দূষিত খাবার-পানিতে বাড়ছে ডায়রিয়ার রোগী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দূষিত খাবার ও পানি পানের কারণে রাজধানীতে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েক দিন ধরেই নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ব্যাপক সংখ্যক রোগী।
রাজধানীর মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালে নয় হাজার ৫৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুর দুইটায় ভর্তি হয়েছে ৭৩০ জন রোগী।
তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে যত রোগী আসছেন, তার ২৫ শতাংশ রোগী কলেরায় আক্রান্ত। আর বাকিগুলো হচ্ছে ডায়রিয়ার রোগী। এটা মূলত পানিবাহিত রোগ। দূষিত খাবার-পানি ডায়রিয়া বেশি হচ্ছে। যারাই আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগ নষ্ট খাবার ও দূষিত পানি গ্রহণ করে।’
খাবার ও পানীয়র ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই সময়ে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে হলে পানি ফুটিয়ে খেতে হবে। বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গরমের সঙ্গে বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়লেও আক্রান্তের হার রাজধানী এবং এর আশপাশের জেলাতেই বেশি।
আবহাওয়ার পরিবর্তন,অত্যধিক গরম, বায়ু দূষণ ও অপরিচ্ছন্ন খোলা খাবার গ্রহণ এবং দূষিত পানীয় পান করাই হঠাৎ ডায়রিয়া বাড়ার অন্যতম কারণ মনে করছেন চিকিৎসকরা।
হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ডায়রিয়া, বাচ্চাদের নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। এর প্রধান দুটি কারণের একটি হচ্ছে বায়ু দূষণ। আমরা জানি, বাংলাদেশ বায়ু দূষণের পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করছে। বায়ু দূষণের কারণে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এবং শিশুদের নিউমোনিয়া বেড়ে যাচ্ছে। দূষিত বায়ু যখন খোলা খাবারের সংস্পর্শে আসে, তখন খাবারেও দূষণ যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ডায়রিয়া রোগ বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে, ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে নিরাপদ খাবার পানির কথা বলে আসলেও, সেটা এখনও নিশ্চিত হয়নি। ফলে এই অনিরাপদ পানি থেকেও ডাইরিয়া হচ্ছে। এই দুটি কারণেই ডায়রিয়া এবং বাচ্চাদের নিউমোনিয়া রোগ বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে যেসব মেগা প্রকল্প চলছে, তাতে পরিবেশ রক্ষায় যেসব বিষয় মানা উচিত সেগুলো একদমই মানা হচ্ছে না। অপরদিকে পরিবেশের মান রক্ষায় হাইকোর্ট যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল, তারও কোনটাই মানা হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে ডায়রিয়া, বাচ্চাদের নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে।
ডা. লেনিন বলেন, বায়ু দূষণমুক্ত করার জন্য হাইকোর্ট নির্দেশিত ১১ দফা বাস্তবায়ন, পরিবেশ দূষণ রোধে বিজ্ঞানসম্মত উপায় গ্রহণ এবং সুপেয় নিরাপদ খাবার পানি যদি নিশ্চিত করা গেলে ডায়রিরা, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।