অধ্যাপক ডা. মো. আনওয়ারুল কবীর

অধ্যাপক ডা. মো. আনওয়ারুল কবীর

চেয়ারম্যান
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, বিএসএমএমইউ


১৫ জুলাই, ২০২১ ০৬:৪৭ পিএম

ঈদআনন্দ সজীব রাখতে খাবার গ্রহণের তিন কৌশল

ঈদআনন্দ সজীব রাখতে খাবার গ্রহণের তিন কৌশল
ছবি: মেডিভয়েস।

ঈদের দিনে সীমাহীন আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। আর কোরবানির ঈদে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মূল আয়োজন বিভিন্ন রকমের গোশত। এদিন সবারই মনে প্রবল ইচ্ছা থাকে বেশি বেশি করে কোরবানির গোশত খাওয়ার। আর উৎসবের আতিশয্যে নানা মুখরোচক খাবারের বেহিসাব উদরপূর্তিতে দেখা দেয় পেটের পীড়া। আর এতেই ভাটা পড়ে ঈদের আনন্দে।

সীমাহীন আনন্দের দিন হওয়ায় ঈদের দিনে আমাদের নৈমিত্তিক জীবনের রুটিনে ছেদ পড়ে। খাওয়া-দাওয়াসহ কোনো কিছুতেই শৃঙ্খলা থাকে না। মোটা দাগে বলা চলে, এ দিন খাওয়া-দাওয়ার বিষয়েই বেশি অনিয়ম হয়। তবে আমরা বিশৃঙ্খল হয়ে গেলেও দেহ এমনভাবে শৃঙ্খলিত যে, খাওয়া-দাওয়া যদি পরিমাণ ও রুটিন মতো না করি, তাহলেই স্বাস্থ্য জটিলতা দেখে দেবে।

খাবার গ্রহণে সংযমী হোন

তাই অবাধ এ আনন্দের দিনে স্বাস্থ্য সচেতন ও সংযমী হয়ে খাবার গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রকম খাবারে শরীরে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে তার ওপরও দিতে হবে নজর।

একজন মানুষের স্বাভাবিক পাকস্থলি ৭শ’ থেকে ৯শ’ মি.লি. খাবার ধারণ করতে পারে। তাহলে পুরো খাবারটা সেভাবে ভাগ করে নিতে হবে। অর্থাৎ পেটটাকে তিনভাগ করে নিতে হবে। সুস্থ থাকতে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ মি. লি. খাবার একবারে গ্রহণ করুন। কিছুক্ষণ পর পানি পান করুন। এরপর আরেকটু বিরতি দিয়ে গ্রহণ করুন কোক কিংবা বোরহানি। মূল কথা হলো, একবারে বেশি খাবার গ্রহণ করা যাবে না। বিরতি দিয়ে অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করতে হবে।

তেল জাতীয় খাবার পরিহার

পরিমিত খাবার গ্রহণের পাশাপাশি অধিক পরিমাণে তেল, গোশত ও চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে নানা মসলামিশ্রিত ঝোলটা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এ ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে পেটের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় আক্রান্তদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। 

মনে রাখতে হবে, আমরা সারা বছরের প্রতিটি দিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত। কিন্তু হঠাৎ করে ঈদের দিন সকাল থেকে খাদ্য তালিকায় চলে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। এর কারণ হলো উৎসব ঘিরে বাহারি খাবারের আধিক্য।

ঈদের দিন সবার ঘরে ঘরে প্রচুর পরিমাণে নির্দিষ্ট কিছু খাবার থাকে, যা পাকস্থলির জন্য ক্ষতিকর। যেমন: তৈলাক্ত বা ভাজা-পোড়া খাবার, দুধ এবং দুধের তৈরি খাবার। আর কুরবানির ঈদ হওয়ায় গোশত জাতীয় খাবার। এই তিন খাবারই মানব দেহে অনেক জটিলতা তৈরি করে। আর এক দিনে অধিক পরিমাণে এসব খাবার গ্রহণ করার ফলে আমাদের পাকস্থলি বা দেহ এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তখনই পেটটা ভার হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে ঈদ অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু আনন্দের আতিশয্যে খাবার গ্রহণের পরিমাণটা যেন বাড়িয়ে না দিই।

পেটে সমস্যা হলেই ওষুধ নয় 

খাবার গ্রহণে শতভাগ সতর্ক থাকার পরেও পেটে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এজন্য সঙ্গে সঙ্গেই ওষুধ সেবন করা যাবে না। ঈদের দিন আমরা দুধের খাবার অনেক বেশি খাই। পায়েশ-সেমাইসহ অনেক পিঠা আছে, যা দুধ দিয়ে তৈরি। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে দুধ খাওয়ার ফলে কারও কারও পেটে একটি পীড়া দেখা দেয়।

ঈদের দিন তিন-চার রকমের পিঠা, সেমাই-ফিরনি খেয়ে ফেললাম। আর এতে কারও কারও দেখা দেয় ডায়রিয়া। আর এ সমস্যা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে আমাকে ওষুধ খেতে হবে—এর কোনো যুক্তি নাই। যেহেতু মাত্রাতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে, এটি উপলব্দি করার সঙ্গে সঙ্গে খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দিতে হবে। এতেই এ সংকট থেকে মুক্তি মিলবে। তাই ওষুধ সেবন না করে, বরং খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দিন। খাবার গ্রহণ বন্ধ হলেই, ডায়রিয়া বের হয়ে যাবে। মূলত মানুষের দেহের ক্ষতিকর জীবানু বের করে দেওয়ার জন্যই ডায়রিয়া। ক্ষতিকর উপাদন যখন দেহ থেকে বের হয়ে যাবে, তখন ডায়রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে। 

►ভিডিও লিংক

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে