ঢাকা ফার্টিলিটি এক্সপো
বিএমডিসির অনুমতি ছাড়া বিদেশি চিকিৎসক দিয়ে সেবা, ইকো এক্সপোকে শোকজ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ফার্টিলিটি এক্সপোর আড়ালে বিনা অনুমতিতে ভারত ও থাইল্যান্ডের চিকিৎসকদের দিয়ে রোগী সেবা দেওয়ার ঘটনায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ ইকো এক্সপোকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। আজ শনিবার (২৮ জুন) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজওয়ানুর রহমান বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ইস্যু করা শোকজ নোটিশটিতে সই করেছেন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। একই দিন বিকেলে এক্সপোতে অনুমতি না থাকায় রোগী সেবা বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশনা না মানায় রাতে মেলা স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়।
ওই দিন সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ঢাকা ফার্টিলিটি এক্সপো শুরু হয়। আজ শনিবার পর্দা নামার কথা ছিল আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীর। তবে, এক্সপো উদ্বোধনের পরপরই এতে বিদেশি চিকিৎসকদের দিয়ে বাংলাদেশি রোগীদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠে।
সিভিল সার্জন দপ্তরের দেওয়া শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, ঢাকা ফার্টিলিটি এক্সপো ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমতি ব্যতীত বিদেশি চিকিৎসক দিয়ে রোগী দেখা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
এতে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসির অনুমতি ব্যতীত কেন প্রদর্শনীতে রোগী দেখা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পত্র জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতেই মেলা স্থগিত করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যার পরেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। তবে শুক্রবারও আয়োজক কর্তৃপক্ষ একবার মেলা আয়োজনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আজকেও ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিনা অনুমতিতে রোগী দেখার ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। পত্রপ্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তারা ব্যাখ্যা দিলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।’
জানা গেছে, গত ৩ মার্চ ঢাকা ফার্টিলিটি এক্সপো শীর্ষক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইকো এক্সপো। ২৭ মার্চ মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৭ শাখার উপসচিব মো. সাজেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অনুমতি দেওয়া হয়। পরে গত ২১ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি এবং হল বুকিংয়ের কপি দেখিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) নিরাপত্তার জন্য অবহিত করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ডিএমপিতে দেওয়া ইকো এক্সপোর আবেদনে ‘মেলা’ ও ‘প্রদর্শনী’ শব্দ উল্লেখ থাকলেও এতে বিদেশি চিকিৎসকরা রোগী সেবা দিবেন—এমন কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া এ জন্য বাংলাদেশের চিকিৎসা পেশাগত নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিএমডিসির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে মেলা প্রদর্শন শেষে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘তারা বলেছে মেলা, কিন্তু আসলে মেলা না। মেলার সাথে সাথে চিকিৎসা, কাউন্সিলিং এবং বিদেশে যাওয়ার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেলা যদি টেকনোলজি প্রদর্শনী বা শেয়ারিং হয়, সেটি এক জিনিস। কিন্তু চিকিৎসা সম্পর্কিত কোনো অনুমতি নেই। ফলে এক্সপোর আড়ালে রোগী দেখা, চিকিৎসা দেওয়া এবং রোগীদের ভারত যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করা—এটি যেন না হয়।’
এনএআর/