০৩ মে, ২০২৩ ০২:১৮ পিএম

‘প্রযুক্তিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে’

‘প্রযুক্তিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে’
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ ডা. মিল্টন হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নারী স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স (এআই ইন ওমেন্স হেলথ: দি ইমার্জিং নিউ ফেস অফ হেলথকেয়ার) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (৩ মে) স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ ডা. মিল্টন হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

ভিসি বলেন, ‘চিকিৎসকদের ডাটা সংরক্ষণ, ডকুমেন্টেশন তৈরি ও রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তির দিক থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই এবং পিছিয়ে থাকবেও না। স্মার্ট হেলথ সিস্টেমে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্সের বিরাট অবদান রয়েছে। বাংলাদেশে স্মার্ট হেলথ সিস্টেম বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মুখ্য ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রযুক্তির বিকাশ ও কল্যাণকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। রোবটিক সার্জারিসহ আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্সের যে সকল ব্যবহারিক উপযোগিতা যেখানে যেখানে রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদেরকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স স্বমন্ধে পুরোপুরি জানতে হবে। এটি ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। প্রযুক্তির সুবিধাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমৃদ্ধির ও কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। যদি ইনপুট ভালো দেওয়া যায় এর ফলাফলও ভালো পাওয়া যাবে।’

প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটির সুযোগ-সুবিধা গুলোর পাশাপাশি খারাপ দিকগুলোও আমাদের জানতে হবে। আমার মনে হয় আজ থেকে ২০ বছর পরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স। কে কি করবে কিভাবে চলবে সবকিছু রিমোট কন্ট্রোলের মতো আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স নিয়ন্ত্রণ করবে।’

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নিত্যনতুন প্রযুক্তির বিষয়ে জানা থাকতে হবে। প্রযুক্তির সুবিধাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমৃদ্ধির ও কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। নতুন যে পদ্ধতিই আসুক না কেন রোগীর জন্য যেটা সর্বোত্তম, সেই পদ্ধতিই ব্যবহার করতে হবে। আমাদের সম্পর্ক হলো রোগীর সাথে, রোগীর স্বার্থই আমাদের কাছে মুখ্য বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে মেশিনের নিজের কিছু করার ক্ষমতা নাই, আমরা তাঁকে যেমন ইনপুট দিবো সে অনুযায়ী আউটপুট পাওয়া যাবে। কাজেই আমাদের মধ্যে কিছু না থাকলে মেশিন দিয়ে কিছু হবে না। প্রযুক্তি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, সেটা মানুষকে বা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরই দেখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, ইউজিসির অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম, অবস এন্ড গাইনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বেগম নাসরীন, ফিটোম্যাটার্নাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাহরীন আক্তার, রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জেসমিন বানু প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। কারিগরি ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন যুক্তরাজ্যের বেইজ হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং হুইটিংটন হসপিটাল এনএইচএস এর কনসালটেন্ট (ওমেন্স হেলথ) ডা. আশফাক এম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সম্প্রীতি ইসলাম। সেমিনারে শিক্ষক, চিকিৎসক, ও রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

টিআই/এএইচ/এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত