০৮ মার্চ, ২০২১ ০৯:১৯ এএম

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ, পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ, পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’—এ প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে বিশ্বনারী দিবস। বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এবারের নারী দিবসের স্লোগান ‘করোনা বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি, সমতা অর্জনে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করি’। 

দিবসটি উপলক্ষে আলাদা বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছে নারীরা। তাদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং চাকরিতেও বাড়ছে সক্রিয় অংশগ্রহণ। এমনকি সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায়ও বাড়ছে তাদের উপস্থিতি। 

অন্যদিকে তাদের অগ্রযাত্রায় রয়েছে নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ। অভিযোগ আছে, অনেক জায়গায় এখনো নারীদের কাজের উপযোগী পরিবেশ নেই। অর্থনীতিতে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি মিলছে না। ধর্ষণ এবং হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। সচেতনতা বাড়লেও নির্যাতন ও যৌতুক আদায় চলছে ভিন্ন কায়দায়। 

নারী দিবসের প্রেক্ষাপট

১৮৫৭ সালের এই দিনে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের প্রতিবাদ করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার একদল শ্রমজীবী নারী। উল্টো তাদের ওপরে দমন-পীড়ন চালায় মালিকপক্ষ। নানা ঘটনার পর ১৯০৮ সালে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম নারী সম্মেলন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি নারী দিবস হিসেবে পালন করছে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। 

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, জনসংখ্যার ৫০ শতাংশই নারীকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে নারীর অবদানও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। নারীর অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে রাষ্ট্র ও সমাজ।

নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এখনো এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয়, জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী। সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শীর্ষপদে আছেন নারীরা।

শিক্ষায় অগ্রগতি

বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি ব্যাপক শিক্ষা কার্যক্রম ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে কন্যাশিশুদের স্কুলযাত্রা অনেকখানি নিশ্চিত করা গেছে। সরকারের শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর হার প্রায় ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকেও প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ছাত্রী। তবে উচ্চশিক্ষায় এখনও ঝরে পড়ার হার বেশি। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুসারে, নারীর অর্থনৈতিক অনেক কাজের স্বীকৃতি নেই। বর্তমানে নারী যে কাজ করে, তার মাত্র চার ভাগের এক ভাগ জাতীয় আয়ে যোগ হয়। একজন নারী প্রতিদিন গড়ে ১২ দশমিক ১টি কাজ করে, যা জাতীয় আয়ে যোগ হয় না। এসব কাজের বার্ষিক মূল্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৮৭ দশমিক ১ শতাংশের সমান।

সিপিডি জানিয়েছে, ’৭০-এর দশকে যেখানে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৪ শতাংশ ছিল, এখন সেটা ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তারপরও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। 

নারীদের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে অনেক কর্মজীবী নারী ঝরে পড়বে। বিশেষত বর্তমানে পোশাক শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে নারীর অনেক বড় একটি অংশ ছিটকে পড়বে। উৎপাদিত পণ্য বিপণনে উদ্যোক্তাদের আলাদা বাজার কাঠামো দাঁড় করাতে হবে। 

সূত্রে জানা গেছে, নারী নির্যাতন রোধে গত দুই দশকে সচেতনতা বেড়েছে। আইন সংশোধন করে ২০২০ সালে ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। এতে অপরাধ কমেনি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন এনজিও সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী- ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে একই বছরের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ১২৭ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি