ডা. রিফাত আল মাজিদ
এমবিবিএস, এমপিএইচ
জনস্বাস্থ্য গবেষক ও ক্লিনিক্যাল স্টাফ, র্যামফিট মেডিকেল কনসাল্টেশন সেন্টার, মগবাজার, ঢাকা।
পরিচালক, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স অ্যান্ড রিসার্চ
২১ অগাস্ট, ২০২২ ১২:১১ পিএম
পায়ের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ‘টিনিয়া পেডিস’
মানুষের শরীরের যে কোনো ছত্রাকের সংক্রমণকে মেডিকেলের ভাষায় ‘টিনিয়া’ বলা হয়। আর পায়ের মধ্যে যদি ছত্রাক দ্বারা সংক্রমণ হয় তখন তাকে বলা হয় ‘টিনিয়া পেডিস’। টিনিয়া পেডিস মূলত ‘ট্রাইকোফাইটন রুবরাম’ নামক এক প্রকার ফাংগাস দিয়ে হয়ে থাকে।
ট্রাইকোফাইটন মূলত পরিবেশের সাথে মাটিতে থাকে এবং আক্রান্ত হোস্টে থাকে। মাটি থেকে এটা মানুষের পায়ে এসে পা-কে আক্রান্ত করে। খালি পায়ে যারা হাঁটেন, তাদের আক্রান্ত হবার আশঙ্কা অনেক বেশি।
পায়ের কোথায় বেশি হয়?
মূলত পায়ের আঙ্গুলের কোনায় বেশি হয়, বৃদ্ধাঙ্গুলির চিপায়, পায়ের তালুতে এবং পায়ের অন্যান্য আঙ্গুলের উপরিভাগে এবং কোনায় বেশি হয়। আর্দ্র পরিবেশের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকটা। অনেকের নখের মধ্যেও হয় এটি।
উপসর্গ
আঙ্গুলের কোনায় লাল হয়ে ক্ষত হয় যায়। প্রচুর চুলকাতে ইচ্ছা হয়। অনেক বেড়ে গেলে ব্যথা হয়। আঙ্গুলের উপরিভাগে হলে মোটা হয় যায় এবং স্কেলি লেসন দেখা যায়। শরীরের অন্যান্য জায়গায় হলে যেমন গোলাকার লেশন হয়। টিনিয়ে পেডিসের ক্ষেত্রে সেরকম হয় না, চুলকাতে চুলকাতে লাল হয়ে পানি বের হয়ে যেতে পারে এবং চিকিৎসা না করালে সেকেন্ডারি ইনফেকশন ডেভেলপ করে। একজিমার সাথে কনফিউজড হয়ে যায়। একজিমা অধিকাংশ সময় দুই পায়েই হয়ে থাকে।
ফাংগাল ইনফেকশন একটু ব্যতিক্রম। আবার অনেকের ক্ষেত্রে জুতা দিয়ে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হবার পরে সেইখানে ফাংগাল ইনফেকশন হয়। আঙ্গুলের চিপায় হলে তাকে ইন্টার ডিজিটাল টিনিয়া পেডিস বলে।
প্রতিরোধ
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অবশ্যই খালি পায়ে না হাঁটা। গ্রামের মানুষকে জুতা পরে হাটার ক্ষেত্রে সচেতন করতে হবে। একবার টিনিয়া পেডিস হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা নিতে হবে।
-
২১ অগাস্ট, ২০২২