নাকে ব্যবহারের করোনার টিকা উৎপাদনে ভিরাকর্প-ইনসেপটার উদ্যোগ
মেডিভয়েস ডেস্ক: অত্যাধুনিক ইন্ট্রা-ন্যাজাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ন্যাজাল কোভিড-১৯ টিকা উৎপাদনে ব্রিটিশ বায়োমেডিকেল ফার্ম ভিরাকর্প এবং দেশের অন্যতম টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্ট এবং ভিরাকর্প’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুনিরের গবেষণার উপর ভিত্তি করে এই টিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই টিকা ন্যাজাল স্প্রে’র মাধ্যমে সহজে প্রয়োগ করা যায় এবং প্রচলিত কোল্ডচেইন পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকাটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।
এই প্রসঙ্গে ভিরাকর্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুনির বলেন, ‘এই টিকা সহজে পরিবহনযোগ্য এবং নাকের মাধ্যমে গ্রহণ করা যায় এবং এটি টিকাদান কর্মসূচির জন্য যে ভারি অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় তা কমিয়ে দেবে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রত্যন্ত এলাকার অধিবাসীদের কাছেও এই টিকা সহজে পৌঁছানো যাবে।’
ইনসেপটা ভ্যাকসিন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের কোম্পানি সবসময় নতুন টিকা উৎপাদনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি অর্জন ও উন্নয়নের জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই যৌথ উদ্যোগের ফলে উন্নয়নশীল দেশ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনসাধারণের জন্য সহজে প্রয়োগযোগ্য টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, তাদের যৌথ উদ্যোগের ফলে সর্বাধিক মানের ভ্যাকসিন স্বল্পমূল্যে সর্বত্র সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।
ড. মুনীর আরও বলেন, ইনসেপটার সাথে এই অংশীদারিত্ব তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদন সম্ভব করবে, যা যেকোন ধরনের সার্স কোভ-২ থেকে সুরক্ষা দেবে এবং এর বিস্তার প্রতিরোধ করবে।
ড. মুনিরের দলের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ডা. মোহাম্মদ রোহাইম বলেন, ইন্ট্রান্যাজাল ভ্যাকসিনটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ব্যাপকভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং কয়েক দশক ধরে চলমান পরীক্ষায় এর নিরাপত্তা প্রোফাইল নিশ্চিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বায়োমেডিকেল ফার্ম ভিরাকর্প বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। ভিরাকর্প এবং এর অধীনস্থ সংস্থাগুলো ভাইরাল সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সেইসাথে যেখানে সাহায্য প্রয়োজন সেখানে মানবিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনসেপটা ভ্যাকসিন লিমিটেড বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের বেশিরভাগ মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের টিকা দেওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করে। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভ্যাকসিন প্রস্ততকারী সংস্থা যেখানে একটি অত্যাধুনিক ফ্যাসিলিটি রয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে ডাব্লিউএইচও-জিএমপি নীতিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।