করোনার ১৩,৯৬৬ শয্যার ১৩,০৫০টিই খালি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সংক্রমণ কমে আসায় সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ১৩ হাজার ৯৬৬টি করোনা নিবেদিত শয্যার মধ্যে ১৩ হাজার ৫০টি শয্যাই খালি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ রোববার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ২টায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিন এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।
এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের করোনার পরিস্থিতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই কোভিডের সংক্রমণ যে কোনো সময়ের তুলনায় কমে এসেছে। তবে কিছু কিছু অঞ্চলে সংক্রমণ খানিকটা বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।'
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে বুলেটিনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে এক লাখ ১৭ হাজার ৯০৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ছয় শতাংশের কিছু কম। এ সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪৪৩ জন।
অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে গত সপ্তাহে দুই হাজার ৮১৭টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রতি লাখে দুই হাজার ৪৯৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় ১০৯ জন ও থাইল্যান্ডে ৩৯২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বাংলাদেশে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বিশে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মৃত্যুই প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত শোকের। আমরা করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই।’
বুলেটিনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে এক লাখ ১৭ হাজার ৯০৭টি করোনা পরীক্ষা হয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ছয় শতাংশের কিছু কম। এ সময়ে শনাক্ত রোগীর এক হাজার ৪৪৩ জন।
এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৭২ হাজার ২৭৮ জন করোনা রোগী বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের হার দুই শতাংশের নিচে রয়েছে এবং ১৩ নভেম্বরের সংখ্যাটি ১.১১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত এক মাস ধরে করোনা সংক্রমণের গতি ছিল নিম্নমুখী। বর্তমানে এটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
গত জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর পরের দুই মাস এ সংখ্যা ক্রমাগতভাবে কমে আসে। নভেম্বর মাসে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৭৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সর্বোচ্চ আক্রান্তের দিক থেকে ১০ জেলার হিসাবে সর্বনিম্ন অবস্থানে কক্সবাজার জেলা। সেখানে ২৩ হাজার ২৮৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা জেলায়। এখানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৫০ জন। চট্টগ্রাম জেলায় ৯৯ হাজার ৬৩৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, আর্টিফিশিয়াল জিন এক্সপার্ট এবং রেপিট অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সকল সরকারি-বেসরকারি পরীক্ষাগার থেকে রোগীদেরকে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। দেশে চলমান সর্বমোট পরীক্ষাগারের সংখ্যা ৮৩৬টি।
১৩ নভেম্বর পর্যন্ত এক দিনে ১৩ হাজার ৭৩১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৬৯টি নমুনা।
এসব পরীক্ষায় ১৫১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১.১১ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪.৮৭ শতাংশ।
বুলেটিনে জানানো হয়, প্রতি একশজনের বিপরীতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৭.৭১ ভাগ রোগী, যা অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।
সারাদেশে ১১৮টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের লাইন রোগীদের সেবার জন্য পুরোপুরি কার্যকর আছে। সচল অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ২৯ হাজার ১১৫টি। হাইফ্লোনেজাল ক্যানুলার সংখ্যা দুই হাজার ২১টি। অক্সিজেন কনসনট্রেটরের সংখ্যা দুই হাজার ৩৩৬টি।