আলাদা টিকাকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকার জন্য আলাদা টিকাকেন্দ্র খোলা নিয়ে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর সাত কলেজের সমন্বয়ক অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার সাত কলেজের ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনতে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজে টিকাকেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে চিঠি দেন৷
ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর (এমএনসিএন্ডএএইচ) ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিনোফার্ম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও লজিস্টিক তোজগাঁও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঢাকা জেলা সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করা হয়।
পরে গত ১৩ অক্টোবর রাতে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, ‘সাত কলেজের তো অনেক শিক্ষার্থী, আমরা বড় একটি জায়গা খুঁজছি, যেখানে কেন্দ্র করতে পারবো৷ সাত কলেজে আলাদা কেন্দ্র করার জনবল নেই; তাই নির্দিষ্ট একটি কেন্দ্র থেকে এসব শিক্ষার্থীকে টিকা নিতে হবে৷ এই কেন্দ্র থেকে শুধু সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাই টিকা নেবেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নেওয়া জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল বা মহাখালীর একটি জায়গায় টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’
এরপরেই সাত কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানায়। তারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাহিরে আলাদা টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হবে। তাদের অনেক কষ্ট হবে টিকা নিতে। দ্রুততম সময়ে একটি কেন্দ্রে আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাহিরে অন্য কোথায় গিয়ে তারা টিকা দিতে প্রস্তুত নয়।
ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা দ্রুততম টিকা নিয়ে হলে উঠতে চাই এবং সশরীরে ক্লাস করতে চাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাহিরে অন্য কোথায়ও আলাদা একটি টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীরা ঝামেলায় পড়ে যাবে, তিনটি কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে টিকা নিতে চাই।
সরকারি তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হক জুয়েল বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি আদায়ে সবসময় ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। আলাদা টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হলে কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা কলেজে শিক্ষক পরিষদের নেতা ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওবায়দুল করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা্প্রতিষ্ঠান হলো নিরাপদ জায়গা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে টিকা নিচ্ছে, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদেরও সে ব্যবস্থা করা হোক। আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য কমপক্ষে তিনটা কেন্দ্র প্রয়োজন। সিভিল সার্জনের কাছে অনুরোধ থাকবে যেভাবেই হোক তিনটা কেন্দ্র যেন দেওয়া হয়। এছাড়া আলাদা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা টিকা নিতে গেলে, টিকাকেন্দ্র গিয়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হতে পারে। আমরা চাই না, শিক্ষাথীরা হয়রানির শিকার হোক।
সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তালাত সুলতানা বলেন, ‘সবাই মিলে বসতে হবে, বিষয়টি দেখতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে দ্রত টিকা গ্রহণ করতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিকুন নাহার বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে আমরা আবার যোগাযোগ করছি। যেভাবে যা করা দরকার, তাই করবো। টিকাকেন্দ্রে যাতে শিক্ষার্থীরা টিকা নিয়ে হয়রানির মুখোমুখি হতে না হয়।
সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে আমরা তিনটা কেন্দ্রের জন্য আবেদন করেছি। ঢাকা জেলা সিভিল সার্জনের এর বাহিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাত কলেজের ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী তিনটা টিকাকেন্দ্রের নিচে হবে না। আমরা চাই না, টিকা কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোনো ধরণের ইস্যু তৈরি হোক।
পরে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সাত কলেজের টিকাকেন্দ্র একটি হবে, না তিনটি হবে; সেটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, টিকা পরবর্তী কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, সেটা ম্যানেজ করা আমাদের জন্য খুব জরুরি এবং শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে আমরা আরেকটু বেশি সাবধানী হই। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার এবং নিজস্ব চিকিৎসক রয়েছে; সেখানেই আমরা টিকাকেন্দ্র খোলার অনুমতি দিয়েছি। এছাড়া সাত কলেজের শিক্ষাথীদের জন্য আলাদা টিকাকেন্দ্র এমন স্থানে দেওয়া হবে, যেখানে আমরা মেডিকেল সেন্টার এবং চিকিৎসক রাখতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, টিকাকেন্দ্রের পরিবেশ ঠিক রাখার দায়িত্ব সাত কলেজকে নিতে হবে। যেহেতু সাত কলেজের সব শিক্ষার্থী একদিনে টিকা নিতে আসবে না। সারা বাংলাদেশেই টিকা দেওয়া হচ্ছে কোথায় কোনো বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হয়নি। এখানে ছাত্ররা সহযোগিতা করলে পরিবেশ ঠিক থাকবে।
দ্রুততম আড়াই লাখ শিক্ষার্থী টিকা দেওয়া সম্ভব হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা রেজিস্টেশন করে ফেললে যতখানি সম্ভব আমরা দ্রুত টিকা দিয়ে দিব। তিনটা টিকাকেন্দ্র খুললে যা হত, আমরা এখানেও বুথের সংখ্যা অনেক বেশি রাখবো। যাতে দ্রুততম সময়ে টিকা দেওয়া যায়।