২৯ অগাস্ট, ২০২২ ১২:৫২ পিএম

তায়রুন্নেসা মেডিকেলে চিকিৎসক-নার্সের উপর হামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

তায়রুন্নেসা মেডিকেলে চিকিৎসক-নার্সের উপর হামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের সদ্য ফাইনাল প্রফ সম্পন্ন করা এক শিক্ষার্থী।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: তাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় রোগী মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত নার্সকে মারধর এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক হামলার শিকার হয়। তার প্রতিবাদে ডাক্তার ও নার্সদের কর্মবিরতি, ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদ চলছে।

আজ সোমবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে এখনো এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের সদ্য ফাইনাল প্রফ সম্পন্ন করা এক শিক্ষার্থী।

গতকাল তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই রোগী মারা যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উপর রোগীর স্বজন কর্তৃক হামলার শিকার হন।

এর প্রতিবাদে তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজে কর্মবিরতি, ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদ চলছে। নিরাপদ কর্মসংস্থানের দাবিতে তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।

এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা এক প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, রোগী সকিনা, বয়স ৭০ বছর। গত ২৩ আগস্ট উচ্চ রক্তচাপ এবং ইসকেমিক হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) এ  ডা. রায়হান মাসুম মন্ডল স্যারের অধীনে ভর্তি হন। গত ২৪ আগস্ট বিনা অনুরোধে হাসপাতাল ত্যাগ করেন রোগী।

পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট পায়খানার সাথে রক্ত যায়। এই সমস্যা নিয়ে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্যারের অধীনে ভিআইপি ক্যাবিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন ওই রোগী। গত তিনদিন ধরে রোগী চিকিত্সাধীন থাকার পর ২৮ আগস্ট সকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ডা. মোশাররফ হোসেন স্যারের রাউন্ড হয় এবং রোগী তখন স্থিতিশীল ছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮০-তে নেমে আসে এবং তৎক্ষনাৎ কর্মরত ডাক্তার তাকে সিসিইউতে রেফার করে কিন্তু রোগী পক্ষ নাকচ করে দেয়। তখন প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে হাই ফ্লো অক্সিজেন দেওয়া হয়। পুনরায় দুপুর পৌনে ২টায় তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৬-এ আসে হাই ফ্লো অক্সিজেন দেওয়ার পর। আবার দুপুর ২টায় সিসিইউর ডাক্তার এসে রোগীকে আবার সিসিইতে জরুরি ভিত্তিতে নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু রোগীপক্ষ পুনরায় নাকচ করে বলে তারা আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে চায়। যেহেতু রোগীর স্যাচুরেশন ৯৬% আসে এবং রোগী একটু কথা বলতে সক্ষম হয় এবং তা দেখে রোগীর লোকজন আরও সময় জ্ঞাপন করে। যার ফলে রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যেতে থাকে।

এরপর বেলা ৩টায় কর্মরত নার্স এসে ডাক্তারকে ডাকে এবং ডাক্তার রোগীর নিকট এসে বুঝতে পারেন যে রোগী হয়তো আর বেঁচে নেই। তখন ডাক্তার নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করার উপদেশ দেন। তখন রোগীর লোক ইসিজি মেশিনে লাথি মেরে নিচে ফেলে দেয় এবং আকস্মিকভাবে উপস্থিত ডাক্তার এবং নার্সের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। তখন উপরিত ইন্টার্ন ডাক্তার রিসিপশনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তারপর রোগীর লোক ডাক্তার এবং নার্সের উপর মিথ্যা চাপিয়ে দিয়ে বলে তারা রোগীকে মেরে ফেলেছে। তারপর উপস্থিত ডাক্তার কেনোক্রমে তার কলিগদের অবহিত করতে সক্ষম হয়।

এ সময় অন্য ডাক্তাররা নিরাপত্তা কর্মীদের খোঁজার চেষ্টা করেও খুঁজে পাননি। তারপর তার কলিগরা ঘটনাস্থলে যায় এবং দেখে যে তাদেরকে আটকে রেখেছে। তারপর তারা কোনমতে রোগীর লোককে বুঝিয়ে তাদেরকে রোগীর কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে আসেন। তারপর কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ইসিজি করতে আবারও উপদেশ দেন। কিন্তু রোগীর লোক উদ্ধতপূর্ণ আচরণ করে এবং ইসিজি করাবেন না বলেন। 

তারা বলেন, ‘আমাদের রোগী মারা গিয়েছে, আমরা ইসিজি না করিয়ে নিয়ে যাবো।’

এরপর তারা অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করার জন্য নিচে আসতে থাকে এবং সাথে কিছু ইন্টার্ন ডাক্তারও তাদের সাথে নিচে আসতে থাকে এবং বোঝাতে থাকে যে ইসিজি না করে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারবো না এবং এভাবে নিয়ে যেতেও পারবে না। নিচে আসার পরে রোগীর লোক ডাক্তারদের উপর আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে সাথে আরও কিছু বহিরাগত লোক নিয়ে আসে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্ররা ইন্টার্ন ডাক্তারদের বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে। তখন রোগী পক্ষ ছাত্রদের উপরও আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের বাকি রোগীদের লোকদের হস্তক্ষেপে ঘটনার সমাপ্তি ঘটে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত