২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ০১:০৩ পিএম

‘ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ফলে রাতকানা রোগ নেই বললেই চলে’

‘ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ফলে রাতকানা রোগ নেই বললেই চলে’
১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে লাল রঙের ক্যাপসুল।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ফলে রাতকানা রোগ নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে অনেক কমে এসেছে শিশু মৃত্যুর হার। এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) নিপসম অডিটোরিয়ামে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি শুরু করে। তখন দেশে রাতকানা রোগীর সংখ্যা চার ভাগেরও বেশি ছিল। অনেক শিশুরা পলিও আক্রান্ত হতো। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানা ও অন্ধত্বসহ নানা রোগ হয়। যেমন: শিশুদের হাম, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া। কমে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বেড়ে যায় মৃত্যুর ঝুঁকি। ভিটামিন-‘এ’এর অভাব মৃত্যুর হার বেড়ে যায় প্রায় ২৪ শতাংশ। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রাতকানা রোগ এখন নেই বললেই চলে।’

শিশু মৃত্যুর হার অনেক নেমে এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ত্রিশের নিচে এসেছে, কিন্তু এসডিজি অর্জন করতে শিশু মৃত্যুহার বার’তে নামিয়ে আনতে হবে। মাতৃমৃত্যু এখন লাখে ১৬৩। এটিও অনেক নিচে নেমে এসেছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করেছি। এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ) অর্জন করতে চাই, কিন্তু এসডিজি টার্গেট থেকে দেশ অনেক দূরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিন ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ালে সারা বছর শিশু ভালো থাকবে, এটা মনে করা যাবে না। সুস্থ থাকতে শিশুকে নিয়মিত পুষ্টি সম্পন্ন খাবার খাওয়াতে হবে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি ২৫ লাখ শিশুকে নীল রঙের ক্যাপুসল খাওয়ানো হবে। আর ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে লাল রঙের ক্যাপসুল। দেশে ২ লাখ ৪০ হাজার স্বাস্থ্যসেবী এবং ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচিতে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে যুক্ত রয়েছে। করোনার সময়েও এ ক্যাম্পেইন অব্যাহত ছিলো, এবং সফলতার সাথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।’

এ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে মায়েদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন আপনারা (শিশুর মা) এগিয়ে আসবেন। সাংবাদিকরা এ বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিবেন। শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমাতে দেশের প্রতিটি জেলা ৩০-৫০ বেডের মা ও শিশু হাসপাতালে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘মায়ের পুষ্টি ঘাটতি থাকলে, শিশুরও পুষ্টিতে ঘাটতি হবে। সুতরাং মায়ের পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খালি পেটে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ালে একটু সমস্যা হতে পারে। তাই শিশুদের ভরা পেটে কেন্দ্রে আনতে হবে। ছয় মাসের কম এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সি এবং অসুস্থ শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। অনেকে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ার পর বাচ্চা অসুস্থ হওয়ার গুজব ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠঅনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিঁটো মিঞা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মুজিবুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের লাইন ডাইরেক্টর আবদুল মান্নান।

এইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক