চকরিয়ায় ভুয়া চিকিৎসকের এক বছরের কারাদণ্ড
আসাদুল ইসলাম দুলাল: চকরিয়ায় পৌর বাস টার্মিনালস্থ চকরিয়া সিটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ডা. মাইন উদ্দিন নামে এক প্রতারককে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মে) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত উজ জামানের নেতৃত্ব এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানতে চাইলে চকরিয়া সিটি হাসপাতালের অভ্যর্থনা বিভাগের সাজ্জাদ হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, মাইন উদ্দিন নামে একজন ব্যক্তি চকরিয়া সিটি হাসপাতালে ইন্টারভিউ দিতে আসেন। পরে তার কাগজপত্র দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
এ বিষয়ে চকরিয়া সিটি হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেফাজত রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘হাসপাতালে একজন ডিউটি ডাক্তারের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শনিবার (১৪ মে) মাইন উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি সিভি প্রদান করেন এবং সোমবার (১৬ মে) ভাইভা দিতে আসেন। তার কাগজপত্র দেখে আমাদের সন্দেহ হলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। পরে তারা এলে মাইন উদ্দিন তুলে দেওয়া হয়।’
সন্দেহ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে হেফাজত রহমান বলেন, ‘তাকে সন্দেহ হওয়ার কারণ হচ্ছে-বিএমডিসিতে যে ছবিগুলো আপলোড করা হয়, এগুলো অনেক আগের ছবি। সম্প্রতি বিএমডিসি ছবিগুলো আপলোড করে না। যদি তারা ছবিগুলো আপলোড করতো, তাহলে আমাদের সন্দেহ, যে কেউ এই কাজগুলো করতে পারতো না। এতে কোনো চিকিৎসকের বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। আমাদের কাছে তার ফেইস এবং বিএমডিসির ছবি ভিন্ন মনে হওয়ায় তাকে সন্দেহ করি।’
তিনি বলেন, এই হাসপাতালে আসার পূর্বে মাইন উদ্দিন চকরিয়া সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২০১৯-২০২০ সাল পর্যন্ত ছিলেন। পরে পেকুয়া একটি হাসপাতালে চার বছর চাকরি করেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও কাজ করেন এই ভুয়া চিকিৎসক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে চকরিয়া সিটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ডা. মাইন উদ্দিন নামে এক ভুয়া ডাক্তারকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মানুষের সাথে প্রতারণার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।