১৪ এপ্রিল, ২০২৩ ০৭:০৮ পিএম
দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন

মানবদেহের কৃত্রিম নমুনায় কাজ করে শেখার সুযোগ

মানবদেহের কৃত্রিম নমুনায় কাজ করে শেখার সুযোগ
মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে সিমুলেশন ল্যাব পরিদর্শন করছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসা শিক্ষাকে আরও সহজবোধ্য করতে দেশের ৮টি মেডিকেল কলেজে 'সিমুলেশন ল্যাব' উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে দেশে সরাসরি মানবদেহের উপর কাজ না করে মানবদেহের কৃত্রিম মডেলের উপর কাজ করে শিক্ষালাভের সুযোগ তৈরি হবে।

আগামীকাল শনিবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে একই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশের সবগুলো মেডিকেল কলেজে ই-লাইব্রেরির উদ্বোধন‌ও অনুষ্ঠিত হবে।

আজ শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল সকালে দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে। ৮টি মেডিকেল কলেজে সিমুলেশন ল্যাবের (Simulation Lab) উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সিমুলেশন ল্যাবের প্রবর্তন চিকিৎসা শিক্ষার্জনকে সহজবোধ্য করবে, শিক্ষার মানকে অনেক উন্নত করবে।’

সিমুলেশন ল্যাব সম্পর্কে ডা. বায়জীদ খুরশীদ বলেন, ‘শেখানোর পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সিমুলেশন হচ্ছে একটি আধুনিক কৌশল। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বাস্তবজীবনের বিভিন্ন সমস্যা জীবন্ত দেহের পরিবর্তে কৃত্রিম উপকরণ বা পরিবেশ ব্যবহার করে সমাধান করার সক্ষমতা তৈরি হয়। বাস্তবে যে ধরনের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীর পক্ষে পাওয়া দুষ্কর বা অসম্ভব, সে অবস্থার মুখোমুখি করার জন্য বাস্তব জীবনের একটি প্রতিচ্ছবি তৈরি করা হয়। এটাই হচ্ছে সিমুলেশন।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে সিমুলেশন হচ্ছে সরাসরি মানবদেহের উপর কাজ না করে মানবদেহের কৃত্রিম মডেলের উপর কাজ করে শিক্ষালাভ করা। যেমন, কোন রোগীর দেহে রক্ত বা স্যালাইন সঞ্চালন করতে হলে কীভাবে সূঁচ ফোটাতে হবে, সেটি মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা শিখবে মডেলের উপর পরীক্ষা করে। মডেলটা মানবদেহের আদলে তৈরি করা; এর ত্বকের উপরে শিরা-ধমনী উদ্ভাসিত করে নেয়া যাবে। সূঁচ সঠিক জায়গায় প্রবেশ করেছে কি-না, রক্ত বা স্যালাইন স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে কিনা, সেটি নিরাপদে বিজ্ঞানসম্মতভাবে শেখা যাবে। একাধিকবার চেষ্টা করার সুযোগ থাকবে, যা মানবদেহে করা সমীচীন নয়। ‌একই রকমভাবে ক্যাথেটারাইজেশন‌ (মূত্রনালীতে নল ঢুকিয়ে প্রশ্রাব নির্গমনের ব্যবস্থা) শেখা যাবে।’

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেল শিক্ষার্থীরা শবদেহ ব্যবচ্ছেদ (Dissection) করে মানবদেহের অস্থি, মাংসপেশী, রক্তনালী, স্নায়ুতন্ত্র, হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্বন্ধে জ্ঞানার্জন করে থাকে। শবদেহ ব্যবচ্ছেদ করা যে রহিত হয়ে যাচ্ছে তা নয়, কিন্তু ভার্চুয়াল একটা ডিসেকশন টেবিল থাকবে। যেটিতে প্রমাণ সাইজের মানব দেহ দৃশ্যমান হবে এবং সেটিকে সকল দিক দিয়ে ডিজিটালি ব্যবচ্ছেদ করা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে সিমুলেশন ল্যাবগুলো স্থাপিত হচ্ছে। অর্থায়ন করছে একই অধিদপ্তরের অপারেশনাল প্ল্যান 'চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন' (ME&HMD)।

এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।