ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


২৭ মে, ২০২৩ ১২:০৩ পিএম

জন্মগত ত্রুটি নিয়েও জগৎ সেরা বিজ্ঞানী

জন্মগত ত্রুটি নিয়েও জগৎ সেরা বিজ্ঞানী
আলবার্ট আইনস্টাইন, টমাস আলভা এডিসন, হেলেন কেলার ও আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। (বাম দিক থেকে)

সন্তানের ছোট খাটো কোনো জন্মগত ত্রুটি থাকলে মা-বাবা ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েন। তাদের মন ছোট হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সে সন্তানকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখেন। নিজেকে অপরাধী ভাবেন। অথচ জগৎ সেরা কয়েকজন বিজ্ঞানীর নানা রকমের জন্মগত ত্রুটি ছিল। তারা মোটেও দমে যাননি। তাদের মা-বাবা হতাশ হয়ে থেমে যাননি। যেমন,

আলবার্ট আইনস্টাইন 

বিশ্বের অন্যতম সেরা গণিতবিদ এবং পদার্থবিদ। ছোটবেলা কথা বলা শিখতে তার অনেক দেরি হয়েছে। ছিলেন একটু হাবাগোবা প্রকৃতির। খানিকটা অটিজমের বৈশিষ্ট্য ছিল। এ ছেলেকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, এটাই ছিল তার সম্পর্কে সবার ভবিষ্যৎবাণী।

টমাস আলভা এডিসন

যে বিজ্ঞানীর জন্ম না হলে পৃথিবী আজো থাকতো অন্ধকারে। এই মোবাইল ও হয়তো আবিষ্কার হতো না। অথচ তিনি বারো বছর বয়স পর্যন্ত পড়তে পারেননি। স্কুল থেকে বের করে করে দেয়া হয়েছিল, পড়াশোনায় অমনোযোগী খারাপ ভীষণ দুষ্ট বলে। ছেলেবেলায় পত্রিকা বিক্রি করতেন স্টেশনে। অথচ তিনিই পৃথিবীকে করলেন আলোকিত। সেরা ইনভেন্টার। এটি একমাত্র তার মায়ের অবদান। স্কুল থেকে বের করে দেবার পর থেকে তা মা'ই তাকে পড়াতেন বাড়িতে।

হেলেন কেলার

হেলেন ছিলেন অন্ধ, বধির। শৈশবেই রোগে ভুগে দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হারান। ওই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে হয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত। 

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল

টেলিফোন যন্ত্রের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের ছিলো লার্নিং ডিসেবিলিটি (কোন কিছু শিখতে না পারা)। তার মা এবং স্ত্রী উভয়েই ছিলেন বধির। প্রাইমারি ও হাইস্কুল পড়াশোনা ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারেননি।

জন মিল্টন

জন মিল্টন ছিলেন ইংরেজি লেখক ও কবি। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দৃষ্টি হারান। ওই দৃষ্টিহীন অবস্থায় লিখেন, মহাকাব্য প্যারাডাইস লস্ট।

লর্ড বায়রন

ব্রিটেনের সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান্টিক কবি ছিলেন জন্মগত খোঁড়া লর্ড বায়রন। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটতেন। (ক্লাব ফুট)

মাইকেল বল্টন

বল্টন একজন সুপরিচিত গায়ক। তিনি বধির। ঠিকমতো শুনতে পান না।

স্টিফেন হকিংস

স্টিফেন হকিংস পদার্থবিদ এবং গণিতবিদ। মটর নিউরোন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে আজীবন হুইল চেয়ারে কাটিয়েছেন। কথা বলতে পারেন না। অথচ তিনি সেরা আধুনিক বিজ্ঞানীদের একজন।

অর্ডিনারিদের দেখা যায়, চেনা যায়। এক্সট্রা-অর্ডিনারিদের দেখা যায় না, চেনা যায় না। হয়তো দেখা বা চেনার ক্ষমতা আমাদের নেই। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও