ডা. মাহমুদ হাসান

ডা. মাহমুদ হাসান

ইন্টার্ন চিকিৎসক, বসুন্ধরা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল।


২৬ মার্চ, ২০২১ ০১:১৩ পিএম

‘রক্ত দিন জীবন বাঁচান’

‘রক্ত দিন জীবন বাঁচান’
ছবি: সংগৃহীত

২০ মার্চ ২০২১ কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকালের রাউন্ড চলছে। ওয়ার্ডের এক বেডে ম্যাম একজন ৬৫ বছর হবে এমন একজন বয়স্ক লোককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাবা রক্ত ম্যানেজ করতে পারেন নি?’। রোগী খুব কান্নাবিজড়িত কন্ঠে বলল, ‘না মা, পারি নি।’

আমি রোগীর ফাইল হাতে নিয়ে দেখলাম, রোগীর স্ত্রী ভর্তি মডারেট এ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতায়। রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ। মুরব্বিকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘চাচা রক্ত জোগাড় করতে পারেন নি কেনো?’ উনি বললেন, ‘বাবা আমার ছেলে-মেয়ে নেই। থাকি দুজনে কষ্ট করে, চেনাজানা কেউ নেই কিভাবে ম্যানেজ করমু কন?’ তখন বুঝলাম এ দেশে এ পজেটিভ রক্ত সচরাচর হলেও সবার কাছে তা নয়।

চাচাকে বললাম আমি চাচিকে রক্ত দিবো, সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে বললেন, ‘বাবা আমি আপনার জন্য দোয়া করবো।’ এই বলে ছাড়ছেই না কোনোভাবে। আমি হয়তো ওই আবেগটা অনেক টাকা বা কাউকে অনেক কিছু দিয়েও পেতাম না।

সঙ্গে সঙ্গে সিস্টারকে বললাম, ‘দিদি আমি ব্লাড দিবো সবকিছু ম্যানেজ করেন।’ আমার মনে আছে ২০১৪ সালে আমার মা অসুস্থ হয়। তাঁর প্রায় চার ব্যাগ রক্ত লাগছে। আমার পুরো পরিবারকে কত কষ্ট করতে হয়েছে রক্ত ব্যবস্তা করতে কারণ তখন আমি মেডিকেল পার্সন ছিলাম না বা এই ব্যাপারগুলো তেমন জানতাম না।

চাচার বাধভাঙ্গা উল্লাসে আমার চোখের কোনে কোথায় অশ্রু জমে ছিলো খেয়াল করিনি। সামলে নিয়ে বললাম, ‘চাচিরে খুব ভালোবাসেন?’ বললো, ‘হ্যাঁ বাবা খুব ভালোবাসি।’

এর আগে একজন নিউরোসার্জারির রোগীকে রক্ত দিয়েছিলাম কিন্তু রোগী চারদিন পর মারা গিয়েছিল। কিন্তু এই রক্ত এই দুজন মানুষের ভালোবাসাকে মজবুত করবে।

আবারও তাদের চায়ের কাপে আড্ডা হোক। আরও অনেক বছর তাঁরা বেঁচে থাকুক ভালোবাসা নিয়ে। হ্যাঁ, এটাই সত্যি ভালোবাসা, দুজনের প্রতি সম্মান যা আজকে তাদের বিয়ের ৪০ বছর পরেও টিকে আছে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত