মো. এহসানুল হক অন্তু

মো. এহসানুল হক অন্তু

প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ,
সেশন-২০১৮-১৯


০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৫:১৩ পিএম

প্রাথমিক চিকিৎসায় চাই সচেতনতা

প্রাথমিক চিকিৎসায় চাই সচেতনতা
ছবি: প্রতীকী

নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সংজ্ঞা কোথায় খোঁজে পাব? সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দেওয়া লাগবে না। বাবা-মা এর সামনে গিয়ে বসুন, খুলে বলুন আপনার মনের কথা। মুহুর্তেই ভালোবাসার সুরে সুরে পেয়ে যাবেন সকল সমস্যার সমাধান‌। এ ভালোবাসার কোনো বিনিময় প্রথা নেই।

একটা সময়ে প্রতিটি সন্তানের সুযোগ আসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার। তখন বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য পালনের মাধ্যমে  যদি তাদের ভালোবাসার একটুখানি ঋণ শোধ করা যায়। তবে সেটাই সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। হঠাৎ যদি আমার মা-বাবা অসুস্থ হয়ে যায়, তখন আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটুকু সহায়ক হবে? আমি কি পারব সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে?

এক্ষেত্রে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা, যা আজও প্রতিটি এলাকায় বিদ্যমান। এখনও কিছু হলেই কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁক, হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই রোগীকে‌। রোগীর বাঁচার শতকরা ৯০ ভাগ সম্ভাবনাকে ৯ ভাগে এ নিয়ে আসে এসব ভণ্ডদের অপচিকিৎসা। চোখের সামনে একেরপর এক প্রাণ নিভে যায়‌। তারপরও অবুঝ মন আর ভ্রান্ত ধারণা মিলেমিশে একাকার। একইসঙ্গে ভণ্ড সাধুবাবাদের রমরমা ব্যবসা চলতেই থাকে। 

প্রাথমিক চিকিৎসা: চাই সচেতনতা 

১. প্রতিটি গ্রামে-মহল্লায় থাকবে একটি করে চিকিৎসাকেন্দ্র, যা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

২. সর্বনিম্ন ফি নির্ধারণ করে এমবিবিএস চিকিৎসকরা রোগী দেখবেন। এজন্য চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

৩. প্রতিটি গ্রামে বা মহল্লায় কমপক্ষে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স সবসময় প্রস্তুত থাকবে। যেনো গুরুতর অবস্থায় কোনো রোগীকে হাসপতালে আনতে এক মুহূর্তও দেরি না হয়।

৪. প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। কোনটা স্ট্রোক, কোনটা সাপে কামড়ের লক্ষণ তা বুঝাতে হবে।

৫. ফার্মেসি থেকে কোনো চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা যাবে না। 

৬. কম সময়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর আত্মীয়-স্বজন সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

৭. অহেতুক একগাদা স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিয়ে, কোনো ক্লিনিক, হাসপাতাল যেনো রমরমা ব্যবসা না করে সেদিক খেয়াল রাখতে হবে। সর্বোপরি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৮. অনলাইন টেলিমেডিসিন সেবার সর্বোপরি বিস্তার বাড়াতে হবে। বয়স্করা যেন ঘরে বসেই সেবা নিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

এমন আরও অসংখ্য উদাহরণ টেনে আনা যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় প্রয়োজনের সময় আমাদের মা-বাবা যদি চিকিৎসা ব্যবস্থার খামখেয়ালিপনার শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, তাহলে সন্তানের জন্য এর থেকে বড় কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না। তাই প্রতিটি বাবা-মা যেন একটা ভালো স্বাস্থ্যসুরক্ষা পায়, সেটাই কাম্য। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত