৩১ অগাস্ট, ২০২২ ১০:২৮ পিএম

স্টার্টআপ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ডা. যুবায়ের আহমেদের ‘হসপিটালিন’

স্টার্টআপ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ডা. যুবায়ের আহমেদের ‘হসপিটালিন’
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ১২টি স্টার্টআপের মধ্যে এ সাফল্য অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

আসাদুল ইসলাম দুলাল: প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘স্টার্ট করো’ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছে ডা. যুবায়ের আহমেদের ‘হসপিটালিন’। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ১২টি স্টার্টআপের মধ্যে এ সাফল্য অর্জন করে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিযোগিতায় ‘ইনস্যুরকাউ’ প্রথম এবং দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হয়েছে যথাক্রমে ‘আরবান গ্যাজ’, ‘কৃষি ক্লিনিক’ ও ‘মূল্য কত’।

অনলাইনে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) সেবা প্রদানের সুবিধা নিশ্চিতকরণের জন্য তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘হসপিটালিন’।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ এবং ইএমকে সেন্টার বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাব ও ফ্রেডরিক নুম্যান ফাউন্ডেশন।

রোববার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে আজ বুধবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. যুবায়ের আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় ৭০টি স্টার্টআপ কোম্পানি অংশ নেয়। এখান থেকে ১২টি স্টার্টআপকে বাছাই করা হয়। এর পর যারা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের সামনে আমাদের প্রেজেন্টেশন দিতে হয়েছে। এর পর তারা সেরা পাঁচ কোম্পানিকে র‌্যাংকিং করে। যেখানে আমাদের ‘হসপিটালিন’ তৃতীয় হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হসপিটালিন অ্যাপের পেছনে ছয়জন কাজ করেছি। এর মধ্যে তিনজন ডাক্তার। আর তিনজনের মধ্যে একজন অ্যান্ড্রয়েড প্রোগ্রামার। আরেকজন আইওএস প্রোগ্রামার। অন্যজন ওয়েব ডেভেলপার। তার মধ্যে আমি নিজেই একজন চিকিৎসক ও সফটওয়্যার প্রোগ্রামার। একে তারা বিরল সমন্বয় মনে করেছেন। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক ছিল।’ 

সাফল্যের অনুভূতি জানতে চাইলে ডা. যুবায়ের বলেন, ‘আমার মেডিকেলে ভাইভা পরীক্ষা দেওয়ার সময় যে টেনশন হতো, সেই টেনশনটা হচ্ছিল। এই ধরনের প্রেজেন্টশন আমার জন্য প্রথম। এজন্য আমি কিছুটা নার্ভাস ও এক্সাইটেড ছিলাম। আর এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।’

মানুষ কেন এই অ্যাপটি ব্যবহার করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই অ্যাপে আমরা ডাক্তারদের চেম্বারকে জিপিএস লোকেশন শনাক্ত করে দিয়েছি। এই কাজটা অন্য কোনো অ্যাপ করেনি। এটা হচ্ছে আমাদের একক বৈশিষ্ট্য। আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লাইভ অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম। অর্থাৎ রিয়াল টাইম অ্যাপয়েন্টমেন্ট। এর মাধ্যমে ডাক্তার চেম্বারে কখন আসলেন, সেটা বাসায় বসে জানা যাবে। আমরা নিজেরা ডাক্তার, তাই ডাক্তার ও রোগীদের প্রত্যাশা বুঝতে সক্ষম।’ 

অ্যাপটির শুরুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, ‘২০১৮ থেকে এই অ্যাপটির চিন্তা আসে, তখন থেকে আমি একাই কাজটা শুরু করি। প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা কোডিং করতাম। প্রথমে দুজন ছিলাম। পরবর্তীতে আরও দুজন যুক্ত হয়েছে। এভাবে ছয়জনের মাধ্যমে আমাদের যাত্রা শুরু। ২০২১ সালের ৪ মে ফাইনালি অ্যাপসটি শুরু করি। তখন থেকেই খুব ভালো রেসপন্স পাই। এরপর ২-৩ মাসের মধ্যে তিন হাজার চিকিৎসক অ্যাপটিতে রেজিস্ট্রেশন করে। বর্তমানে চার হাজার ৩০০ চিকিৎসক এতে যুক্ত হয়েছেন।’

পরিকল্পনা সম্পর্কে ডা. যুবায়ের বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে দেশে সকল চিকিৎসকের একটি করে অ্যাকাউন্ট থাকবে। ডাক্তারদের পেশাগত তথ্য, চেম্বারের তথ্য এখানে থাকবে। রোগীরা যেন চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক খুঁজে পান। এখানে সার্চ এবং শেয়ার অপশন থাকবে। রোগীদেরকে গাইড করাই হচ্ছে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র এক ক্লিকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন। দালালরা যেন অতিরিক্ত সুযোগ নিতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এটা প্রস্তুত করা। কোনো চিকিৎসককে যদি অনলাইনে দেখা যায়। এখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগী, যাদের ঢাকায় এসে ডাক্তার দেখানো খুবই কষ্টকর। তাদের সাথে অনলাইনে কথা বলার অপশন আছে এই অ্যাপে। সেবা প্রার্থীদেরকে ‘হসপিটালিন’ অ্যাপস ইনস্টল করতে হবে। পরে তারা এই অ্যাপসের সুবিধা নিতে পারবে।

এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত