২২ নভেম্বর, ২০২২ ০২:৩৪ পিএম

বিমানে চিকিৎসায় শিশুর জীবন রক্ষা: প্রশংসায় সিক্ত সিওমেকের ডা. জোবায়ের

বিমানে চিকিৎসায় শিশুর জীবন রক্ষা: প্রশংসায় সিক্ত সিওমেকের ডা. জোবায়ের
দিল্লিতে পাইলট রাহুল নায়েরের সঙ্গে ডা. আহমেদ জোবায়ের।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩২ হাজার ফিট উপরে উড়ছে দিল্লিগামী ভিসতারা এয়ারওয়েজের ইউকে ১৮২ নং ফ্লাইট। এমন সময় বিমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ছয় মাস বয়সী এক শিশু। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে বিমানের কেবিন ক্রু চিফ মেডিকেল ইমারজেন্সি ঘোষণা করে জানতে চাইলেন বিমানে কোন ডাক্তার আছেন কিনা। একই বিমানে দিল্লি যাচ্ছিলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেলের (সিওমকে) ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বাংলাদেশি চিকিৎসক আহমেদ জোবায়ের। কেবিন ক্রু চিফের আহ্বানে নিয়মানুযায়ী তখন বেল বাজিয়ে সাড়া দেন তিনি। পাইলটের কাছে নিজের পরিচয়পত্র প্রমাণ দিয়ে শিশুটিকে চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। দিল্লি পৌঁছানো পর্যন্ত চলতে থাকে চিকিৎসা সেবা।

এ বিষয়ে ডা. আহমেদ জোবায়ের মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ছয় মাস, এত কম বয়সের বাচ্চা নিয়ে তো আসলে বিমানে ভ্রমণ যায় না, আর তারা বিমান কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি আগে জানায়নি। আমি গিয়ে কিছু ওষুধের নাম শুনেই বুঝলাম যে শিশুটির ‘congenital heart disease’ (জন্মগত হৃদরোগ) ছিল। এরপরে আমি তাদের কাছে স্টেথোস্কোপ চাইলাম। কিন্ত মেডিকেল কিট বক্স খুলার আগে আমার পরিচয়পত্র পাইলট দেখতে চাইলেন। আমার ভিজিটিং কার্ড সাথে ছিলো বাংলায়। তারপর গুগল ড্রাইভ থেকে বিএমডিসি সার্টিফিকেট দেখাই। তারপর তারা মেডিকেল কিট বক্স খুলে স্টেথোস্কোপ দেয়।’

তিনি বলেন, ‘বিমান যখন ৩২ হাজার পাঁচশ ফিট উচ্চতায় উড়ছিলো, তখন শিশুটির ‘high altitude hypoxia’ (রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়া) হয়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে ৭০% হয়ে যায়। ওই সময় শিশুটির তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আমি গিয়ে শিশুটিকে চেক করি। অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করি। ধীরে ধীরে স্যাচুরেশন বাড়তে থাকে। বিমান কর্তৃপক্ষ আমাকে বাচ্চার পাশে বসার ব্যবস্থা করে দেয়।’

এটা নিজের জীবনে একটি স্বরণীয় ঘটনা উল্লেখ করে ডা. জোবায়ের বলেন, ‘ওই সময় বিমানে বেশিরভাগ মানুষই ছিল ভারতীয়। ঘটনার পর তারা আমাকে দাড়ায়ে স্যালুট দিলো এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলো এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। নিঃসন্দেহে এটা আমার জীবনে একটি স্বরণীয় ঘটনা এবং চিকিৎসক হিসেবে এরকম একটি মহৎ কাজের অংশীদার হতে পেরে আমি গর্বিত।’

এরকম ঘটনার মুখোমুখি হবেন আগে কখনো ভেবেছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক হিসেবে তো প্রায়ই বিভিন্ন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু বিমানে যে এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো এটা কখনো ভাবিনি। ওই ঘটনার পর পাইলট নিজেই আমার সাথে দেখা করার জন্য আহ্বান করেন এবং ককপিটে ডেকে নিয়ে গিয়ে আমার সাথে সেলফি তুলেন।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
স্বাধীনতা পদক ২০১৭ প্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
বাংলাদেশের গাইনী এবং অবসের জীবন্ত কিংবদন্তী

স্বাধীনতা পদক ২০১৭ প্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি এ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী