০৮ অক্টোবর, ২০২২ ১২:৩৯ পিএম

সেবাগ্রহীতা সচেতন না হলে অনেক সমস্যা সমাধান হবে না: কুমিল্লার সিভিল সার্জন

সেবাগ্রহীতা সচেতন না হলে অনেক সমস্যা সমাধান হবে না: কুমিল্লার সিভিল সার্জন
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় একটু বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ জন্য মানুষ বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে ভিড় করেন।

কুমিল্লা জেলার স্বাস্থ্যখাতের পরিবর্তনে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন। পৌনে দুই বছরে স্বাস্থ্য বিভাগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে জেলায় সাড়া ফেলে দেন তিনি। হাটহাজারী উপজেলার মীরেরখিল গ্রামের এ কৃতি সন্তান চট্টগ্রাম কলেজ (১৯৯৩ ব্যাচ) থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকেই স্বাস্থ্যসেবার সনদ গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে ২৫তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, ছোট বেলা থেকে ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত ডা. মোবারক।

জীবনের প্রতিটি ধাপে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ এ চিকিৎসকের কর্মক্ষেত্রে বিচরণ ও জীবন নিয়ে জানতে মেডিভয়েস স্টুডিওতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে উঠে আসে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা ও নিজের ভূমিকাসহ নানা বিষয়। মেডিভয়েস পাঠকদের জন্য কথোপকথনের পুরো অংশটি তুলে ধরা হলো।

মেডিভয়েস: দুটি বিশেষ বিসিএসসহ কয়েক দফায় ব্যাপক সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ পেয়েছেন, এতে তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবায় কাঙিক্ষত পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: অবশ্যই মনে করি। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কোভিডের আগে এবং পরে এই ব্যাপক সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ না দিলে আমাদের পক্ষে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করা হয়ত সম্ভব হতো না। কোভিডকালীন সারাবিশ্বেই বাংলাদেশের করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রশংসিত হয়েছে। তবে শুধু চিকিৎসক বা নার্স নিয়োগ দিলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থপনার আমূল পরিবর্তন হবে না। এর বিশাল অংশ জুড়ে অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীরাও জড়িত আছেন। বিশেষ করে আয়া, বুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবল আমাদের  প্রয়োজন রয়েছে। এসব পদে শূন্যতার কারণে কিছুটা হলেও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে।

মেডিভয়েস: এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: আমরা বরাবরের মতোই সব সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দিচ্ছি। আমাদের ইচ্ছাও আছে। কোভিড পরবর্তীকালীন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ দিচ্ছে।

মেডিভয়েস: আপনার জেলার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার মানোন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ সবাই আমরা একযোগে কাজ করছি। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সুনাম আপনারা দেখেছেন। সেটা ধরে রাখতে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কুমিল্লা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগও পিছিয়ে নেই। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমরা কিছু উদ্ভাবনীমূলক কাজও হাতে নিয়েছি।

বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় জেলা কুমিল্লা। এই জেলায় ১৭টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলোতে কোথায় কাজ করলে স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং মানুষ খুশি হবেন, সেটি বিবেচনা করে আমরা জায়গাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে আমাদের প্রথম কাজ ছিল নবীন চিকিৎসকদের তৈরি করা এবং নার্সদের মধ্যেও যাতে সেবাধর্মী মানসিকতা থাকে, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমি দফায় দফায় বৈঠক ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়াও মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের তদারকি করার জন্য আমাদের মেডিকেল অফিসারদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নবীন চিকিৎসকরা সাধারণত মেডিকেল চিকিৎসার সাথে জড়িত, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার বিষয়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে সেভাবে দেখানো বা পড়ানো হয় না। এ জন্য কুমিল্লায় নবীন চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা বা স্বাস্থ্য সেবা কিভাবে মাঠ পর্যায় পৌঁছানো যায়, সে কাজটা আমরা করার চেষ্টা করছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসকরা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।

এ ছাড়াও আমাদের একটা স্কুল হেলথ স্বাস্থ্য সেবা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং স্কুল শিক্ষার্থীরা কিভাবে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে এই সেবা পৌঁছাতে পারে, সে জন্য কাজ অব্যাহত আছে।

কুমিল্লা জেলাতে আমরা পুষ্টি সেবার জন্য বিভিন্ন স্কুলে হেলথ ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছি এবং আমাদের চিকিৎসকরা ক্লাবগুলোতে এসে বাচ্চাদেরকে স্বাস্থ্য টিপস দিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও কুমিল্লার প্রতিটা উপজেলায় হেলথ কমপ্লেক্স আছে, এগুলোতে সিজারিয়ান সেকশনও রয়েছে। অন্যান্য যে সার্জিক্যাল প্রসিডিউরগুলো আছে, সেগুলোকে শতভাগ করার চেষ্টা করছি। এই কাজগুলো চলমান আছে এবং এসব কাজের গ্রাফট উপরের দিকেই আছে।

মেডিভয়েস: স্থানীয়ভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরও রোগীদের ঢাকামুখিতা কমছে না। এ ধারা বন্ধে কী কী প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে? এলাকামুখিকরণে করণীয় জানতে চাই।

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: বর্তমান সময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়ে একটা প্রচারণার প্রয়োজন আছে। বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এমন জায়গায় গিয়েছে, যেখানে আপনি উপজেলা পর্যায়েও কনসালটেন্ট এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাবেন। তবে মানুষের ধারণা, ঢাকায় গেলে মনে হয় ভালো চিকিৎসক পাবো। সবাই নামকরা চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার চিন্তা করেন।

তবে আমাদের যে ধরনের প্রচার-প্রচারণাগুলো আছে, তাতে উপজেলা বা জেলায় পর্যায়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আস্থাশীল করা যায়নি। ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে বলি, কুমিল্লাতে কয়েকটি মেডিকেলে বেশ কিছু ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ব্যবস্থাপনা আছে, কিন্তু দেখা যায় একজন রোগী কুমিল্লায় আইসিইউতে একদিন বা দুইদিন থাকার পর স্বজনরা ঢাকায় স্থানান্তর করার চেষ্টা করেন। কারণ, তারা মনে করেন কুমিল্লায় আইসিইউ ব্যবস্থপনা মানসম্মত নয়, ঢাকায় গেলে ভালো সেবা পাবেন।

কিছু কিছু চিকিৎসার জন্য অবশ্যই ঢাকায় আসার প্রয়োজনীয়তা আছে, কিন্তু সব ধরনের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসার প্রয়োজন নেই। এক সময় হার্টের চিকিৎসার জন্য মানুষ ভারত যেতেন, এখন বাংলাদেশে হার্টের চিকিৎসায় অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সুতরাং মানুষের আস্থার জায়গাটা যতক্ষণে তৈরি না হবে, ততক্ষণে মানুষের ঢাকামুখিতা থামবে না। এখানে প্রচার-প্রচারণা একটা বিশাল ভূমিকা পালন করে।

মেডিভয়েস: রোগীদের ঢাকামুখী স্রোত ঠেকাতে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাই।  

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: আমাদের দেশে দুইভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। সরকারি চিকিৎসা আর প্রাইভেট চিকিৎসা সেবা। আমাদের দেখতে হবে যে, প্রাইভেট চিকিৎসা কিভাবে হচ্ছে আর সরকারি চিকিৎসা কিভাবে হচ্ছে। এই জায়গাগুলোতে আমাদের ভাবনার বিষয় আছে। দেখতে হবে মানুষকে কারা মোটিভেট করছে। আপনারা জানেন, বিশাল একটা দালাল চক্র আছে। যারা মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করে ঢাকা ছাড়া ভালো চিকিৎসা হবে না। এই জায়গাগুলো যদি আমরা ঠিক মতো চিহ্নিত করতে না পারি, তাহলে ঢাকামুখিতা ঠেকানো যাবে না। আমাদের চিকিৎসকদেরও সেবার ক্ষেত্রে পজিটিভ মানসিকতা থাকতে হবে, যাতে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পায়।

মেডিভয়েস: বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে মানুষ কেনো বেশি ভিড় করছেন?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: সারাদেশে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, এর মধ্যে নাম করা কিছু প্রতিষ্ঠান বাদ দিলে বাকি সকল প্রতিষ্ঠান সরকারি হাসপাতাল কেন্দ্রিক। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পেতে বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় একটু বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের দেশের মানুষের চিন্তা-ভাবনা হলো-দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসা দরকার। এ জন্য তারা বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে ভিড় করেন।  অথচ দেশের সকল জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সরকারি হাসপাতাল করে থাকে। অবশ্য দায়সারাভাবে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালও জরুরি চিকিৎসা প্রদান করে।

জরুরি চিকিৎসা যদি সরকারি হাসপাতালে ভালো হয়ে থাকে, তাহলে অন্যান্য চিকিৎসাও ভালোভাবে হয়। সরকারি হাসপাতালে গেলে দুইদিন বা তিনদিন সময় লেগে যাচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে গেলে লাগছে না। এ চিন্তা করে মানুষ বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটছে। আবার সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকে, এ সুযোগে যারা বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ব্যবসা করেন তারা সরকারি হাসপাতাল থেকে কিছু পরিমাণ রোগী কিভাবে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাবে সে চিন্তা করে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যেও একটা অংশ আছে যারা এটার জন্য দায়ী বলে আমি মনে করি।

মেডিভয়েস: এসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আপনার কোনো তৎপরতা আছে? 

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: যতক্ষণ পর্যন্ত সেবাগ্রহীতা সতর্ক না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধান হবে না। কারো পক্ষে আসলে ওয়ান টু ওয়ান ঘটনা চিহ্নিত করা সম্ভব না। হতে পারে দুইটা বা পাঁচটা ঘটনা চিহ্নিত করতে পারি, কিন্তু শতভাগ সম্ভব না। বিশ্বের উন্নত দেশের দিকে যদি আমরা খেয়াল করে দেখি, সেখানে কিন্তু রুটিন চিকিৎসার জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় একমাস থেকে তিন মাসও অপেক্ষা করতে হয়। আর আমাদের দেশের মানুষ কিন্তু এই রুটিন চিকিৎসার ক্ষেত্রে দুই-চার দিন অপেক্ষা করতে চান না। এখানে এক ধরনের প্রচারণাও আছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সচেতনতার জন্য রাষ্ট্রকে প্রচার কাজ করতে হবে।

মেডিভয়েস: এ বিষয় রাষ্ট্রকে আপনাদের তরফ থেকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কিনা?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: এখানে আমাদের পরামর্শ আছে। প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, কিভাবে সরকারি হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানো যায়। সরকারি হাসপাতালে সেবার মান বাড়লেই প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

মেডিভয়েস: তৃণমূলে সরকারি হাসপাতালে সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট, কিডনি, হার্ট ও ব্রেইনসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসায় সীমাবদ্ধতা আছে, উত্তরণে আপনার পদক্ষেপ জানতে চাই।

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: আপনি যে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার কথা বলছেন, এগুলোর বিষয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। সকল চিকিৎসা সব জায়গায় দেওয়ার অনুমতি নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি আছে। এ ছাড়া স্পেশালাইজড হাসপাতালগুলোতে (জাতীয় হৃদরোগ ও কিডনি ইনস্টিটিউট) বিষয় ভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি আছে। যদি কুমিল্লা সদর হাসপাতালের দিকে খেয়াল করি, সেখানে কিন্তু একটা লেভেলের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বাইরে আমরা অন্য চিকিৎসা দিতে পারি না। আবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল অনেক ধরনের সার্ভিস দেওয়ার সুযোগ আছে এবং দেওয়া হয়।

মেডিভয়েস: কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, আপনার জেলার চিত্র নিয়ে বলুন।

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: আপনি এই বিষয়টা কোথায় পেয়েছেন, তা আমি জানি না। তবে কুমিল্লা জেলার বাস্তবতা পুরোটাই ভিন্ন। কুমিল্লা জেলাতে এই ধরনের ঘটনা নাই বললেই হয়। আমাদের চিকিৎসকরা যথাযথভাবে সেবা প্রদান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে দেখবেন কুমিল্লা জেলার উপজেলা পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা বা সেবার চাহিদা এবং সেবা প্রদানের যে ডাটা আছে, তার প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা উন্নতি করে যাচ্ছি।

সুতরাং আমাদের চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকে বলেই তো আমরা সেবা দিতে পারছি। কুমিল্লা জেলার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে রোগী গেলে কোনো ওষুধ কিনতে হয় না। কারণ, আমরা মনে করি, মানুষটা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হঠাৎ করে আসলে তার পকেটে তো টাকা নাও থাকতে পারে। সেদিক বিবেচনা করে জরুরি বিভাগে রোগী আসলে ইসিজি থেকে শুরু করে সবকিছু আমরা বিনামূল্যে বহন করছি। একই সাথে রোগী যখন রেফার হয় তখন আমরা এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জিনিসি আমরা করছি। আমার প্রতিটা উপজেলাতে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চলমান আছে।

মেডিভয়েস: আপনারা কত প্রকার ওষুধ দিচ্ছেন?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: ইমারজেন্সি লেভেলে যেকোনো প্রয়োজনীয় ওষুধ আমরা দিচ্ছি। উপজেলা লেভেলে হার্টের চিকিৎসা হওয়া সম্ভব না, কিন্তু প্রাথমিক একটা চিকিৎসা দেওয়া দরকার এবং রোগীকে এই চিকিৎসা দিয়ে রেফার করা দরকার। রেফার করার টাইম পর্যন্ত রোগীর যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ আমরা দিচ্ছি।

মেডিভয়েস: স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন? সমাধানে গৃহিত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরুন।

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। যেমন-প্রশাসনিক ও যন্ত্রপাতির সমস্যা। অনেক সময় চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি কার্যকর থাকে না। মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে দেখে একটা যন্ত্র আছে, কিন্তু কার্যকারিতা নেই। এ অবস্থায় আমরাও মানুষকে সেবা দিতে পারছি না। যেকোনো সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সময়ের প্রয়োজন হয়।

ধরেন একজন মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলো। তিনি জানতেন এখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। যেকোনো কারণে হঠাৎ করে যদি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। অবশ্য বন্ধ হওয়ার পিছনে কিছু কারণ রয়েছে। যেমন-আলট্রাসনোগ্রাফি করার রেডিওলোজিস্ট যদি না থাকেন, মেশিনটা কোনো কারণে নষ্ট থাকলে অথবা জেনারেটর ভালো না থাকলে। এসবের কারণে সেবাগ্রহীতারা হতাশ হয়। একই সাথে তাদের হাসপাতাল সম্পর্কে নেগিটিভ ধারণা হবে।

একটা সেবা যখন আমরা চালু করি, সেই সেবাটা মানে পৌঁছাতে ও সবাইকে জানাতে দুই থেকে তিন বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ড্রপ হতে সময় লাগে না। একটি পরীক্ষার জন্য মেশিন ঠিক রাখার বিষয়, মেশিন পরিচালনাকারীর উপস্থিত থাকার বিষয় ও নিরবিচ্ছিন্ন ইলিকট্রিসিটির বিষয় জড়িত। এসবের কোনো এক জায়গায় যদি ড্রপ হয়, তাহলেই সমস্যা শুরু হয়ে যায়। আমরা যারা এসব জায়গায় আছি তাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। আমরা চাইলেও নিজেরা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারের এই ম্যাকানিজমে পরেরদিনই মেশিন ঠিক করতে পারি না। এসব ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ম্যাকানিজম ফলো করতে হয়। এতেই সময় লেগে যায়। আর যন্ত্রপাতি বা মেশিন পরিচালনায় যে থাকে, তিনি যদি বদলি হয়ে যায়, তাহলে তাকে ফেরত পেতেও একটা সময়ের বিষয় আছে।

এ ছাড়াও যারা সেবা গ্রহণ করে তাদের কাছ থেকেও কিছু সমস্যার সম্মুখিন হই আমরা। যেমন-আমাদের দেশে একজন রোগীর সঙ্গে পাঁচ থেকে সাতজন এসে হাসপাতালে হাজির হয়। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হয়। আর এসব পদে জনবল সংকট আছে। যার জন্য আমরা চাইলেও যখন অনেক বেশি মানুষজন চলে আসে, তখন হাসপাতাল পরিস্কার রাখা সম্ভব হয় না। একটা হাসপাতালের আউটডোরে যদি প্রতিদিন সকালে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী আসে তাদের প্রত্যেকের সাথে আবার এক দুইজন করে স্বজন আসে। অর্থ্যাৎ ৩০০ বা ৪০০ রোগীর সাথে আবার সমপরিমাণ লোক যোগ হয়ে যায়। আর যেসব হাসপাতাল ৮০০ বা এক হাজার রোগী আসে,তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিস্কার না করলে গন্ধ আসবে। এই জায়গাগুলোতে মানুষের সতর্ক হওয়ার বিষয় আছে। সব মিলিয়ে আমি বলব কিছু কিছু বিষয় আমাদের সমাধান করা সম্ভব, আর কিছু কিছু বিষয়ে নিয়ে রাষ্ট্রের আরও চিন্তা করার আছে।

মেডিভয়েস: মাঝে মাঝে রোগীর স্বজনদের কাছে চিকিৎসক লাঞ্ছিত হয়, এক্ষেত্রে কী কী কারণ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: মা-বাবা বা আত্মীয়স্বজন মারা গেলে তখন কিছুটা হলেও দুর্বল থাকেন স্বজনরা। আর এ দুর্বলতা সব সময় আরেক জনকে দোষ দেওয়ার চেষ্টা করে। দোষ দেওয়ার মধ্যে আমাদের শান্তি আছে যে,অমুকের কারণে মানুষটা মারা গেলো। এ ধরনের একটা দোষ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করি সব সময়। একজন চিকিৎসকের কোনো দোষ না থাকার পরেও এই ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। যেমন-আমাদের মেঘনা উপজেলাতে একটা ঘটনা ঘটেছে। একজন বয়স্ক রোগীকে হাসপাতাল নিয়ে আসার পর প্রয়োজনীয় সব কিছুই করা হয়েছে, কিন্তু জীবন-মরণের বিষয়টা চিকিৎসকের হাতে না, এটা মহান সৃষ্টি কর্তার হাতে। মানুষকে বাঁচাতে আমরা চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু একদম বাঁচাতেই পারব বিষয়টা এমন না। সেখানে ওই লোকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর মানুষ হামলা করেছে। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমাজের সবার এগিয়ে আসা উচিত। এজন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে যে, হাসপাতালে গেলেই রোগী সব সময় বেঁচে যাবে বা হাসপাতালে গেলেই ভুল চিকিৎসা হয় এই জিনিসগুলো কোনোটাই ঠিক না। আরেকটা বিষয় হলো-রোগীদের অভিযোগগুলোর বিষয় ব্যবস্থাপনা করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা আমরাও সে অর্থে তৈরি হয়ে উঠেনি। এ জন্য চিকিৎসকদের সম্পর্কে রোগীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, কারো কাছে বিচার দিলে বিচার পাবো না। এক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টর জায়গা থেকে আরও সচেষ্ট হওয়া উচিত।

মেডিভয়েস: কর্মস্থলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আইনের কথা আমরা বার বারই শুনেছি। এ বিষয়ে আপনাদের তরফ থেকে উর্ধ্বতন মহলে কোনো বার্তা দিয়েছেন কিনা?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: এই আইন আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি। চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। সকল স্বাস্থ্য কর্মীর নিরাপত্তার জন্য আইনটা খুবই জরুরি। কোনো চিকিৎসক ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীর খারাপ কিছু করে বলে এটা আমি বিশ্বাস করি না। কোনো কারণে চিকিৎসকরা যেনো অনাকাঙিক্ষত ঘটনা সম্মুখীন না হন, এজন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে।

মেডিভয়েস: একজন রোগী যদি ভুল চিকিৎসায় মারা যায়,তাহলে অভিযোগটা কোথায় করবে?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: রোগীরা ভুল চিকিৎসার শিকার হলে সেটা থেকে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। নন কনভেনশনাল চিকিৎসকের কাছ থেকে মানুষ ভুল চিকিৎসার শিকার হয়। নন কনভেনশনাল চিকিৎসকের কাছ থেকে ভুল চিকিৎসা নিয়ে যখন একজন এমবিবিএসের কাছে আসে, তখন কিন্তু  চিকিৎসকের তেমন কিছু করার থাকে না। আর চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ দায়ের করেন, তদন্তের সময় তারা আসেন না। এ জায়গায় আমরা বিশাল একটা সমস্যার মধ্যে পড়ি। আরেকটা বিষয় হলো-অভিযোগ দায়েরকারীরা আসলেও বলে, আমাদের মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। এ জন্য অনেক সময় কিছুই করা যায় না।

মেডিভয়েস:  প্রান্তিক পর্যায়ে রোগী সেজে ওষুধ নিতে আসার একটি অভিযোগ শোনা যায়, এটি প্রতিরোধে আপনার উদ্যোগ কি?

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: হাসপাতালের আশেপাশে যাদের বাড়ি কিছু দিন পর পর কিছু ওষুধ তাদের প্রয়োজন হয়। হয়তো ওষুধগুলো নিয়ে বাড়িতে জমা রাখে। তাদের ধারণা কিছু ওষুধ বাড়িতে রাখলে প্রয়োজনের সময় কাজে লাগবে। তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের চেম্বারের পিছনে লেখার চেষ্টা করছি, ওষুধ একটি বিষ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না। সতর্কতার জন্য চিকিৎসকদের বলছি, প্রেসক্রিপশনে লিখে দিবেন যে পরামর্শ ছাড়া আপনার কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নাই। অনেকে মনে করেন পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখালাম, তিনি কিছু টিপস আর লিখে দিলেন বেশি করে পানি খাবেন। এটাকে চিকিৎসা হিসেবে নিতে চায় না। অথচ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় শুধু ওষুধ দেওয়া নয়, স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শও একটা চিকিৎসা। এটা মানুষকে বুঝাতে একটা দীর্ঘ সময় লাগবে।

মেডিভয়েস: দেশের স্বাস্থ্যখাত ঘিরে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাই। 

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: বাংলাদেশের সকল মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিবে। দেশে কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল থাকবে না। সেই সরকারি হাসপাতালগুলো এমন মানের হবে যে, দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারবে। এমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার স্বপ্ন আমি দেখি। একই সঙ্গে দেশের প্রাইমারি হেলথ কেয়ার আরও বেশি শক্তিশালী হওয়া দরকার। এতে অনেক বেশি মানুষের হাসপাতালে আসা লাগবে না। অনেকে বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

মেডিভয়েস: আপনার শৈশব ও কৈশোরের গল্প শুনতে চাই। 

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: চট্টগ্রামের হাটাজারি উপজেলার মীরেরখিল গ্রামে আমার জন্ম। গ্রামের নামের সঙ্গে আমার নামের একটা মিল আছে। খেলাধুলা আর দুষ্টামির মধ্য দিয়েই বড় হয়েছি। ছোট বেলা বাবাকে খুব ভয় পেতাম। এখনও বাবাকে ভয় পাই। আমার বেড়ে উঠার পিছনে বাবার অনেক অবদান আছে। ছাত্রজীবনে পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিলাম। ভালো ছাত্র হিসেবে সবাই চিনতো, কিন্তু সেই অর্থে ভালো রেজাল্ট করা হয়ে উঠেনি।

আমাদের সময়ে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হতে অনেক প্রতিযোগিতা ছিল। চট্টগ্রাম কলেজে সুযোগ পাবো না বলে আরেকটা কলেজে ভর্তি হয়ে গেছি। আবার দেখি চট্টগ্রাম কলেজেই চান্স পেয়ে গেছি। নিজের উপর কনফিডেন্স ছিল না। অনেকেই বলতো, তোমার কপাল ভালো বলে বিভিন্ন জায়গায় চান্স পেয়ে যাও। মেডিকেল কলেজে ভর্তির সময়ও একই রকম অবস্থা। আমার বন্ধু আর আমি বলতাম, মেডিকেল কলেজে পড়ার কি সুযোগ হবে। অবশ্য মেডিকেল কলেজে পড়ার খুব একটা ইচ্ছাও ছিল না। আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারলে আমি অনেক বড় মনের মানুষ হতাম। এখনও ভাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারলে অনেক মানুষের সাথে মিশতে পারতাম, মানসিক দিকগুলো পরিবর্তন হতো। এজন্য আমি ঢাবিতে পড়তে চেয়েছিলাম, কিন্তু বাবা আমাকে পড়তে দেননি। এরপর সিলেট মেডিকেলে কেমন করে যে চান্স পেলাম, তাও জানি না। সে অর্থে মেডিকেলে যে খুব ভালো রেজাল্ট করেছি এমন না।

মেডিভয়েস: অসংখ্য গণমাধ্যমের ভিড়ে মেডিভয়েস স্বাস্থ্য খাতের কথা বলে। আপনার মূল্যায়ন শুনতে চাই।

ডা. মীর মোবারক হোসাইন: আমি মেডিভয়েসের নিউজ পড়ি। মেডিভয়েস চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীদের যে মেলবন্ধন করে দিচ্ছে, এটা ভবিষ্যৎ চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী একটা বিষয় হবে বলে আমি মনে করি। মানুষ যত বেশি মেডিভয়েসকে গ্রহণ করবে, চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে দূরত্ব তত কমে আসবে। মেডিভয়েসের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।

এএইচ/এমইউ

 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : সাক্ষাতকার
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক