০১ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:১৮ এএম
বিশ্ব এইডস দিবস আজ

এইডসের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ইউনিসেফের উদ্বেগ

এইডসের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ইউনিসেফের উদ্বেগ
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘Putting Ourselves to the Test: Achieving Equity to End HIV’। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এইডস রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে ঘাতক ব্যাধি এইডস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এমন অবস্থাকে নজিরবিহীন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংস্থাটি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সারাবিশ্বে এইডস দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘Putting Ourselves to the Test: Achieving Equity to End HIV’। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়।

ইউনিসেফ সতর্ক করে বলছে, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখনও অনেক অঞ্চলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগের পর্যায়ের চিকিৎসা সুবিধা ফিরে আসেনি।

ইউনিসেফের শিশু, এইচআইভি ও এইডস সংক্রান্ত সর্বশেষ বৈশ্বিক স্ন্যাপশট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার শিশু ও কিশোর-কিশোরী (০-১৯ বছর বয়সি) এইডসজনিত কারণে মারা গেছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও তিন লাখ ১০ হাজার। ফলে ১৯ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখে উন্নীত হয়েছে।

ইউনিসেফের এইচআইভি-এইডস বিষয়ক সহযোগী প্রধান আনুরিতা বেইনস বলেন, ‘এইডসের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে পিছিয়ে আছে। তবুও গত তিন বছরে এ বিষয়ে যে স্থবিরতা দেখা গেছে, তা নজিরবিহীন। ফলে অনেক কম বয়সি মানুষ নতুন করে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছে।’

২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মাত্র সাত শতাংশ শিশু। শিশু ও কিশোরীরা এইডসজনিত কারণে মৃত্যু হয় ১৭ শতাংশ ও নতুন করে আক্রান্ত হয় ২১ শতাংশ। এই অবস্থায় ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এইডস নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব একটি বিষয় হয়ে উঠছে। এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর মোট সংখ্যা কমে গেলেও, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের আওতার মধ্যে থাকা চিকিৎসা সুবিধার বৈষম্য বাড়ছে। এই বৈষম্য সৃষ্টির পেছনে মূলত করোনা ভাইরাস মহামারি ও অন্যান্য বৈশ্বিক সংকট দায়ী করা হয়েছে। ২০২১ সালে দেখা যায় ৭৫ হাজারেরও বেশি শিশুর শরীরে নতুন সংক্রমণ ঘটেছে, কারণ এ সময় গর্ভবতী নারীদের রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা যায়নি।

১৯৮৮ সালে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটি এবং সে বছরই ১ ডিসেম্বরকে বিশ্ব এইডস দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এ দিবস পালনের সূচনা।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এইডস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও