‘চিকিৎসকরা গবেষণা করে ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসকরাও গবেষণা করতে পারেন তার প্রমাণ ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চিকিৎসক জীবনকোষ' নামের বইটি। যারা এই বইগুলো সংকলন করবে, তারাই ভবিষ্যতকে আরও অলংকারময় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসমে) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে 'মুক্তি যুদ্ধে শহীদ চিকিৎসক জীবনকোষ' গ্রন্থের (২য় সংস্ককরণ) মোড়ক উম্মোচন এবং আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিপসমও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কালে প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আজকের এইদিনে আমরা পর্দার পিছনে যারা থাকে তাদের কথা মনে করি না। শহীদ পরিবারের প্রত্যেকটা দিন কীভাবে চলে? কীভাবে তারা সন্তানদের মানুষ করছে, সে কথা আমরা ভাবি না। সে কথাই ভাবছে ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ।
তিনি বলেন, খুনির জাতি থেকে মুক্তি পেয়ে আমরা সম্মানিত হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যারা পুরুষ্কৃত করেছিল, তাদের বিচার হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি নিজ নিজ এলাকায় গরীব রোগীদের সেবা দেই, তাহলে কিন্তু অনেকেই উপকৃত হয়। তেমনিভাবে যুদ্ধাহত পরিবার যেগুলো রয়েছে তাদেরও একটু খোঁজ নিতে হবে। আজকে যারা বসতি হারানোর শঙ্কায় আছে, তাদের বসতির নিশ্চয়তা আমাদের দিতে হবে।
সকলকে গবেষণায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, চিকিৎসাকরাও যে গবেষণা করতে পারেন তার প্রমাণ এই বই। যারা এইগুলো সংকলন করবে, তারা ভবিষ্যতকে আরও অলংকারময় করতে পারবেন। দেশে ১৯৭১ সালে তিন হাজার ৮শ’ চিকিৎসক ছিলেন, বর্তমানে এক লাখ আট হাজার চিকিৎসক রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনে এক কোটি ২০ লাখ করোনা টিকা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াই ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সামনে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, আজকের দিন হচ্ছে শোক ও স্মৃতিময়। ইতিহাসকে মুছে দেওয়া যায় না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলেও ইতিহাস রয়ে যায়। যারা ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখে, তারাও সম্মানের পাত্র।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শহীদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাস্তার নামকরণের দাবি জানান শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চিকিৎসক জীবনকোষ’ (২য় সংস্করণ) গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, জাতিকে মুক্ত করতে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা রক্ত দিয়েছেন। তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধকে সহ্য করতে পারেননি, তারা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়েছে। এখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য পরাজিত শক্তি কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বিনষ্ট করার জন্য এখনও তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়েছে, তাদেরকে আমরা অনুভব করতে পারি। তাদের ঘটনাগুলো খুবই হৃদয়বিদারক, যা আজ আমরা এখান থেকে অনুভব করতে পারি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ না থাকলে এভাবে বই লেখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, যারা মেধাবী সন্তানদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছেন, তারা এই দেশের মানুষই। তাদের সন্তানরা এখনও বেঁচে আছেন। শক্রুরা এখনও পিছু হঠেনি। তারা এখনও রয়ে গেছে। ২০০৪ সালে তারাই গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।
এ সময় শহীদ চিকিৎসক পরিবারের উচ্ছেদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী যাচাই বাছাই জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চলান করেন নিপসমের শিক্ষক ডা. ক.ম. বায়জিদ আমিন ও ডা. উম্মুল খাইর আলম।