অননুমোদিত ডিগ্রি প্রদান
বিটমির’র সনদ নিয়ে সতর্ক করল বিএমডিসি-ইউজিসি
মাহফুজ উল্লাহ হিমু: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থাইরয়েড অ্যান্ড ইমেজিং রিসার্চ (বিটমির) একটি স্নাতকোত্তর আল্ট্রাসাউন্ড ইনস্টিটিউট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে আল্ট্রাসাউন্ড বিষয়ক ‘ক্লিনিক্যাল সেবা ও শিক্ষা’ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা মেডিকেল আল্ট্রাসনোগ্রাম ও আল্ট্রাসাউন্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিন ও ছয় মাস এবং বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি সোনোগ্রাফি ও ইমেজিং বিষয়ে এমএসসি কোর্সও চালু করেছে। তবে এসব কোর্স চালানোসহ প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন ও ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা নিয়ে চিকিৎসক সমাজে প্রশ্ন রয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে এক বছর মেয়াদি Advance Diploma in Medical Ultrasound (ADMU), Diploma in Medical Ultrasound (DMU) এবং তিন মাস মেয়াদি Certificate in Medical Ultrasound (CMU) ইত্যাদি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও Diagnostic Medical Sonography and Imaging বিষয়ে চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এমএসসি কোর্স। বিটমির কর্তৃপক্ষের দাবি—এসব বিষয়ে এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে বিভিন্ন ডিগ্রি ও সনদ প্রদান করা হয়েছে।
বিএমডিসির অনুমোদন নেই
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকদের কোনো ডিগ্রি ব্যবহার করতে হলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন লাগে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যে সকল ডিগ্রি প্রদান করছে তার কোনোটিরই বিএমডিসির অনুমোদন নেই।
এ ছাড়া বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান না হয়েও গত তিন বছর ধরে এমএসসি ডিগ্রি প্রদান করে আসছে বিটমির, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এ ডিগ্রি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেওয়া যায় না।
জানা গেছে, সেভিয়রস ইউনিটি ইউনিভার্সিটি নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ ডিগ্রি দিয়ে আসছে তারা। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটের বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্ত হওয়া এবং এসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে ডিগ্রি দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করে না ইউজিসি। বিদ্যমান আইনেও কোনো দেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এভাবে বিদেশি ডিগ্রি প্রদান নিষিদ্ধ।
চিকিৎসকদের ভুয়া ডিগ্রি প্রদান
এ বিষয়ে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থাইরয়েড অ্যান্ড ইমেজিং রিসার্চ নামক প্রতিষ্ঠানটি থেকে আলট্রাসাউন্ড ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। তাদের এ ধরনের ডিগ্রি প্রদানের কোনো অনুমোদন নেই। বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়া এসব ডিগ্রি প্রদান অবৈধ। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিটমির’র অনুমোদন নেই। তারা দাবি করছে, এ রকম কোনো প্রতিষ্ঠানেরই অনুমোদন নেই, আর এ কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো তারাও কার্যক্রম চালাচ্ছে। একটা কাজকে বৈধ করার বিষয়ে এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। এর মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন কোর্স পরিচালনা ও ডিগ্রি প্রদানের নামে প্রতারণা করছে।’
এমএসসি ডিগ্রি প্রদানে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিটমির ভুয়া আমেরিকান এমএসসি ডিগ্রি প্রদান করছে। তারা সেভিয়রস নামে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার কথা বলছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিটমির’র সাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সেটি একটি অফিস ব্লক। সেখানে বিভিন্ন পেশাজীবীদের অফিস রয়েছে। এটি গীর্জার অধীনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যা মানুষকে বাইবেলের কথা শিখাতে চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটে উগান্ডার মাসাকা ডায়োসিসের বিশপ কাগওয়ার ছবি দেখা যাচ্ছে। এটি কোনো অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ও নয়, তাদের ফ্যাকাল্টির কোনো নাম বা ছবি নেই। যে লোকটি প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট তিনি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। তারা যে আল্ট্রাসাউন্ডের ডিগ্রি দিচ্ছে, তাদের ফ্যাকাল্টি কে? কারা এ বিষয় পড়ান? বিটমির নিজেকে বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসাউন্ডের অধিভুক্ত বলে দাবি করছে। সোসাইটি কি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অ্যাফিলিয়েশন দিয়েছে বা দিতে পারে?’
‘ইউজিসির আইন হচ্ছে, কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাংলাদেশে বসে দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি জানিয়েছে, এ ধরনের সনদ দিতে হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইউজিসির অনুমোদন লাগবে এবং সনদটি ওই দেশের মেডিকেল স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দ্বারা স্বীকৃত হতে হবে। কিন্তু তাদের তা নেই। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সনদের নামে চিকিৎসকদের বিভ্রান্ত করছেন’, যোগ করেন ডা. আব্দুন নূর তুষার।
যা বললো বিটমির কর্তৃপক্ষ
জানতে চাইলে বিটমিরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল বারী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘দেশে বেসরকারি কোনো কোর্সের ব্যাপারে বিএমডিসির অনুমোদন নেই, কোনো দিন ছিলও না। আল্ট্রাসাউন্ড একটি নতুন বিষয়, এর কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই। আমাদের একটি আল্ট্রাসাউন্ড সোসাইটি রয়েছে, তাদের স্বীকৃতি নিয়ে আমরা চলছি। যেহেতু এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি, তাই ওই সোসাইটির অধীনে আমরাসহ ৪০/৫০টি প্রতিষ্ঠান দেশ বা দেশের বাইরে থেকে এ সংক্রান্ত কোর্স পরিচালনা ও সদন প্রদান করছি।’
বিটমির বিএমডিসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএমডিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। সেখানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সোসাইটি অব আল্ট্রাসাউন্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মিজানুল হাসান, অধ্যাপক এম এ করিম, অধ্যাপক ফরিদুল আলমসহ আল্ট্রাসান্ডের সকল দিকপালরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বিএমডিসির একটি অবজারভেশন রয়েছে। তারা বলেছেন, আমরা শুধুমাত্র এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসকদের আল্ট্রাসাউন্ড শিখাতে পারবো। যেহেতু তারা বেসরকারি খাতের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন না, তাই এভাবে আমাদের পরিচালনা করতে বলেছেন।’
সনদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার আল্ট্রাসাউন্ড চিকিৎসক বের হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। সেখানে তারা ডিএমইউ সনদ ব্যবহার করছে। আল্ট্রাসাউন্ডের জন্য ডিএমইউ সনদ ছাড়া কোথাও চিকিৎসকদের চাকরি দেওয়া হয় না। চিকিৎসক ও জনগণ যেটা গ্রহণ করছে সেটা অবশ্যই কোনো না কোনো সময় আইনের আওতায় আসবে। নতুন হওয়ায় খাতটি কিছুটা অগোছালো। তবে যেহেতু এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমরা আমাদের সোসাইটি ও এ খাতের দিকপালদের সঙ্গে কথা বলছি, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করবো।’
এমএসসি কোর্সটি স্থগিত থাকবে
আল্ট্রাসাউন্ডসহ কিছু কোর্সের বিষয়ে মৌখিক স্বীকৃতি থাকার দাবি করলেও এমএসসি কোর্স চালাতে স্বীকৃতি না থাকার কথা স্বীকার করেন অধ্যাপক ডা. ফজলুল বারী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ডিপ্লোমা ও এমএসসি ডিগ্রি প্রদানে প্রস্তুত না। যেহেতু দেশের চিকিৎসকদের সুপার স্পেশালাইজড শিক্ষার প্রয়োজন; সেজন্য চেষ্টা করছি, বিদেশি একটি অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে তা প্রদানের জন্য। এ লক্ষ্যে আমরা এমএসসি কোর্স চালু করেছি। তবে এখন যেহেতু এটি নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে। আমরা এ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে এতটা ভালো জানি না, তাই আপাতত কোর্সটি স্থগিত রাখার কথা ভাবছি। এরপর কোন পদ্ধতিতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায় কিনা, তা নিয়ে ভাববো।’
জেনে-বুঝেই প্রতারিত হচ্ছেন চিকিৎসকরা!
জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মেডিকেলের তিন মাস, ছয় মাস এমনকি এক বছর মেয়াদি কোর্স যদি কোনো ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, তবে প্রথমেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করলে তখন মতামতের জন্য বিএমডিসিতে পাঠায়। যাচাই-বাছাই করে বিএমডিসি যদি মনে করে কোর্সের অনুমতি দেওয়া যায়, তাহলেই শুধুমাত্র কোর্স পরিচালনা করা যাবে। তবে সাধারণভাবে আল্ট্রাসউন্ডের যে সকল কোর্সের কথা আলোচনায় এসেছে; শুধু সেইগুলোই নয়, এমন আরও বেশকিছু কোর্স রয়েছে যা বিএমডিসির অনুমোদনহীন। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নামে-বেনামে তিন থেকে ছয় মাসব্যাপী কোর্স পরিচালনা করছে এবং ডিগ্রি দিচ্ছে। এগুলোর কোনোটিই বিএমডিসির অনুমোদনপ্রাপ্ত না। অর্থাৎ এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সনদকে আমরা স্বীকৃতি প্রদান করি না।’
এসব কোর্স পরিচালনা বেআইনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সকল অননুমোদিত কোর্সের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় বিএমডিসির পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। যারা এসব কোর্স চালায় তারা বেআইনি কার্যক্রম করছেন। যদি কোনো চিকিৎসক এসব কোর্সের মাধ্যমে ডিগ্রি নেন, সেগুলো নিজ দায়িত্বে নিচ্ছেন। তারা জানেন যে, এই কোর্স করার পর তারা বিএমডিসির কাছে স্বীকৃতি পাবে না। সুতরাং তারা হয়তো তাদের ব্যক্তিগত জ্ঞান বাড়ানোর জন্য এ ধরনের কোর্সে অংশগ্রহণ করছেন। একাডেমিক কোর্সসহ যে কোর্সগুলোতে ক্লিনিক্যাল ক্লাস হয় এবং সম্পৃক্ততা থাকে, সেগুলো বিএমডিসি স্বীকৃত কোর্স। যদি ক্লিনিক্যাল কোর্স হয় এবং বিএমডিসির অনুমোদন থাকে, তাহলে শুধুমাত্র তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় যেসব তিন থেকে ছয় মাসের ছোট কোর্স পরিচালিত হয়, এগুলো সবই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালানো হয়। এসব কোর্সের স্বীকৃতি তারা পাবেন না।’
এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা প্রতারিত হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘চিকিৎসকরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং তারা জেনে-বুঝেই হচ্ছেন। বিষয়টি তারা জানেন না, এমন নয়। একজন ব্যক্তি এমবিবিএস শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায়ই ভালো করে জানেন, কোন কোর্স স্বীকৃত আর কোন কোর্স স্বীকৃত না। তারপরও তারা এসব কোর্সে করছেন, এখন তারা কেনো করছেন, তার উত্তর তারাই ভালো দিতে পারবেন।’
এমএসসি ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ নেই
বিটমির’র এমএসসি প্রদানের বৈধতা জানতে জাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ নেই। আমরা জানা মতে, কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি বা অধিভুক্ত হয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান এমএসসির মতো ডিগ্রি প্রদান করতে পারে না।
এমএসসি ডিগ্রি প্রদানের জন্য ফুলটাইম ক্যাম্পাস এবং গবেষণার সুযোগ থাকতে হবে। অন্যথায় তা বৈধ নয়। সে হিসেবে বিটমিরের এমএসসি ডিগ্রি প্রদান ও কার্যক্রম পরিচালনার কোনো অনুমোদন নাই। যেখানে প্রতিষ্ঠানেরই স্বীকৃতি নেই, সেখানে ডিগ্রির স্বীকৃতির তো প্রশ্নই আসেনা!’
ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে যা বললো কর্তৃপক্ষ
জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়াম্যান অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করে, তবে আমরা তদন্ত করে সে প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করি। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে সকলকে সচেতন করি। এর বাইরে আমাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।’
ব্যবস্থা গ্রহণে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে বিচারিক ক্ষমতা নেই। কেউ যদি আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ করে, তবে আমরা সে প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করি এবং প্রশাসনকে এ বিষয়ে অবহিত করি, যেন প্রয়োজনে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। আমরা এসব কোর্সের বিষয়ে তরুণ চিকিৎসকদেরও সতর্ক করি। অতীতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদানের মাধ্যমে আমরা সতর্ক করেছি। কখনও কখনও কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। কিন্তু একটা বন্ধ হলে দেখা যায়, আরও ২/৩টা দাঁড়িয়ে যায়।’