১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০২:৫২ পিএম

ঢাবি ফাইনাল প্রফে দ্বিতীয় হবেন, এমনটা ভাবেননি ডা. সাফায়ার স্বজন

ঢাবি ফাইনাল প্রফে দ্বিতীয় হবেন, এমনটা ভাবেননি ডা. সাফায়ার স্বজন
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে নিয়মিত ও ভালো ছাত্রদের একটু দায়িত্ব নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৭৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাফায়ার স্বজন। তবে এমন দারুণ ফলাফলের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। রেজাল্ট পেয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত হয়েছেন এ নবীন চিকিৎসক। 

শিক্ষা জীবনে ধারাবাহিকভাবেই মেধা তালিকায় স্বাক্ষর রেখে আসছেন তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও পেয়েছেন জিপিএ-৫। রাজধানীর সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নটরডেম কলেজ থেকে ২০১৬ এইচএসসি পাস করেছেন এ মেধাবী মুখ। পরবর্তীতে ২০১৬-১৭ সেশনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ৪৪তম স্থান অর্জন করেছিলেন এ কৃতি শিক্ষার্থী।

নবীন চিকিৎসক সাফায়ার স্বজনের সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের। আলাপচারিতায় উঠে আসে তার সফলতার পেছনের গল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: আলী হোসাইন।

মেডিভয়েস: আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

ডা. সাফায়ার স্বজন: আমি এ রকম দারুণ ফলাফল আশা করিনি, রেজাল্ট দেখে অবাক হয়েছি-তবে আমি খুব আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত। এ ভালো ফলাফল আমাকে অনেকদূর এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। আমার এ সাফল্যে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খীরা অনেক আনন্দিত হয়েছে। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি পরিবার, বন্ধু ও শিক্ষকদের প্রতি। তারা সমর্থন না করলে এতদূর আসা যেতো না।

মেডিভয়েস: কার অনুপ্রেরণায় এ পর্যন্ত আসা?

ডা. সাফায়ার স্বজন: আমি যখন নবম শ্রেণিতে জীব বিজ্ঞান পড়তাম, তখন থেকে মানবদেহের বিষয়গুলো খুবই ইন্টারেস্টিং মনে হতো। মনে ইচ্ছে জাগতো চিকিৎসক হওয়ার। এ ছাড়া আম্মু প্রায়ই বলতেন, তুমি চিকিৎসক হলে খুব ভাল করতে পারবে। আম্মুর কথা শুনে অনুপ্রাণিত হই। আম্মু আমার চিকিৎসক হওয়ার প্রেরণার উৎস।

মেডিভয়েস: কেমন ছিলো মেডিকেলের দিনগুলো?

ডা. সাফায়ার স্বজন: আসলে এমবিবিএসে ভর্তি হওয়ার পর শুরুটা সুখকর ছিল না। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি, তাই প্রত্যাশার জায়গা বেশি ছিলো। যখন মেডিকেল ক্লাস শুরু করি তখন প্রত্যাশার চেয়ে সব কিছু ভিন্ন মনে হয়েছে। তবে সহপাঠী ও শিক্ষকরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। যার কারণে, পরিবেশটা সহনীয় হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে সব কিছুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি।

মেডিভয়েস: পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কৌশল সম্পর্কে জানতে চাই।

ডা. সাফায়ার স্বজন: ক্লাসে লেকচার নিয়মিত শুনতাম। ওয়ার্ডে নিয়মিত ছিলাম। মূলবই ধরে ধরে পড়েছি। একাডেমিক যে কোনো প্রয়োজনে বন্ধু ও সিনিয়রদের সহযোগিতা নিতাম। যখনই নক করতাম বন্ধু ও ক্যাম্পাসের সিনিয়ররা খুবই সহযোগিতা করতো। ভালো করার জন্য কঠোর অধ্যাবসায় ও নিয়মিত প্রচেষ্টা করেছি।

মেডিভয়েস: বেশি মুখস্ত করতে পারলে পরীক্ষায় ভালো করা যায়?

ডা. সাফায়ার স্বজন: বেশি মুখস্ত করতে পারলে ভালো করতে পারবে এ ধারণা সঠিক নয়। বুজে শুনে পড়াশোনা করতে হবে, তবে কিছু বিষয় আছে মুখস্ত করতে হয়। বুঝে পড়লে খুব বেশি মুখস্ত করতে হয় না। একবার একটি বিষয় বুঝে গেলে মাথায় ধারণা তৈরি হয়ে যায়, কিন্তু মুখস্ত করলে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মেডিভয়েস: অকৃতকার্যদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

ডা. সাফায়ার স্বজন: ফাইনাল প্রফে উত্তীর্ণ একটি ভাগ্যের বিষয়। এখানে অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে পরীক্ষা দিতে হয়। এজন্য একসঙ্গে অনেক নলেজ মাথায় রাখতে হয়। পরীক্ষার একটি অংশ খারাপ হলে রেজাল্ট খারাপ হয়ে যায়। এজন্য পড়াশোনায় মনোযোগি হতে হবে। প্রতিটি বিষয় ধরে ধরে পড়তে হবে।

মেডিভয়েস: একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী হতাশায় ভুগার কারণ কী?

ডা. সাফায়ার স্বজন: মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিপথগামী হওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ, এখানে অনেক বেশি পরীক্ষা ও লেখা পড়ার চাপ থাকে। পরীক্ষা খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু যারা মেডিকেলে পড়ে তারা অনেক মেধাবী। তারা খারাপ রেজাল্টে অভ্যস্ত নয়। মেডিকেল এসে যখন খারাপ রেজাল্ট করে, তখন হতাশায় ভুগতে থাকে। অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে মেডিকেলের শুরু থেকে একজন রিডিং পার্টনার যোগাড় করতে হবে। পড়াশোনা করার জন্য অনেক সহজ হবে। আর একটি কথা মনে রাখতে হবে, এ রেজাল্টই শেষ না। বেঁচে থাকলে আরো অনেক কিছু করতে পারবে। অন্যরা কি বলছে, তাতে কান দেওয়া যাবে না। যারা নিয়মিত ও ভালো ছাত্র আছে, তাদের একটু দায়িত্ব নিতে হবে। যেমন: পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সাহায্য করা। তাদের খোঁজ খবর নেওয়া। মানসিক সাপোর্ট দেওয়া।

মেডিভয়েস: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।

ডা. সাফায়ার স্বজন: আমি ইন্টার্নশিপ খুব ভালোভাবে শেষ করতে চাই। ইন্টার্নশিপে অনেক কিছু শিখতে হবে। আমি একজন আদর্শ চিকিৎসক হবো। দেশের মানুষের যে কোনো প্রয়োজনে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সবসময় পাশে থাকতে চাই। তা ছাড়া, দেশে মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থায় আমার মনে হয় কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।

শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপে অভাবনীয় সাফল্য ধরা দিয়েছে তার কাছে। নবীন এ চিকিৎসকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তবে বাবার ব্যবসার সুবাদে ছোট বেলা থেকে বসবাস করছেন রাজধানীতে। বাবা-মা ও এক ভাই নিয়ে ডা. স্বজনের পরিবার। বড় ভাই সাজিদ ইবনে আনোয়ার বসবাস করেন অষ্ট্রেলিয়াতে, মা সাবিহা খানম একজন গৃহিনী ও বাবা আনোয়ার হোসাইন পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত