১৯ জানুয়ারী, ২০২৩ ১২:২২ পিএম

একদিনে দুই মেডিকেল শিক্ষার্থী ও এক চিকিৎসকের বিদায়

একদিনে দুই মেডিকেল শিক্ষার্থী ও এক চিকিৎসকের বিদায়
অন্তর রায়, ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া (বাম দিক থেকে)

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত এক দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দুই মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ও একজন চিকিৎসক। বুধবার ১৮ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ, ব্রেন টিউমার ও আত্মহত্যা করে মারা যান তাঁরা। এসব ঘটনায় শোক জানিয়েছেন স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা। 

চিরবিদায় নেওয়া শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক হলেন, ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আনোয়ার হোসেন হৃদয় ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী (এসএস-৫০) অন্তর রায় ও কুমিল্লা মেডিকেলের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া।

ব্রেন টিউমারে বিদায় হৃদয়

গেল ১৮ জানুয়ারি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আনোয়ার হোসেন হৃদয়।

রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব বিষয়টি মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করে জানান, হৃদয় ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ, সকল পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, মেডিকেল অফিসার, ইন্টার্নী চিকিৎসক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

অন্তর রায়

হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মারা যান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী (এসএস-৫০) অন্তর রায়।  বুধবার (১৮ জানুয়ারি) মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

অন্তর রায়ের সহপাঠী ও শিক্ষকবৃন্দ মেডিভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্তর রায়ের সহপাঠী আজিজুর রহমান বলেন, অন্তর ১৪ জানুয়ারি থেকে মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। জানিনা স্বামীহারা একমাত্র সন্তানের মা- মাসিমা সহ্য করতে পারবেন কিনা। মহান সৃষ্টিকর্তা ওনাকে সহ্য করার শক্তি দিন, আর কোনো মাকেই যেন এই কষ্ট নিতে না হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর রায়ের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে। পরিবারের একমাত্র সন্তান অন্তরের আগে বাবাকে হারান। স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অন্তর রায়ের মা যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসক মিনহাজের আত্মহত্যা

গেল (১৮ জানুয়ারি) আত্মহত্যা করেন কুমিল্লা মেডিকেলের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া। এপ্রোন পরা অবস্থায় ইন্টার্ন হোস্টেলে নিজেকে নিঃশেষ করে দেন তিনি।

আত্মহত্যার আগে প্রেসক্রিপশন প্যাডে ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়া লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমি ছাড়া আর কেউই দায়ী নয়।’

সহপাঠীরা জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালন শেষে বিকাল ৪টার দিকে ছাত্রাবাসে ফিরে আসেন ডা. মিনহাজ। রাত পৌনে ১১টার দিকে পাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা তাঁকে তোয়ালে দিয়ে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

তারা জানিয়েছেন, নিজ ব্যাচের সাথে পাস করতে পারেনি ২০১৪-১৫ সেশনের এ শিক্ষার্থী। তবে অ্যাকাডেমিক কারণে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন বলেও মনে করেন না তারা।

ডা. মিনহাজুল করীম ভূঁইয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায়।

ডা. মিনহাজ উল করীম ভূঁইয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বন্ধু, সহপাঠী ও পরিচিতজনরা। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে এ শোক জানান তারা। তবে যে কোনো অপ্রাপ্তির কারণে নিজেকে নিঃশেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নেওয়া অযৌক্তিক ও অর্থহীন বলে উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।

তাঁর আত্মহত্যার খবর দিয়ে করা এক পোস্টের কমেন্ট সেকশনে আদি চৌধুরী নামে একজন বলেন, ‘আত্নহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে শুধু! ডাক্তার আর মেডিকেল স্টুডেন্টদের মধ্যে আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। আমার মনে হয়, এই যে কেউ আত্নহত্যা করলে আমরা সহানুভূতি দেখাই, পোস্ট করি, এটাও একটা ট্রিগারিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে। সে কোনো মহৎ কাজ করেনি। বারবার এসব পোস্ট দেখতে দেখতে যাদের মধ্যে এই সুইসাইডাল টেনডেন্সি আছে, সেটা এগ্রাভেট হতে পারে।’

এআইডি/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি