০৮ মার্চ, ২০২১ ১২:১৮ পিএম

‘স্ত্রী চলে গেলো, আমি বেঁচে আছি’ 

‘স্ত্রী চলে গেলো, আমি বেঁচে আছি’ 
ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এ মহামারীতে অসংখ্য রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ।

তাঁর দুই দিন পর গত ১৭ ডিসেম্বের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন তাঁর সহধর্মিণী অধ্যাপক মাহমুদা বেগম। এর পর থেকে দুজনেই একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১ জানুয়ারি নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসার কয়েক দিন পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ। কিন্তু মাহমুদা বেগমের আর ফেরা হয়নি। সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান নিভৃত এ দানবীর।

করোনা পরবর্তী জটিলতায় পরলোকগত সহধর্মিণীর স্মৃতিচারণ করে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ রোববার (৭ মার্চ) বিকেলে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘তাঁর অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে তাঁর দেহে করোনা পরবর্তী জটিলতা দেখা দেয়। ফুসফুসে আবার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে রেসপেরেটরি ফেইলিউর হয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলো। আমি বেঁচে গেলাম, স্ত্রী চলে গেলো।’

এ সময় নিজের করোনা আক্রান্ত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কারোনা বড়-ছোট, ধনী-গরিব, মধ্যবিত্ত কাউকে খাতির করে না। যাকেই সুযোগ পায় তাকেই আক্রান্ত করবে। আমিও সেভাবেই আক্রান্ত হয়েছিলাম। তবে আমার মধ্যে তেমন জটিলতা ছিল না। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে সম্পূর্ণ ভালো ও সুস্থ বোধ করি। সামান্য দুর্বলতা অনুভূত হয়।’

করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে ভয়াবহ দিনগুলোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘গত বছরের মার্চে দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার সময় আমাদের অনেক কিছুই অজানা ছিল, গবেষণা সীমিত ছিল, চিকিৎসা অজানা ছিল। ওষুধপথ্য ছিল না, হাইফ্লোনেজাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা ছিল না। হাসপাতাল প্রস্তুত ছিল না, আইসিইউ প্রস্তুত ছিল না। আমরা অনেক কিছু জানতাম না। গোটা পৃথিবীতেই ছিল একই চিত্র।’ 

তিনি বলেন, একদিকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) স্বল্পতা ছিল। অন্যদিকে বাজারে আসা পিপিইর গুণগত মান নিয়ে ছিল আলোচনা-সমালোচনা। মাস্ক, মাথার ক্যাপ—সব কিছুতেই সমস্যা ছিল। এ সংকট শুধু দেশে না, সারা পৃথিবীতেই ছিল। এটা স্বাভাবিকতায় আনতে একটু সময় লেগেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সবগুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বাংলাদেশ।

‘শুরুতে সুরক্ষা সামগ্রীর কিছুটা ঘাটতি থাকায় চিকিৎসক-নার্সরা রোগীর কাছে যেতে খানিকটা ভয় পেতেন। এমনকি করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিকে স্বজনেরা দেখতে পারতো না। সীমিত সংখ্যক মানুষের মাধ্যমে হয় কবর না হয় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতো’ যোগ করেন ডা. আব্দুল্লাহ।

আস্তে আস্তে বাংলাদেশ এসব কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে করোনা নিবেদিত অনেক হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। এখন ওষুধপথ্যসহ সবই সহজলভ্য। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার সুবাদে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সবাই অভিজ্ঞতা-দক্ষতা অর্জন করেছে। চিকিৎসকরা রোগী ব্যবস্থাপনাও ভালোভাবে করছেন; রোগীর কাছে যাচ্ছেন, মনোযোগ দিয়ে দেখছেন। ব্যবস্থাপনা ভালো হওয়ার কারণেই আমাদের দেশে করোনা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। সরকারের সময়োগযোগী পদক্ষেপের কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারও কমেছে।’

সারাদেশে টিকাপ্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব সফলভাবেই হচ্ছে। টিকা নিয়ে জনগণ শুরুতে ভয়-ভীতি ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন—টিকা নিবেন কি নিবেন না। সেগুলো কেটে গেছে। মানুষ এখন স্বাচ্ছন্দে টিকা নিচ্ছে।’

‘সামগ্রিক দিক বিবেচনায় বলা যায়, শুরুর দিকের সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে। আগামী দিনে মানুষ যদি সতর্কভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে’, যোগ করেন তিনি। 

জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকের মধ্যে গা-ছাড়া ও ঢিলেঢালা ভাব চলে এসেছে। এসব করলে চলবে না। অবশ্যই মাস্ক পরবে, হাতধোয়ার চর্চা চালু রাখবে, শারীরিক দূরত্ব মেনে চলবে।  

চিকিৎসকদের লব্ধ অভিজ্ঞতা পরবর্তীকে কাজে দেবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন, নতুন রোগী আসলে খুব চমৎকারভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। অভিজ্ঞতার কারণেই করোনার চিকিৎসা দ্রুত হচ্ছে। দ্রুত রোগীরা সেরেও উঠছে। এর ফলশ্রুতিতেই মৃত্যু হার কমেছে। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি