২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৩:১৮ পিএম

‘সামাজিক নেতিবাচকতার কারণে মানসিক রোগীরা চিকিৎসা নিতে চায় না’

‘সামাজিক নেতিবাচকতার কারণে মানসিক রোগীরা চিকিৎসা নিতে চায় না’
সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন বা স্টিগমার দুষ্টচক্রের প্রভাবের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতাও মানসিক রোগীদের চিকিৎসা না নেওয়া জন্য দায়ী।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মানসিক রোগের ক্ষেত্রে মানুষ কেন চিকিৎসা নিতে চায় না, তার উত্তর মিলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপী ইউনিটের আটজন গবেষকের করা এক গবেষণায়।

গবেষণা জরিপে দেখা যায়, মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিদের সম্পর্কে নেতিবাচক মূল্যায়ন, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়, চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা, ব্যয়বহুলতা, অন্ধবিশ্বাস, লিঙ্গভিত্তিক সমস্যার কারণে মানসিক রোগীরা চিকিৎসা নিতে চায় না। 

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপী ইউনিট, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশন ও ডিজেবল চাইল্ড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সেমিনারে বলা হয়েছে, মানসিক প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্তদের চিকিৎসা না নেওয়ার পেছনে দায়ী সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। এছাড়া সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন বা স্টিগমার দুষ্টচক্রের প্রভাবের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেটসহ মোট ৮টি বিভাগে গবেষণা করা হয়। দেশের কিশোর-কিশোরী (বয়সসীমা ১২ থেকে ১৭ বছর) এবং প্রাপ্তবয়স্ক (বয়সসীমা ১৮ এবং এর ঊর্ধ্বে) ব্যক্তিদের ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা ছিলেন- যাদের মানসিক সমস্যা আছে, যাদের মানসিক সমস্যা নেই এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবী। সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। যাদের মানসিক সমস্যা নেই-এই নমুনা শ্রেণিতে অন্তর্ভূক্ত ছিল সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের লোকজন এবং সমাজের মানুষজন।

স্বাস্থ্য পেশাজীবী এবং সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়া এই নমুনা শ্রেণিতে ছিল মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী (যেমন, সাইকিয়াট্রিস্ট, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিক নার্স) এবং অন্য বিভাগের স্বাস্থ্য পেশাজীবী (যেমন, সাধারণ চিকিৎসক, নার্স, কবিরাজ, পল্লী চিকিৎসক ইত্যাদি)। গবেষাণায় দলভিত্তিক জরিপে বিভিন্ন পেশার ১৯৩ জন এবং ২৩ জন পেশাজীবীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক এডিডি ইন্টারন্যাশনালের চিফ এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা মিজ ম্যারি এ্যান ক্লেমেন্টস।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত