২২ নভেম্বর, ২০২২ ০৯:৫৮ এএম

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬২

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬২
সিয়ানজুরে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি কিন্ডারগার্টেনের ধ্বংসস্তুপ। ছবি: রয়টার্স

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ। দেশটির আঞ্চলিক গভর্নর রিদওয়ান কামিল এই তথ্য জানান। খবর বিবিসির।

মার্কিন ভূতত্ত্ব জরিপ বিভাগ বলছে, সোমবার (২১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১টা ২০মিনিটের দিকে চিয়ানজুরের ১০ কিমি ভূগর্ভে ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়ও ভূকম্পন বেশ জোরেই অনুভূত হয়। চিয়ানজুর থেকে জাকার্তার দুরত্ব প্রায় ১০০ কিমি। এ সময় রাজধানীর উঁচু ভবনগুলো থেকে আতঙ্কে মানুষজন ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসে। মূল ভূমিকম্পের পর ছোট একাধিক ভূকম্পন হতে পারে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে কর্মকর্তারা সাবধান করেন।  
 
চিয়ানজুরের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হারমান সুহারমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পরপর কমপক্ষে ৪৬ জন মারা যান। অনেক জায়গা থেকে নতুন নতুন মরদেহ এবং আহত মানুষজন নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

বার্তা সংস্থা এএফপি তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, দুর্গত গ্রামগুলো থেকে আহত-নিহতদের নিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আসছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে বিধ্বস্ত বহু বাড়িঘর এবং দোকানপাট দেখা গেছে। বিধ্বস্ত ভবনগুলোর মধ্যে একটি হাসপাতাল এবং একটি আবাসিক মাদ্রাসাও রয়েছে।

ভূমিকম্পে চিয়ানজুর বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। হেরমান সুহেরমান বলেন, ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে কুজেনাং এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) বলেছে, ভূমিকম্পে ২ হাজার ২০০টির বেশি বাড়ি ধসে পড়ায় ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পের কারণে ১৩ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে গভর্নর রিদওয়ান বলেছেন, এসব মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি অন্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। দেশটির অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ জোনে হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা দেখা যায়। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটিতে বড় ধরনের প্রাণহানিও ঘটে থাকে।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া এমনিতেই একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ২০১৮ সালেও ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে সুলায়েসি দ্বীপে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও