবে, 'বুঝিনি আবার বলুন', 'শুনিনি আবার বলুন', বা প্লিজ আবার বলুন', অথবা কিছু জিজ্ঞেস করলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকবে। 

আর শিক্ষক বা অভিভাবক বা প্রত্যক্ষদর্শী বলবেন, 'শিশুটি হঠাৎ-হঠাৎ, ক্ষণে-ক্ষণে, বা বারবার অন্যমনস্ক হয়ে যায়।’

এ রোগের প্রথম উপসর্গ তা স্কুল পারফরম্যান্স খারাপ হতে থাকে ধীরে ধীরে। কারণ ৪০ মিনিটের একটি ক্লাসে একটি শিশু যদি অনবরত কিছু সময় পর পর ৩/৪ সেকেন্ডের জন্যে অন্যমনস্ক হয়, তাহলে তো সে তার স্যারের লেকচারটির কিছুও বুঝতে পারবেন না। এজন্যই তার স্কুল পারফরম্যান্স খারাপ হতে থাকে।

ডায়াগনোসিস

ইলেক্ট্রো এনসেফালো গ্রাম (ইইজি) পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ নিশ্চিত হওয়া যায়।

চিকিৎসা

এর চিকিৎসায় ইথোসাক্সামাইড (Ethosuxamide) নামের ওষুধটি খুবই কার্যকর। দীর্ঘ মেয়াদে এ ওষুধ সেবনে রোগী সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ হয়ে যায়।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বিভিন্ন মেডিকেলের

বর্ধিত ভাতা পাচ্ছেন ৭ বেসরকারি মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত