২১ জানুয়ারী, ২০২১ ০৬:৪৪ পিএম

ভুল চিকিৎসা নিরুপণের দ্বায়িত্ব কার?

ভুল চিকিৎসা নিরুপণের দ্বায়িত্ব কার?
ছবি: মেভিভয়েস

মুন্নাফ রশিদ: হাসপাতালের সামনের এই কোলাহল অসুস্থ কোনও রোগী কিংবা মুমূর্ষু রোগীর স্বজনদের কোলাহল। রোগ থেকে পরিত্রাণের নিকষ চিন্তা যেন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের।

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এ রোগীদের অন্যতম ভরসাস্থল স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল। যেখানে সেবা দিয়ে থাকেন ডাক্তার-নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। এমন সহজ হিসাবের মাঝেও রয়েছে ভিন্ন চিত্র। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীর স্বজনদের কাছে অসহায় হতে হয় স্বাস্থ্যকর্মীসহ এই চিকিৎসকদের। ঠুনকো কারণে আক্রমণের শিকার হন রোগীকে সুস্থ করার কাজে নিরলসভাবে নিয়োজিত এসব চিকিৎসক। কিন্তু কেন এই আক্রমণ?

রোগীর স্বাজনরা বলছেন, রোগীদেরও বোঝা উচিত, নার্সদেরও বোঝা উচিত। ভালো চিকিৎসার জন্যই তো আমরা হাসপাতালে আসি। ডাক্তাদের দ্বায়িত্ব হলো রোগী দেখা। উনাদের দ্বায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে হবে। রোগী ডাক্তার উভয়েরই সমান অধিকার।

একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক বলেন, রোগীর বাবা-মা ভাই কিন্তু কোনও ঝামেলা করে না। কিন্তু যখন অন্য কোনও পার্টি যেমন মামা, খালু বা কোনও পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্সার রোগীকে দেখতে আসে। তখন তারা নিজেদেরকে জাহির করার জন্য ঝামেলা করে। আর খারাপ রোগী বাসায় সময় নষ্ট করে খারাপ হয়েই হাসপাতালে আসে।

ভুল চিকিৎসা বা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে প্রতিনিয়তই ঘটছে চিকিৎসক নির্যাতনের ঘটনা। রোগীর স্বজনদের এমন অসহিষ্ণু আচরণে প্রশ্ন থেকেই যায়, তবে কি ভুল চিকিৎসা নিরুপণের দায়িত্ব সাধারণ জনগণের?

হাসাপাতালে আসা একজন রোগীর স্বজন বলেন, ভুল চিকিৎসা হয়েছে নাকি সঠিক হয়েছে সেটা বোঝার উপায় তো আর আমাদের নাই। এটা একমাত্র ডাক্তাররাই ভালো বলতে পারবেন।

অপর একজন বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ তো আর ডাক্তার না। তাহলে তো আমরা আর চিকিৎসা নিতে আসতাম না। কিন্তু ডাক্তারদের উচিত এ বিষয়গুলোকে সতর্কতার সাথে সমাধান করা উচিত। রোগীদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া উচিত এবং পরীক্ষা না করে কমার্সিয়ালভাবে ফলাফলে চলে যাওয়া উচিত না।

একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক বলেন, আমি তো এমবিবিএস পাশ করার পর একজন ইঞ্জিনিয়ারের ভুল ধরতে পারবো না। একজন ইঞ্জিনিয়ারের ভুল ধরতে হলে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। এত কঠিন পড়ালেখার মাধ্যমে ডাক্তারি জীবনে কোনও কিছু ভুল হলে বাইরের কেউ একজন কোনও প্রকার পড়ালেখা ছাড়াই ভুল ধরবে এটা কেমন?

কোথাও ভুল চিকিৎসা বা অবহেলা হচ্ছে না এমনটি হলফ করে বলার উপায় নেই। তাই বলে চিকিৎসকের উপর সহিংস আচরণ বা সশস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমেই কি এর সমাধান নিহিত? নাকি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের সুযোগ রয়েছে? বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল-বিএমডিসি বলছে, রোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং এর জন্য একটি স্বতন্ত্র কমিটিও আছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। যদি তারা সঠিক চিকিৎসা না পায় তাহলে বিএমডিসিতে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো একটি শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে সমাধান করা হয়।

বিএমডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে ৯৭টি অভিযোগের মধ্যে ৯ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের এমন পদ্ধতির বিষয়ে জানেন না দেশের অধিকাংশ নাগরিক। তাই অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি সহজ এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজের ভিডিও লিংটি দেখতে ক্লিক করুন

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি