বিএসএমএমইউতে চতুর্থবারের মতো বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের আয়োজন সম্পন্ন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিনামূল্যে মুখমণ্ডলের জন্মগত বিকৃতি, ঠোঁট কাটা ও তালু কাটা রোগীদের অস্ত্রোপচারের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র শহীদ শেখ জামালের ৬৯তম জন্মদিবস উপলক্ষে আগামীকাল ৩ ও ৪ মে এ অস্ত্রোপচার করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠেয় এ ক্যাম্পটি পরিচালনা করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট।
এ লক্ষ্যে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল রোগী বাছাই করা হয়।
এ দফায় কতজনকে শিশুকে এই অস্ত্রোপচারের আওতায় নিয়ে আসতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ুব আলী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটা আমাদের চতুর্থ ক্যাম্প। প্রতি ক্যাম্পেই লক্ষ্য থাকে অন্তত দশজন রোগীকে আমরা অপারেশন করবো। মাননীয় ভাইস চ্যান্সলরের উদ্যোগটি বিএসএমএমইউর প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট বাস্তবায়ন করছে।’
এই ক্যাম্পেইনের সূচনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ক্যাম্প হয়। সে সময় ৮টি রোগীর অপারেশন করা সম্ভব হয়। একই বছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আরেকটি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে সম্ভবত জন রোগী ছিল। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর আরেকটি ক্যাম্প হয়, যেখানে আটজন রোগীর অপারেশন সম্পন্ন হয়। তিনটি ক্যাম্পই আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।’
এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ ক্যাম্প হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১০-১২ জন রোগী এসেছে। বাছাই পর্ব সম্পন্ন করে দুই এপ্রিল ভর্তি নেওয়া হবে। ৩ মে অস্ত্রোপচার করা হবে, বাকিদের ৪ মে।
রোগী বাছাইয়ে মানদণ্ড
রোগী বাছাইয়র মানদণ্ড হিসেবে বয়স-ওজন-পুষ্টিমানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের জন্য একজন শিশুর তিন মাস বয়স হতে হবে, এর আগে করা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া অনেক রোগীর ওজন ঠিক থাকে না, কিংবা পুষ্টিহীনতায় ভোগে—এসব রোগীর উল্লিখিত সংকট দূর হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়।
জানা গেছে, ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বরাবরের মতো সার্জারি ইউনিটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১০টি বিনামূল্যের শয্যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অর্থায়ন কিভাবে হচ্ছে জানতে চাইলে অধ্যাপক আইয়ুব আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ জাতীয় কিছু কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছিলেন। তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে সমস্ত ওষুধ-পথ্যসহ অন্যান্য খরচ বহন করেন। এই ক্যাম্পের আওতায় সকল রোগীর ভর্তি ফিসহ সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়।’
অপারেশনের পর কত দিন রাখা হয়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপারেশনের পর রোগীকে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। কোনো কোনো রোগী অনেক দূর থেকে আসে। তাদেরকে সাত দিন পর ছাড়া হয়। কারণ সাত দিন পর সেলাই কাটার সময় হয়। তালু অপারেশনের কিছু রোগী আছে, যাদের সেলাই কাটার প্রয়োজন পড়ে না। ১/২ দিন পর অবস্থা ভালো মনে হলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সুতরাং অবস্থা ভেদে কোনো কোনো রোগীকে দুই দিন কোনো রোগীকে সাত দিন রাখতে হয়।’
বাইরে খরচ
বাইরে এই অস্ত্রোপচারের খরচ তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে উন্নত মানের ক্লিনিকে এ ধরনের একটি অপারেশনে বিভিন্ন ধরনের খরচ গুণতে হয়। এর মধ্যে সার্জিক্যাল টিমের খরচ, শয্যা ভাড়া, অপারেশন থিয়েটারের খরচ, সার্ভিস চার্জ—এসব মিলিয়ে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা পড়ে যায়।
‘আমাদের ক্যাম্পেইনে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষাকৃত জটিল রোগীদের বাছাই করা হয়, অন্যান্য জায়গায় যাদের অস্ত্রোপচার করা হয় না। ভিসি স্যারের নির্দেশনা মতো, যেসব রোগীদের অন্য জায়গা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তাদেরকে আমরা অস্ত্রোপচারের জন্য বেছে নিই’, যোগ করেন অধ্যাপক আইয়ুব আলী।
দরিদ্রদের অগ্রাধিকার
রোগী বাছাইয়ে প্রভাবশালীদের পরিচিতজন বা আত্মীয়দের বাড়তি কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাছাইয়ের মানদণ্ডে যারাই উত্তীর্ণ হবেন, তাদেরকেই আমরা অস্ত্রোপচার করে থাকি। এ মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলে হাসপাতালের শিক্ষক-চিকিৎসকসহ যে কারও তদবিরও উপেক্ষা করা হয় না। অন্যদিকে যোগ্য বিবেচিত হলে সাধারণ পরিবারের কোনো সদস্যের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সদস্য এ সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন, বরং তারা অগ্রাধিকার পান।’