আইসিডিডিআর,বির গবেষণা
দেশে প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৪ শিশুরই কম ওজন নিয়ে জন্ম
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে শতকরা ৩৯ শতাংশ শিশু গর্ভকালীন সময়ের বয়স অনুযায়ী কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। যা প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৪টি শিশুই কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইসিডিডিআরবি) মাতৃত্বকালীন পুষ্টি নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীস্থ আইসিডিডিআরবি এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে গবেষকরা জানায়, গর্ভাবস্থায় ৫০ শতাংশ নারীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যে হারে ওজন বাড়ার কথা, তা বাড়ছে না। এর প্রভাব পড়ছে গর্ভে থাকা সন্তানের ওপরও। যার জন্য কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে ৩৯ শতাংশ নবজাতক।
অনুষ্ঠানে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিন বছরে কুমিল্লার মতলবে ১ হাজার ৮৮৩ জন গর্ভবতী নারীর উপর করা জরিপের তথ্য তুলে ধরে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইসিডিডিআর,বি)।
জরিপে বলা হয়, মতলবে ৫৬ শতাংশ গর্ভবতী নারীর স্বাভাবিকের তুলনায় কম ওজন বাড়ে। এছাড়াও ২০ শতাংশের অতিরিক্ত ওজন বাড়ে এবং মাত্র ২৪ শতাংশ গর্ভবতীদের ওজন ঠিকভাবে বাড়ে। এর ফলে শিশু জন্মগ্রহণের সময় কম ওজন নিয়ে পৃথিবীতে আসে। যা তাদের বেড়ে উঠায় বাধা সৃষ্টি করে। শিশুরা জন্মকালীন সময়ে অপুষ্টির স্বীকার হওয়ায় অপুষ্টির দুষ্টচক্রে পড়ে যায়।
গবেষণা পরিচালনাকারী আইসিডিডিআর’বির সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. এস এম তাফসির হাসান জানান, কম ও বেশি ওজন বৃদ্ধি দুটোই ক্ষতিকর। কম ওজন বাড়লে শিশুদের কম ওজন নিয়ে জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। আর এতে শিশু স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না। এতে সিজারের প্রয়োজন হয়। আবার প্রয়োজনের তুলনায় শিশুর ওজন বৃদ্ধি বা শিশু বড় হলে সে ক্ষেত্রেও সিজারের প্রয়োজন পড়ে।
এই সমস্যা থেকে উত্তরণে করণীয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবারের প্রয়োজন। পরামর্শ অনুযায়ী শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটসহ ১০ ধরনের উপাদান প্রয়োজন। এতে করে মা ও শিশুর ওজনের একটি ভারসাম্য থাকবে। সাধারণ সময়ের তুলনায় গর্ভাবস্থায় সব ধরনের উপাদানই বেশি বেশি প্রয়োজন হয়। তাই মায়েরা যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে সে বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে তাদের স্বামীদের।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. এস এম তাফসির হাসান বলেন, মতলবে আইসিডিডিআর’বি ৬৬ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। সেখানের মানুষদের গর্ভাবস্থায় পুষ্টি ও অন্যান্য অবস্থা নিয়ে নিয়মিত জরিপ করা হচ্ছে। অর্থাৎ এলাকাটির নারীরা আইসিডিডিআর’বির নজরদারিতে রয়েছে। সেখানে যদি এই হার হয়, তবে সারাদেশের চিত্র এর থেকে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি।