২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৫৩ পিএম
আন্তর্জাতিক সিএমএল দিবস উদযাপন

সুচিকিৎসায় সিএমএল থেকে সুস্থতা সম্ভব: বিএসএমএমইউ ভিসি

সুচিকিৎসায় সিএমএল থেকে সুস্থতা সম্ভব: বিএসএমএমইউ ভিসি
বিএসএমএমইউতে বিশ্ব সিএমএল দিবস পালিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সুচিকিৎসার মাধ্যমে ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (সিএমএল) থেকে সুস্থ জীবন-যাপন সম্ভব করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সিএমএল হলো এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রক্তের ক্যান্সার। এই রোগ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এর সুচিকিৎসা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এই রোগের সুচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবন-যাপন সম্ভব।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন হয়েছে, স্বাস্থ্যখাতও তার মধ্যে অন্যতম। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্পতম সময়ে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ওষুধ বর্তমানে দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। বিশ্বের ১৫১টি দেশে বাংলাদেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে এটা স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের একটি বিরাট অর্জন।

হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা.মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহ বলেন, সাধারণত পঞ্চাশ বা ষাট বছরের পরে বেশি দেখা যায় এই রোগটি। তবে ত্রিশ বা চল্লিশের দশকেও অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তুলনামূলকভাবে পুরুষরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। সিএমএল রোগের ক্ষেত্রে রোগীদের দুর্বলতা, শেষ রাতে ঘাম হওয়া, ওজন হ্রাস পাওয়াসহ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পাশাপাশি অনেকের পেটের বাম পাশে চাকা বা ভারি অনুভুতি থাকতে পারে, যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে অনেকেই খাবার খেতে না পারা বা অল্প খেলে পেট ভরে যাবার সমস্যায় পড়তে পারেন।

অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন বলেন, অনেকের ক্ষেত্রে রোগ থাকা সত্ত্বেও রোগের কোনো প্রকার লক্ষণ প্রকাশ পায় না, বরং রুটিন চেকআপ বা অন্য রোগের কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে এ রোগ ধরা পড়ে। নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং যথাযথ মনিটরিং করা সম্ভব হলে অধিকাংশ রোগীই প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এলোজেনিক হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল বা বোনমেরো  ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে রোগ নিরাময় সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, সিএমএল যেহেতু দীর্ঘমেয়াগি রোগ, তাই অনেক ক্ষেত্রেই হতাশা, দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে, কারো ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যাও থাকতে পারে। সে জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। জাতীয় পর্যায়ে সিএমএল রোগীদের রেজিস্ট্রি তৈরি করার মাধ্যমে তাদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা এবং তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করণে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিশ্ব সিএমএল দিবস
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক