তিন চিকিৎসকের সহায়তায় নদীর ঘাটে ফুটফুটে সন্তানের জন্ম
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়ে এক গর্ভবতী মায়ের নরমাল ডেলিভারি করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন চিকিৎসক।
গতকাল বুধবার (২৫ মে) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ঘাটে এমন ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওই তিন চিকিৎসক।
এ বিষয়ে তিন চিকিৎসকের একজন ডা. ফাইয়াজ হোসাইন খান মেডিভয়েসকে বলেন, দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই তারা কাজটি করেছেন। এ রকম একটি কাজ করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।
তিনি বলেন, সন্তান প্রস্রব শেষে প্রসূতি মাকে যাবতীয় চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। মা ও শিশু সুস্থ আছেন।
একটু ক্লান্তি দূর করতে ও নদীর হিমশীতল বাতাস গায়ে মাখতে রাত ১০টার দিকে নদীর কাছে ছুটে যান ডা. সুরাইয়া ইয়াসমিন, ডা. নাহিদ হাসান ও ডা. ফাইয়াজ হোসাইন খান। সেখানে পৌঁছে দেখেন একটি বোট এসে ঘাটে ভিড়ছে। একজন গর্ভবতী মা-সহ তার পরিবারের তিন সদস্য বোট থেকে নামেন। নেমেই মা মাটিতে বসে পড়লেন এবং প্রস্রব বেদনায় ছটফট করতে শুরু করলেন। অন্য কোনো উপায় যখন আর নেই, তখন এ তিন চিকিৎসক দেখা মাত্রই এগিয়ে এলেন এবং দায়িত্ব নিয়ে নরমাল ডেলিভারি করছেন গর্ভবতী মায়ের।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ডা. ফাইয়াজ হোসাইন খান বলেন, ‘রাত ১০ টায় আমরা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক বেতুয়া ঘাটে যাই। উদ্দেশ্য হলো, ঘাটে প্রমত্ত মেঘনার বাতাস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন খোলা রেস্টুরেন্টের ফুড রিভিউও করা যাবে বোনাস হিসেবে। কিন্তু ঘটে গেলে স্বরণীয় একটি ঘটনা। রাত ১০টা ৪০ মিনিটে একটি স্পিডবোট ঘাটে ভিড়ে এবং একজন গর্ভবতী মাসহ তার পরিবারের তিন সদস্য বোট থেকে নামেন। নেমেই মা মাটিতে বসে পড়লেন এবং প্রসব বেদনায় ছটফট করতে শুরু করলেন।’
তখনই ডা. সুরাইয়া ইয়াসমিন, ডা. নাহিদ হাসান ও আমি ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কাজে নেমে পড়ি সবাই। ডা. সুরাইয়া গর্ভবতী মাকে আশ্বস্ত করে সেখানেই নরমাল ডেলিভারির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন।
ডা. সুরাইয়ার কৃতিত্বের কথা তুলে ধরে ফাইয়াজ হোসাইন বলেন, ‘একটু দূরের ফার্মেসি থেকে আমরা ব্লেড এবং কর্ড ক্ল্যাম্প ম্যানেজ করে আনতে আনতেই সুরাইয়া আপু কোনো ঝামেলা ছাড়াই নদীর পাড়েই ডেলিভারি সম্পন্ন করেন। কোনো গ্লাভস ছাড়াই আপু কন্ট্রোলড কর্ড ট্র্যাকশন এর মাধ্যেমে গর্ভফুল (placenta) বের করে আনেন। পুরোটা ডেলিভারি তিনি সম্পন্ন করেন একদম খালি হাতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অতি নগণ্য আমি এক হাতে ইউটেরাইন ম্যাসেজ করছিলাম এবং এক হাতে লাইট ধরে ছিলাম। পুরো ঘটনায় ডা. সুরাইয়ার সাহসিকতায় আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম।’