২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০১:৩৪ পিএম

১৬ বছর নিউরো মেডিসিনের চিকিৎসা, চট্টগ্রামে প্রতারকের ২ মাসের সাজা

১৬ বছর নিউরো মেডিসিনের চিকিৎসা, চট্টগ্রামে প্রতারকের ২ মাসের সাজা
স্ট্রোক আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় খোরশেদ আলমকে হাতেনাতে আটক করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মহিউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসা দেওয়ার অপরাধে মোহাম্মদ খোরশেদ আলম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১৬ বছর ধরে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে চকবাজার থানাধীন প্যারেড কর্নারের এক আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা যায়, স্ট্রোক আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় খোরশেদ আলমকে হাতেনাতে আটক করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মহিউদ্দিন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ভুয়া চিকিৎসককে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মহিউদ্দিন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘২০০৭ সালে সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে দেখতে পাই, সেখানে খোরশেদ আলম নামের এক চিকিৎসক প্র্যাক্টিস করছেন। যার প্রেসক্রিপশনে এফআরসিপিএস ডিগ্রি লেখা এবং ব্রাকেটে কোর্স লেখা। তখন আমার সন্দেহ হয়েছিলো। এজন্য তাকে সার্টিফিকেট নিয়ে অফিসে আসার নোটিস দিয়েছিলাম, সে উপস্থিত না হয়ে ওখান থেকে পালিয়ে যায়। ২০১১  ও ১২ সালে এ প্রতারক নিউরোলজির সহকারী অধ্যাপক পরিচয়ে হাটহাজারিতে প্র্যাক্টিস শুরু করে। তখন তাকে ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করি, টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে ধরার জন্য খুঁজতে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘আমার এক বন্ধু নিউরো সার্জারির অধ্যাপক। কয়েকদিন আগে তার কাছে একজন রোগী খোরশেদ আলমের প্রেসক্রিপশন নিয়ে আসেন। প্রেসক্রিপশন দেখে সন্দেহ হলে আমার বন্ধু হোয়াটসঅ্যাপে প্রেসক্রিপশনটি পাঠায়। আমি দেখে চিনতে পেরেছি, যে এই সে ভুয়া চিকিৎসক। যাকে আমি খুঁজতেছি, তার ওপর নজরধারী শুরু করি। সর্বশেষ গতকাল আমরা খবর পাই সে চকবাজার একটি বাসায় অনকলে ভিজিটে আসতেছে। এ সময় জরুরি অভিয়ান চালিয়ে তাকে আটক করি।’

তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তাকে ধরতে আমরা একাধিক স্থানে যাই। কিন্তু আমাদের আসার আগেই সে পালিয়ে যেতো। আটক খোরশেধ আলম প্রকৃতপক্ষে কোনো নিবন্ধিত কিংবা রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত চিকিৎসক নন। অথচ এমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (নিউরোলজি), ফেলো ইটারনেশনাল নিউরোলজি- এসব ডিগ্রি উল্লেখ করে ব্যবস্থাপত্রের প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবার নামে ২০০৭ সাল থেকে প্রতারণা করে আসছেন।

ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে জানিয়ে ডা. মহিউদ্দিন বলেন,  ভুয়া চিকিৎসকের কোনো ছাড় নেই। চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসকদের ধরতে নিয়মিত তদারকি করছি, অভিযান পরিচালনা করছি। চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। তাহলে এ সমস্যা সমাধান করা সহজ হবে।

১৬ বছরের অপরাধের তুলনায় সাজা পর্যাপ্ত কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সাজা আরও বেশি হওয়া উচিৎ। এরা স্ট্রোকের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসা দিচ্ছে। মেডিকেলে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট নিউরোমেডিসিন। এরকম একটি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ সেজে প্রতারণার করছে খোরশেদ, তার আরও কঠিন শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

দণ্ড পাওয়া খোরশেদ কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর সরাইপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

এএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ভুয়া চিকিৎসক
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক