১৮ জানুয়ারী, ২০২৩ ১০:৫৯ এএম

মরণোত্তর চক্ষু দানের আইন প্রণয়ন করেন বঙ্গবন্ধু: প্রধানমন্ত্রী 

মরণোত্তর চক্ষু দানের আইন প্রণয়ন করেন বঙ্গবন্ধু: প্রধানমন্ত্রী 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রসূতি মায়েদের সুচিকিৎসার মাধ্যমে জন্ম অন্ধত্ব প্রতিরোধ নিশ্চিত হয়েছে। ছবি: মো. মনির উদ্দিন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মানুষের অন্ধত্ব দূর করার জন্য মরণোত্তর চক্ষু দানের সুবিধা নিশ্চিতে আইন প্রণয়ন করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে 'কমিউনিটি ভিশন সেন্টার' স্থাপন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৪৫টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নার্সিং ইনস্টিটিউট করার ফলে সেবা নিশ্চিত হয়েছে। এতে সেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বেড়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পাঁচ হাজার শয্যায় উন্নীত করার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। 

বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্যসেবার নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মানুষের অন্ধত্ব দূর করার জন্য মরণোত্তর চক্ষু দানের সুবিধা নিশ্চিতে আইন প্রণয়ন করেন করে গেছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে আহতদের চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য মানুষের স্বাস্থ্য চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর, ১৯৯৬ সালে অওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু কমিশন গঠন করে। সমস্ত বাংলাদেশে মানুষের স্বাস্থ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ শুরু হয়। পরে ১০ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পন্ন হয়। তারমধ্যে চার হাজার বাস্তবায়ন হয়েছিল। যার ফলে মানুষ চিকিৎসা সেবা পেয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার সরকারে আসার পর সরকারের প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে গড়ে ওঠা ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মানুষ চিকিৎসা সেবাসহ ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে পাচ্ছে। 

সরকার প্রধান বলেন, পাশাপাশি সে সময় চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৮ হাজার, কিন্তু তাঁর সরকার ৬৭ হাজারে উন্নীত করেছে। ২২ হাজার চিকিৎসক ও ৪০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল, বিভিন্ন আধুনিক হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিশু হাসপাতালগুলোকে উন্নতকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে যুগোপযোগী করে দিচ্ছি।

এই শিশু হাসপাতাল প্রত্যেকটা বিভাগে করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোতে শিশুদের বিশেষ যত্ন ও চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শিশুদের চিকিৎসার জন্য তার সরকার ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছে। বেসরকারি খাতেও অনেক উন্নতমানের হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, যথাযথভাবে এই যন্ত্রপাতিগুলোর ব্যবহার করা সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাপারে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

দেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সবাইকে নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, সবাই যদি নিয়ম মেনে চলে তাহলে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতে নার্সেস ইনস্টিটিউট গড়ে উঠছে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রাপ্তির জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে ৭০টি, এখন ৪৫টি উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সমস্ত বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা করে দিবো। লোকজন যেন সহজে হাসপাতালে আসতে পারেন, সেজন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। কাছাকাছি অন্যান্য ইউনিয়নের পর্যায়ে যেসব লোক রয়েছে, তারা যেন কাছাকাছি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা উপজেলা হাসপাতালে এসে নিতে পারে। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ অন্ধত্বসহ ভোগে বা নানা রোগে ভোগে, তারা যথাযথ চিকিৎসা পায় না। আজকের এই উদ্যোগের ফলে মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। এটা বিনা টাকায় দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যে অন্ধ তাকে আলো দেওয়ায় আমাদের কর্তব্য। আমরা অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি চক্ষু চিকিৎসা সেবার উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আগে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ চোখে দেখতে পেতো না। তারা কোথায় যাবে, কি করবে এ বিষয়ে জানতো না। এখন মানুষ যথেষ্ট সচেতন হয়েছে। তারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। অনেক মানুষ অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে। কাজেই এটা আমাদের জন্য বিশাল অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গোপালগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছি। উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপনে অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ডা. মোদাচ্ছের আলী, ডা. দ্বীন মোহাম্মদ, ডা মোস্তফাসহ অনেকের কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, প্রসূতি মায়েদের সুচিকিৎসার মাধ্যমে জন্ম অন্ধত্ব প্রতিরোধ নিশ্চিত হয়েছে। অন্ধজনে আলো দেওয়ার চেয়ে ভালো কাজ আর নেই।

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করেছি। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ায় করোনায় মৃত্যু কম হয়েছে। আমরা সাহস করে টিকা এনেছিলাম। বিনামূল্যে মানুষকে টিকা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, আমরা চিকিৎসা সেবার সঙ্গে গবেষণাও জোরদার করেছি। দেশের বড় বড় জেলাগুলোতে মেডিকেল করেছি। বিভাগগুলোতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব, সেভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি কমিউনিটি ভিশন সেন্টার সমানভাবে পরিচালনা করার জন্য ন্যাশনাল আই কেয়ার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ শীর্ষক সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় দেশের মানুষ বিভিন্ন রোগের যথাযথ চিকিৎসা পেত না, এখন পাচ্ছে। আমরা চাই হাসপাতালগুলোতে রোগীর সেবা আরও যেন বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে সবাইকে সহায়তা করতে হবে।

চক্ষু সেবার উন্নতিকল্পে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার করা হবে। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ৪৫টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক