চমেক হাসপাতালে প্রথমবারের মতো থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রথমবারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি গুলিয়ান বার সিন্ড্রোমের (জিবিএস) এক রোগীর চিকিৎসায় থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১০ মে) হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগে জিবিএস আক্রান্ত অঞ্জনা রানীর (৩৮) চিকিৎসায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সরাসরি তত্বাবধানে (নিবিড় পর্যাবেক্ষণ কেন্দ্র) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন অঞ্জনা রানী।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ মে) চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহেনা আক্তার মেডিভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল একজনকে থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ করা হয়েছে এবং আজকেও তিন জনকে এই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, চমেক হাসপাতাল প্রথমবারের মতো এই চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু হয়েছে। এটি চমেকের চিকিৎসা সেবায় আরেকটি মাইলফলক অর্জন। থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ পদ্ধতি চালু করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ।
তারা বলেন, সারাবিশ্বেই গুলিয়ান বার সিন্ড্রোমের (জিবিএস) রোগের চিকিৎসায় দুটি আধুনিক পদ্ধতি রয়েছে। একটি হচ্ছে, থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ এবং আরেকটি ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন থেরাপি। বেসরকারীভাবে থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। যা চমেক হাসপাতালে মাত্র ২৫ হাজার টাকা সরকারি চার্জ এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিলে ২ লাখ টাকায় করা সম্ভব।
আধুনিক এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে চমেক হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. তানজিলা তাবিব চৌধুরী বলেন, থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জ চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য সকল যন্ত্রপাতি এখন আমাদের আছে। কীটের দাম বেশি হওয়ায় খরচ দুই লাখ টাকা লাগলেও, সরকারি সহায়তা পেলে এই খরচ প্রায় অর্ধেকের নীচে নামিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমানে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ এবং বৃহত্তর চট্রগ্রামমের রোগীদের রক্তের চাহিদা মেটাতে আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম আহসান বলেন, জিবিএস রোগের এই আধুনিক এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি স্বল্প খরচে চমেক হাসপাতালে শুরু করায় ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এই চিকিৎসা পদ্ধতির খরচ যেনো আরও কমিয়ে আনা যায়, এই ব্যাপারে আমার সর্বাত্মক সহায়তা থাকবে এবং সরকারিভাবে কীট পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবো।
টিআই/এএইচ