১৯ জুন, ২০২২ ০৪:২৯ পিএম

ঈদের আগেই এফসিপিএস পরীক্ষা, পার্ট-২ এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পরে

ঈদের আগেই এফসিপিএস পরীক্ষা, পার্ট-২ এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পরে
অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মুহাম্মদ জামাল বলেন, ঢাকা মেডিকেলের মতো সব মেডিকেলে এতো বড় বড় হল নেই। এমডি-এমএস, এফসিপিএস, এমবিবিএস পরীক্ষা একই সঙ্গে নিলে হলের সংকট দেখা দেবে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আসন্ন ঈদ-উল-আযহার আগেই বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) অধীনে এফসিপিএস পার্ট-১ ও পার্ট-২ এর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে পার্ট-১ এর ফলও প্রকাশিত হয়ে যাবে। তবে ঈদের ছুটিসহ একাধিক কারণে পার্ট-২ এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হবে ঈদের পর।

বিসিপিএস’র রেজিস্ট্রেশন ট্রেনিং মনিটরিং ডিপার্টমেন্টের (আরটিএমডি) অনারারি ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মুহাম্মদ জামাল শনিবার (১৮ জুন) মেডিভয়েসকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

এফসিপিএস পরীক্ষা যথাসময়েই হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পার্ট-১ এর সকল পরীক্ষা ও ফলাফল ঈদের আগেই হয়ে যাবে, এটা নিশ্চিত। সেই সঙ্গে পার্ট-২ এর লিখিত পরীক্ষাও ঈদের আগে হবে। তবে এমবিবিএস ভাইভার সাথে সমন্বয়সহ একাধিক কারণে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হবে ঈদের পর।’

তিনি আরও বলেন, ‘এফসিপিএস পরীক্ষা পেছানো হয়নি। বিসিপিএসের নিয়ম অনুযায়ী, জুলাই ও জানুয়ারির প্রথম কর্মদিবস পরীক্ষা শুরু হয়, এবারও যথারীতি ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। পাঁচ কর্মদিবসে লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে। অর্থাৎ ৭ জুলাইয়ের মধ্যে আমাদের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এর পর চার দিন তো ঈদের ছুটি। তখন সব কিছু বন্ধ থাকবে। তাই আমাদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। ঈদের পর পরই এফসিপিএস পরীক্ষাগুলো শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞা বিসিপিএসের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তিনি এমবিবিএসের রুটিন বিশ্লেষণ করে এমনভাবে এফসিপিএসের রুটিন করেছেন, তিনি ঈদের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে এমন বিষয়ের পর‌ীক্ষা নেবেন, যেগুলো এমবিবিএসের বিষয় না। যেমন: রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, ফিজিক্যাল মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, হেমাটোলজি, অ্যানেস্থেসিওলজি। এসব বিষয়ের পরীক্ষা তাঁরা ঈদের পর নেবেন, যার সঙ্গে এমবিবিএসের কোনো সম্পর্ক নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ জুলাইয়ের পর মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, পেডিয়াট্রিক্স, আইইএনটি পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে।’

‘অর্থাৎ প্রতিবার জুলাইয়ের শুরুতে হয়, এবারও মাসের শুরু থেকেই নেওয়া হবে।আগামী ২ জুলাই থেকেই নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ঈদের পর নেওয়া হবে। কারণ ঈদের ছুটির চার দিন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না। অফিসগুলো ঈদের পর পরই শুরু করবো। শূন্যতা চার দিনের হলেও আমরা মূলত আটটা পরীক্ষা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কারণ বিসিপিএসে প্রতি দিন ২-৩টা বিষয়ের পরীক্ষা হয়। সে হিসাবে এই চারটি ছুটির দিনে আমরা ১০/১১ বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে। মাঝখানে সরকারি ছুটি থাকার কারণে এক নাগারে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না’, যোগ করেন অধ্যাপক ডা. জামাল।

তিনি আরও বলেন, ‘৮, ৯, ১০ ও ১১ এই চার দিন আমাদের ঈদের ছুটি। ছুটির পর ৪/৫ দিন সরকারি হাসপাতালে কোনো রোগী থাকবে না। বড় বড় ৩/৪টা মেডিকেলে হয় তো রোগী পাওয়া যাবে, কিন্তু অন্য হাসপাতালগুলোতে রোগী পেতে কমপক্ষে সাত দিন লাগবে। রোগী ছাড়া তো এমবিবিএস পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না।’

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিসিপিএসের সঙ্গে এমবিবিএস পরীক্ষায় একটি জায়গায় মিল আছে। যারা মেডিকেল কলেজগুলোর পরীক্ষা নেবেন তারাই আবার বিসিপিএসের পরীক্ষা নেবেন। যেসব রোগী দিয়ে এমবিবিএস পরীক্ষা নেবো, সেই রোগী দিয়েই পোস্ট গ্রাজুয়েশন পরীক্ষা নেওয়া হবে। ঢাকা মেডিকেলের মতো সব মেডিকেলে এতো বড় বড় হল নেই। এমডি-এমএস, এফসিপিপিএস, এমবিবিএস পরীক্ষা একই সঙ্গে নিলে হলের সংকট দেখা দেবে।

অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মুহাম্মদ জামাল বলেন, বিসিপিএসের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিটো মিঞা। তিনি দুই রকমের পরীক্ষার বিষয়ে ভালো করেই অবগত। তার সঙ্গে আমাদের ডিন স্যারও (ডা. শাহরিয়ার নবী) আছেন। বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তিনি (ঢামেক অধ্যক্ষ) তাঁর (ডা. শাহরিয়ার নবী) সঙ্গে কথা বলেই, আলাপ-আলোচনা করেই রুটিনটা চূড়ান্ত করেছেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এফসিপিএস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত