০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ০২:২৯ পিএম

বিএসএমএমইউতে মরণোত্তর কর্নিয়া দানে আলো ফিরল আরও দুই জনের

বিএসএমএমইউতে মরণোত্তর কর্নিয়া দানে আলো ফিরল আরও দুই জনের
গত ৩০ জানুয়ারি রাত ২টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নন্দিতা বড়ুয়া ৬৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সদ্য প্রয়াত রাজধানী বাসাবোর বাসিন্দা নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহদানের কর্নিয়ায় চোখের আলো ফিরেছে কাওখালি কলেজের ব্যবস্থাপনার বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ও পটুয়াখালীর দলিল লেখক  আব্দুল আজিজের চোখের আলো ফিরেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনাটমি বিভাগের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ নন্দিয়া বড়ুয়ার মরণোত্তর দেহগ্রহণকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা.  শাহ আলম, এনাটমি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন আক্তার সুমি,  নন্দিতা বড়ুয়ার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া এবং সেজুতি বড়ুয়া. নন্দিতা বড়ুয়ার কর্নিয়া গ্রহীতা জান্নাতুল ফেরদৌস ও আব্দুল আজিজ প্রমুখসহ এনাটমি বিভাগের শিক্ষক ও রেসিডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নন্দিতা বড়ুয়ার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া এবং সেজুতি বড়ুয়াও মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছা পোষণ করেন।

এসময় অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, নন্দিতা বড়ুয়ার এই ধরণের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করি। মরণোত্তর দেহদানকারীর দুই কন্যা শাপলা বড়ুয়া এবং সেজুতি বড়ুয়াসহ পরিবারের সকলকে এই ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রথম ক্যাডাভেরিক অঙ্গদাতা হিসেবে সারা ইসলাম বাংলাদেশের মানবকল্যাণে দেহদানে ইতিহাস হয়ে রয়ে যাবেন। সারার পথ অনুসরণ করে আজকে অনেকেই ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান ও মরণোত্তর দেহদানের আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন। তাঁর অঙ্গদানে দুজন কিডনি পেয়েছে এবং দুজন চোখের আলো ফিরে পেয়েছে। আজকে নন্দিতা বড়ুয়ার অবদান মানব জাতি মনে রাখবে।

ভিসি বলেন, নন্দিতা বড়ুয়ার কর্নিয়ার নতুন করে চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন আরও দুজন। গত একমাসে মরণোত্তর চক্ষু দান প্রক্রিয়ায় ১২ জনের চোখে সফলভাবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করেছি। কর্নিয়াগ্রহীতার বেশ ভাল আছেন। তিনি দেশের সকল মানুষের প্রতি এই রকম মহতী কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। 

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকে বেগবান করা হয়েছে। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির সঙ্গে নানান উদ্যোগ নিচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণার কাজে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করার একটি প্রয়াস হল এই মরণোত্তর দেহদান।’

অনুষ্ঠানে নন্দিতা বড়ুয়ার মরদেহটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগে সংরক্ষণ, শিখন প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার কাজে ব্যবহারের আবেদনপত্রটি বিভাগীয় চেয়ারম্যানের নিকট প্রদান করা হয়। অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদের অনুমতিতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এনাটমি বিভাগের প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এ্যান্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে সম্পন্ন করা হয়।

মরদেহের এমবামিং প্রক্রিয়ার প্রারম্ভে এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: লায়লা আনজুমান বানুর পরিচালনায় এবং এনাটমি বিভাগের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও রেসিডেন্টদের অংশগ্রহণে মরদেহের যথোচিত সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য শপথ গ্রহণ করা হয়।

গত ৩০ জানুয়ারি রাত ২টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নন্দিতা বড়ুয়া ৬৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। কিডনি রোগের পাশাপাশি এসএলই ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি জীবদ্দশাতেই মরণোত্তর দেহদানের ব্যাপারে সন্তানদের কাছে ইচ্ছেপোষণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের সম্মতিতে বিএসএমএমইউর কর্নিয়া বিশেষজ্ঞরা প্রয়াতের কর্নিয়া সংগ্রহ করেন।

গত ৩১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শীষ রহমান পটুয়াখালীর দশমিনা সাব-রেজ্রিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আব্দুল আজিজের চোখে ও অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজশ্রী দাস ঝালকাটি জেলার কাওখালি কলেজের ব্যবস্থাপনার বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসির চোখে একটি করে কর্নিয়া সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন।  

প্রসঙ্গত, ১৯৫৩  সালের ২ জুন চট্টগ্রামের পটিয়ার কোলাগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে নন্দিতা বড়ুয়ার জন্ম হয়। মা সন্ধ্যারানী বড়ুয়া। বাবা রাজকৃষ্ণ বড়ুয়া। বাবা ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি কোলকাতা আশুতোষ কলেজে পড়াকালীন কংগ্রেসের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এই পরিবারেই অত্যন্ত স্নেহে ও আদরে বেড়ে উঠেছিলেন নন্দিতা বড়ুয়া। ৬ বোন, ২ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

স্কুলের গণ্ডি পেরুনোর আগেই ১৯৭১ সালে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে নন্দিতা বড়ুয়াকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। স্বামী বাবুল প্রসাদ বড়ুয়া ছিলেন বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। স্বামীর কর্মস্থল দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে হওয়ায় সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ঢাকায় থিতু (বসবাস) হলেন। এরই মধ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ থেকে আইএ পাস করেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা ও টিকা উন্নয়নে অবদান

বিডিআই’র আজীবন সম্মাননায় ভূষিত ড. ফিরদৌসী কাদরী

বিডিআরসিএস-আইএফআরসির জরিপ

হামে আক্রান্ত ৮৯ ভাগের চিকিৎসা ঋণ করে

সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা ও টিকা উন্নয়নে অবদান

বিডিআই’র আজীবন সম্মাননায় ভূষিত ড. ফিরদৌসী কাদরী

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক