দেশের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে নোটিস করেননি ডা. সংযুক্তা: সেন্ট্রাল হাসপাতাল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সেন্ট্রাল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ডা. সংযুক্তা সাহা চেম্বার বন্ধ রেখে বিদেশে গেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ম্যানেজার (বিজনেজ ডেভেলপমেন্ট) মো. মামুনুর রশিদ রাসেল।
আজ মঙ্গলবার (২০ জুন) সেন্ট্রাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
মো. মামুনুর রশিদ রাসেল বলেন, ‘ঘটনার দিন ডা. সংযুক্তা সাহা চেম্বার বন্ধ রাখবেন, এটা আমাদের জানাননি। উনি দেশে নেই এটা আমরা জানতে পেরেছি, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার পর।’
তিনি বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে আমাদের অফিসিয়াল কোনো এসিস্ট্যান্ট কাজ করেনি। অফিসিয়াল নিয়ম হলো, কেউ দেশের বাইরে গেলে আমাদের আগে থেকে জানাবেন, কিন্তু ডা. সংযুক্তা সাহা এমন কোনো নোটিশ আমাদের দেননি।’
মো. মামুনুর রশিদ রাসেল আরও বলেন, চার জনের একটা তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে আমরা বিষয়টি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে পারবো।
গত ১৮ জুন দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখি।
জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক উল্লেখ করে নরমালে সন্তান প্রসব সম্ভব বলে তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন ডা. সংযুক্তা।
প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হয়। ওইসময় ডা. সংযুক্তা দেশে ছিলেন না। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের জানায়, তিনি আছেন এবং অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) কাজ করছেন।
এদিকে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি।
এ বিষয়ে আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে যখন ওটিতে ঢোকানো হয় এবং নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা শুরু করা হয়, তখনও আমি সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে আছেন কি-না জানতে চাই। কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি আছেন এবং তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরে জানতে পেরেছি ডা. সংযুক্তা সাহা ছিলেন না।’
এ ঘটনায় ১৪ জুন ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা দায়ের করেন ইয়াকুব আলী। মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।