২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০৭:৫৬ পিএম
গড়াতে পারে আগামী বাজেট পর্যন্ত

সিদ্ধান্তের এক বছরেও চালু হয়নি ডিপ্লোমা-এমফিল চিকিৎসকদের ভাতা

সিদ্ধান্তের এক বছরেও চালু হয়নি ডিপ্লোমা-এমফিল চিকিৎসকদের ভাতা
ছবি: সংগৃহীত

মো. মনির উদ্দিন: ভাতা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার প্রায় এক বছর পরও তা পাচ্ছেন না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিপ্লোমা-এমফিল (নন-রেসিডেন্সি) কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকরা। 

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনার কারণে ভাতা প্রদানের কার্যক্রম থমকে আছে। লকডাউন শেষ হলে এ নিয়ে কার্যক্রম চালাবেন তারা। আগামী বাজেটে তা চালু হতে পারে বলে আশাবাদী তারা।

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মিটিংয়ে নন-রেসিডেন্সি কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের ভাতা প্রদান সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ঐতিহাসিক এ সিদ্ধান্তের ফলে ৯ শতাধিক চিকিৎসক প্রতি মাসে মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতার সুবিধা পাবেন।

হতাশ নবীন চিকিৎসকরা 

বিনা পারিশ্রমিকে স্বাস্থ্য দেওয়ার পথ বন্ধ হওয়ায় এ সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নবীন চিকিৎসকরা। তবে সিদ্ধান্ত হওয়ার প্রায় এক বছর পরও ভাতা পাননি ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা। 

এ অবস্থায় তাদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ভাতা চালুর সিদ্ধান্তের ঘোষণায় তাদের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল। সে আশা-আকাঙ্ক্ষা এখন ক্রমেই ফিকে হয়ে এসেছে। এ ছাড়া করোনার এই দুঃসময়ে কোনো রকমের পারিতোষিক ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বারবারই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন তারা। তবে পেশার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর কর্তব্য পরায়ণতা থেকে সব কিছু চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।  

সিন্ডিকেটে পাস হওয়ার পরও ভাতা চালু নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো সমস্যা নাই। মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি আটকে আছে। এটি প্রদানের জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ 

করোনায় থমকে আছে কার্যক্রম!

কবে নাগাদ এ ভাতা চালু হতে পারে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরবর্তী বাজেট অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ বাজেট ছাড়া ভাতা চালু হওয়া সম্ভব না। 

তাহলে কি করোনার কারণে এটি চালু হতে দেরি হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেকটা এ রকমই।’ 

জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর অন্যতম সিন্ডিকেট সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘একটি বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এত দিনেও তা চালু না হওয়া দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো, যেন তা দ্রুততম সময়ে চালু করা যায়। বিষয়টি আমাদের নজরে আনার জন্য মেডিভয়েসকে ধন্যবাদ।’

এ প্রসঙ্গে সিন্ডিকেটের সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে। এর পর বরাদ্দ এসেছে কিনা এ ব্যাপারে আমি অবগত না। সাধারণত বরাদ্দ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (অর্থ) টাকা প্রদান শুরু করেন।’

লকডাউন থামলে শুরু হবে তৎপরতা 

জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. আবদুস সোবহান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘লকডাউন শেষ হলে ভিসি স্যারের নেতৃত্বে আমরা কয়েকজন অর্থ সচিবের সঙ্গে দেখা করতে যাবো। এমনিই তো দিয়ে দেবে না। সামগ্রিক কাগজপত্র দেখিয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। আর কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরতে হবে।’

রেসিডেন্টদের ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সময় নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি জয়েন করার পর আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। এক থেকে দেড় মাসের মাথায় বিষয়টি আমি সম্পন্ন করেছিলাম। ডিপ্লোমাদের ব্যাপারে ভাইস-চ্যান্সেলরের ইতিবাচক মনোভাব আছে। আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। লকডাউন শেষ হলেই কাজে হাত দেবো।’

ভাতা চালু হতে আগামী জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলেই সময় লাগবে। লকডাউনের পর কাজ শুরু হবে বললেই তো হয়ে যাবে না। সরকারি একটি পদ্ধতি অনুসরণ কাজটা এগুবো। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় এতো তাড়াতাড়ি গ্রহণ করবেন কিনা, সেটা বলাও দুরূহ।’

এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়াকে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, রেসিডেন্সি ও এফসিপিএস কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও ডিপ্লোমা কোর্সে ভাতার ব্যবস্থা ছিল না। এতে নন-রেসিডেন্সি এসব কোর্সে অধ্যয়নরতদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হতো, শিক্ষাকাল ছিল চরম ভোগান্তি ও উদ্বেগের।

এ অবস্থায় ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকদের জন্য ভাতার উদ্যোগ নেয় বিএসএমএমইউ। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়। এতে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদেরকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি