শেরপুরের জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছি: সিভিল সার্জন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শেরপুর জেলার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছ যাচ্ছেন সিভিল সার্জন ডা. অনুপম ভট্টাচার্য্য। এ জেলায় চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি সদর হাসপাতাল রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার মান উন্নত করার জন্য উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) নিয়ে একটি সমন্বিত পরিদর্শন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন সিভিল সার্জন।
ডা. অনুপম ভট্টাচার্য্য মেডিভয়েসকে জানান, ইউএইচএফপিওদের নিয়ে প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইপিআই কার্যক্রম পরিদর্শন করছি। কোন উপজেলায় কোন কাজটি ভালো হচ্ছে, সেটি জেনে একটি উপজেলার ভালো দিকগুলো অন্য উপজেলায় বাস্তবায়ন করার জন্যই কাজ করছি। সম্প্রতি শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী পীরগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম সুপারভিশন করেছি। এভাবে সবগুলো ক্লিনিকে করা হবে।
তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। কোন সেন্টারে কি কাজ হচ্ছে এবং ভুলত্রুটি কি আছে, সেগুলো নোট করছি। এগুলো কিভাবে সমাধনা করা যায়, তা মাসিক সভায় আলোচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহে সবগুলো উপজেলাতে ইউএইচএফপিওদের নিয়ে পরিদর্শনে যাবো। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর-আউটডোর ও খুটিনাটি সব বিষয়গুলো দেখবে। কি সমস্যা আছে, সেটি সমাধান করে সেবার মান কিভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেটি নিয়ে চিন্তা করা হবে।
সীমিত জনবল ও অপ্রতুল মেডিকেল যন্ত্রপাতি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ‘যেসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে অপারেশন (ওটি) কার্যক্রম চালু নেই, অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও জিনিসপত্রের চাহিদার বিষয়ে জেলা সমন্বয় মিটিংয়ে উপস্থাপন করেছি। শ্রীবরদী উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেখানে জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে এ মাসে হয়তো ওটি চালু করতে পারবো।
‘কনসালটেন্ট পদোন্নতি পেয়ে সদর হাসপাতাল চলে যাওয়ায় ঝিনাইগাতিতে অপারেশন কার্যক্রম কিছু দিন বন্ধ ছিল। গতকাল (৫ সেপ্টেম্বর) নতুন কনসালটেন্ট আসার অর্ডার হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত ওটি কার্যক্রম চলবে। অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ওটি কার্যক্রম চালু করতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। নকলা উপজেলায় এ মাসে ওটি শুরু করতে পারবো,’ যোগ করেন ডা. অনুপম।
তিনি বলেন, যেহেতু সব হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ নেই, তাই অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে একটি সার্কেল তৈরি করে দেওয়া হবে। সার্কেলের চিকিৎসকরা এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় গিয়ে নির্দিষ্ট তারিখে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বর্তমানে হাসপাতাগুলোতে যে পরিমাণ জনশক্তি ও যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে উপজেলার বাসিন্দাদের সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যাবে।
সবগুলো সংকট কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা পরিষদে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। উপজেলা পরিষদকে আমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। ইউএইচএফপিওদের কাছে চিঠি দিয়েছি, কোন উপজেলায় কি কি প্রয়োজন? তা জানানোর জন্য। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষও সংকট নিরসনের জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানান সিভিল সার্জন।
লোকালে সেবা দিতে পারলে জেলা হাসপাতালে চাপ কমবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ কমলে, ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব। এজন্য উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার মান বৃদ্ধি করতে কাজ করছি। উপজেলায় যেসব চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়, শুধু সেগুলো জেলায় রেফার করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি শেরপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দান করেন ডা. অনুপম ভট্টাচার্য্য। যোগদানের পর থেকে ওই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার কার্যক্রমের ভুয়সী প্রশংসা করছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
এএইচ/এসএস
-
০৮ নভেম্বর, ২০২৫
-
২৮ জুন, ২০২৫
ঢাকা ফার্টিলিটি এক্সপো
বিএমডিসির অনুমতি ছাড়া বিদেশি চিকিৎসক দিয়ে সেবা, ইকো এক্সপোকে শোকজ
-
৩০ মে, ২০২৫
-
১২ মে, ২০২৫