১৬ জানুয়ারী, ২০২৩ ০৯:৪৮ পিএম

স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পিতভাবে বাজেট বাড়ানো দরকার

স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পিতভাবে বাজেট বাড়ানো দরকার
তারা বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু কারেন্ট হেলথ এক্সপেন্ডিচার মাত্রা দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জনগণের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে পরিকল্পিতভাবে বাজেট বাড়ানোর দরকার বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

আজ সোমবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্বাস্থ্য বাজেট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু কারেন্ট হেলথ এক্সপেন্ডিচার মাত্রা দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কম হওয়ায় জনগণকে স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশ (অর্থাৎ আউট-অব-পকেট স্বাস্থ্য ব্যয়) বহন করতে হচ্ছে। এ জন্যে স্বাস্থ্য খাতে পরিকল্পিতভাবে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মামুন-আল-রশীদ বলেন, বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দক্ষতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানতম প্রতিবন্ধক। তাই বরাদ্দ বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।

গ্রামাঞ্চলে মানুষের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমাতে স্বাস্থ্য বাজেট বরাদ্দের ধারায় কি ধরনের পরিবর্তন দরকার এ বিষয়ে গবেষণার ভিত্তিতে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। 

তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে পাঁচ শতাংশের কিছু বেশি স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর সঙ্গে আরও ২-৩ শতাংশ যুক্ত করে সেই বাড়তি বরাদ্দ যদি গ্রামাঞ্চলে বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহের বাজেট এবং সেবাকেন্দ্রে শূন্য পদে লোক নিয়োগ দিয়ে তাদের মজুরি ও বেতন বাবদ খরচ করা যায় তাহলে জনগণের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসবে।

এ সময় সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখানো হয়, এই হারে স্বাস্থ্য বরাদ্দ বাড়ানো গেলে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ে জনগণের অংশ ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৫১ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. আবু ইউসুফ বলেন, ঢাকাসহ কয়েকটি বড় শহরে যে মানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়, তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পাওয়া গেলে জনগণেরও ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তবে এজন্য বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করা দরকার। 

সম্মানিত অতিথি বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম বলেন, জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি সরকারের রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মধ্যে সুসমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি মনিটরিং জোরদার করার বিকল্প নেই।

টিআই

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক